মাইক্রোফোন হাতে বহুমাত্রিক ব্যস্ততায় সময়ের উপস্থাপিকা সাদিয়া রশ্নি সূচনা। দেশের বিনোদন ও করপোরেট ইভেন্ট ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম সুপরিচিত এবং আলোচিত মুখ তিনি। চমৎকার বাচনভঙ্গি, উপস্থিত বুদ্ধি এবং দারুণ ব্যক্তিত্বের কারণে টিভি পর্দা থেকে শুরু করে বড় বড় লাইভ ও করপোরেট আসরে তার চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। শুধু টিভি পর্দাই নয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট, উন্নয়ন সংস্থায় পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বিশ্বভ্রমণের নেশাÍসব মিলিয়ে এক মুহূর্ত দম ফেলার ফুসরত নেই এই উপস্থাপিকার।
সাদিয়া রশ্নি সূচনার কাজের পরিধি কেবল স্টুডিওর চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন টেলিভিশনে ‘দিন প্রতিদিন’, ‘সদাই পাতি’, ‘হিজল তমাল’ ও ‘জাগরণ’-এর মতো জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।
টিভি শো ছাড়াও লাইভ ইভেন্ট উপস্থাপনায় তিনি এক বিশ্বস্ত নাম। গত ৪ জুলাই রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ উপস্থাপনা করেন সূচনা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি অনুষ্ঠানটি সূচনার উপস্থাপনার খবর সামনে আসতেই তোপের মুখে পড়েন এই উপস্থাপিকা।
অনুষ্ঠানের পর অন্তর্জালে একাধিক পোস্টে দাবি করা হয়, সূচনা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন বিগত সময় দলটির অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন। সে সময়ের বেশকিছু ছবি এরই মধ্যে নেট দুনিয়া ছড়িয়ে গেছে।
সিআরআইয়ের সঙ্গে কাজ করার দাবি সরাসরি নাকচ করে সূচনা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি একজন ফ্রিল্যান্সার উপস্থাপিকা। সরকারের বা করপোরেট সব মাধ্যমেই কাজ করি। কারণ, এটাই আমার পেশা। আমি কোনো সংগঠন বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কখনোই যুক্ত ছিলাম না। আমি আমার কাজটি ঠিক মতো মন দিয়ে করে যেতে চাই।’
সমালোচনা নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই উপস্থাপিকা আরো বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে উপস্থাপনা করার পর থেকে আমি নানাভাবে কটাক্ষের শিকার হচ্ছি। অনেক হুমকি পাচ্ছি। একধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সরকারি একটা অনুষ্ঠান চাইলেই করা যায় না। অনেক খোঁজখবর নেওয়ার পরই বিষয়টা চূড়ান্ত করা হয় যদি সে ক্লিন ইমেজের হয়। বিগত সময় সরকারি কয়েকটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছি। তাই বলে আমি সেই দলের কর্মী তা কিন্তু নয়। সূচনা সবার। যেহেতু আমি ফ্রিল্যান্সার তাই সব সরকারের কাজ পেলে করতে হবে। যারা আমাকে নিয়ে কটাক্ষ করছেন তাদের অনুরোধ করব আমাকে অযথা ট্যাগ লাগিয়ে দিবেন না।’
ঢাকার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল এবং সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি উন্মোচনের মতো বড় বড় হাই-প্রোফাইল ইভেন্টগুলোতে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মাইক্রোফোন সামলেছেন সূচনা। সম্প্রতি ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন’-এর মতো একটি মেগা প্রোগ্রামের মূল মঞ্চ সফলভাবে পরিচালনা করে নিজের উপস্থিত বুদ্ধির অনন্য প্রমাণ দিয়েছেন। এরপর থেকেই কটাক্ষ, হুমকি ও পূর্ব নির্ধারিত কাজগুলো হারানোর আশঙ্কা করছেন সূচনা।
পেশাদার উপস্থাপনার পাশাপাশি সূচনা করপোরেট সেক্টর ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোতে সমানভাবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন। বাংলা-ইংরেজির সাথে সাথে চীনা ভাষায় পারদর্শী তিনি। ছাত্রজীবনে অসংখ্য জাতীয় পুরস্কার এবং বাংলাদেশের পতাকাবাহী হয়ে বিদেশের মাটিতে দেশকে তুলে ধরেছেন বলে জানান সূচনা। বর্তমানে এই উপস্থাপিকা দ্বিতীয়বারের মতো মাস্টার্স-এর জন্য ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করছেন।
এত সব কাজের ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য ঠিকই সময় বের করে নেন সূচনা। তিনি নিজেকে একজন কট্টর ভ্রমণপ্রেমী হিসেবে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। নতুন নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়া, পাহাড়ে ট্র্যাকিং করা কিংবা অ্যাডভেঞ্চারের খোঁজে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলা তার অন্যতম শখ। ভ্রমণ তার কাজের ক্লান্তি দূর করে নতুন শক্তি জোগায় বলে তিনি মনে করেন।
কাজের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক তকমা বা বিতর্ক পছন্দ করেন না সূচনা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমি একজন পেশাদার উপস্থাপক। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই, কাজই আমার আসল পরিচয়।’
তারুণ্যের উদ্দীপনা আর মেধার মেলবন্ধনে সাদিয়া রশ্নি সূচনা প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছেন। স্বপ্ন দেখছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপস্থাপনার।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন