শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, শিক্ষা খাত আজ বিশ্বব্যাপী একটি বৃহৎ বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে এবং মেধার যথাযথ বিকাশও অনেক ক্ষেত্রে বাণিজ্যিকীকরণের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই জাতীয় পর্যায়ে একটি শুদ্ধ, মানবিক ও মানসম্মত শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে।
গতকাল শনিবার সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ মিলনায়তনে আয়োজিত গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে এলেও বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশমুখী হচ্ছে। এই প্রবণতা কমাতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা এবং কারিগরি শিক্ষার আরও প্রসার ঘটাতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে সরকার যে ব্যয় বহন করে, তা অনেক শিক্ষার্থী উপলব্ধি করে না। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেরাই শিক্ষার ব্যয় বহন করে। তাই সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে হবে।
চলমান বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে স্থগিত হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা শুরু হলেও দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির জন্য প্রতিটি বিষয়ে বিকল্প আরও তিন সেট প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফলে স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলো পরবর্তীতে এই বিকল্প প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।’
একসময় আমলারা খিচুড়ি রান্না, কচুরিপানা পরিষ্কার করার প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে যেতেন মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘সেই দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন সরকার শিক্ষাব্যবস্থায় স্পোর্টস কালচার, ফ্যামিলি ভ্যালুস, ডিবেট, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেসের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।’
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আর বক্তব্য দেন বিশেষ অতিথি ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু এবং ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. তমিজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালের ১৪ জুলাইয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। গরিব, মধ্যবিত্ত, নি¤œ-মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন