× UCB Sticker Card
শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৫:৫২ এএম

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ছক

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ১৮, ২০২৬, ০৫:৫২ এএম

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ছক

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি একটি চক্র শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে নামা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উসকানি দিয়েছে, ছক করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে চলমান এই আন্দোলন। পরিকল্পনা হয়েছে দেশের বাইরে থেকে, বাস্তবায়ন করা হচ্ছে দেশে বসে। দুটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধনও রয়েছে এমন তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। এর বাইওে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরা আন্দোলনকে বেগবান করতে অনলাইন-অফলাইনে অপপ্রচার, মিথ্যা ও গুজবে অংশ নিয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে।

আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছেন সরকারের একাধিক মন্ত্রী। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও এমন ইঙ্গিত দিয়েছে সরকারকে। গোয়েন্দারা প্রাথমিক তদন্তের সূত্র ধরে মনে করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কোনো সংগঠনের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। আন্দোলনকে পুঁজি করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে কেউ অস্থীতিশীল করতে না পারে সেজন্য গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করছে।

আন্দোলনের নামে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকে দিচ্ছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কারা এ আন্দোলনকে পুঁজি করে ফায়দা নিতে চায়, তার উৎস খুঁজতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আন্দোলনে শিক্ষার্থী নামধারী কয়েকটি নির্দিষ্ট মুখ সহিংসতায় অংশ নিচ্ছে, এদের কেউ কেউ চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থী নয়। মিডিয়ার সামনে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি বা উগ্র বক্তব্য দিয়ে পুরো আন্দোলনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছে।

এদিকে, দাবি মেনে নেওয়ার পরও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে নামা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইন্ধন বা উসকানি ছিল কি না তার তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম। যদিও আন্দোলনের শুরু থেকেই সাধারণ মানুষ দাবি করে এসেছেন, সরকার দাবি মেনে নেওয়ার পরও অযৌক্তিকভাবে রাজপথ দখল করে হয়রানি করছে কিছু শিক্ষার্থী ও বহিরাগতরা।

গতকাল শুক্রবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পরীক্ষা পেছানোর দাবি করে কিছু শিক্ষার্থীর আন্দোলনের পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় সংসদে গত বুধবার শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বৈরী আবহাওয়ার কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ এবং পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপরও কেন শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে আন্দোলন করল এবং এ আন্দোলনের পেছনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাব বা উসকানি ছিল কি না, তা ব্যাপকভাবে তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন নিয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা আন্দোলন করছে, তাদের মধ্যে অনেকে পরীক্ষার্থী নয়। পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। যারা পরীক্ষার্থী, তারা সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট। সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে গত সোমবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সামনে রেখে কেউ কেউ ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকারকে বিব্রত করতে একটি মহল যে রয়েছে, তা দৃশ্যমান। তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে শিক্ষার্থীদের সামনে রেখে এই আন্দোলন করছে।

তিনি বলেন, পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পরও শিক্ষার্থীদের লংমার্চ কর্মসূচি পালন করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পেছনে কারা প্রভাব বিস্তার করেছে, কারা তাদের উসকানি জুগিয়েছে, সেসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার পরপরই কিছু শিক্ষার্থীকে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা গেছে। একই ধরনের ঘটনা চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ক্ষেত্রেও ঘটছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে কেউ কেউ সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীকে হেয় করে বক্তব্য দিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করে মনে হচ্ছে, আগে থেকেই কিছু শিক্ষার্থীকে কী বলতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফেসবুক লাইভে এসে একই ধরনের বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাগুলো আমাদের নজরে এসেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে সরকার অবশ্যই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী প্রয়োজনীয় ঘোষণা দিয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে জানান, শুরু থেকেই আন্দোলন নিয়ে নানান প্রশ্ন সামনে এসেছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ভয়াবহ বন্যার কারণে পরীক্ষা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। এর বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে সামান্য ত্রুটি থাকলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী সংসদে তার বক্তব্যর জন্য দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছে। তবু গুটিকয়েক শিক্ষার্থী বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকার রাজপথ দখল করে আন্দোলন অব্যাহত রেখে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে। আন্দোলনে কারা উসকানি এবং ইন্ধন দিচ্ছে তা খুঁজতে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে। চলছে নানামুখী অনুসন্ধান ও তদন্ত। ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশের নানা লোকজনের সম্পৃক্ততার আভাস মিলেছে। আন্দোলন চলাকালীন বিভিন্ন স্পট থেকে যেসব ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়েছে সেগুলোর প্রযুক্তিগত চুলচেরা বিশ্লেষণের কাজও এগিয়ে চলছে। সচিবালয় বা সরকারি ভবনের সামনে চলমান বিক্ষোভে ঘটা কিছু ঘটনা অস্বাভাবিক মনে করা হচ্ছে। ভিডিও চিত্র বিশ্লেষণ করে সূত্রটি বলছে, ৫ থেকে ৭টি নির্দিষ্ট মুখকে অত্যন্ত বেপরোয়া ও উসকানিমূলক ভূমিকায় দেখা গেছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আড়ালে থাকা এই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এদিকে ‘১২ কোটি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব নিয়েছি’ বলা ভাইরাল ছাত্রী মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নয়। অথচ রহস্যজনক কারণে সে এই কলেজের পরীক্ষার্থী দাবি করে প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে তুরাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে। আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর পারিবারিক ও রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্দোলন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব অপপ্রচার ও গুজব ছড়ানো হয়েছে সেগুলো নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ইউনিট।

কয়েকজন শিক্ষার্থী নতুন দুই দাবি জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে গত বৃহস্পতিবার আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও রাজপথে শিক্ষার্থীদের তেমন সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়নি। তবে এদিন দুপুরে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়ে সংবাদ সম্মেলনে করে কয়েকজন শিক্ষার্থী। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ এবং প্রশ্নপত্রে ভুলের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হকের পদত্যাগের দাবি বহাল রেখে নতুন করে আরও দুটি দাবি জানায়। বিকেলে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে ‘এইচএসসি ২৬ ব্যাচ’র ব্যানারে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থী রায়াত আহমেদ। শিক্ষার্থীদের নতুন দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ সৃজনশীল (সিকিউ) ও বহু নির্বাচনি (এমসিকিউ) অংশে আলাদাভাবে পাসের বর্তমান নিয়ম বাতিল করে দুই অংশের নম্বর একত্রে বিবেচনা করে পাসের ব্যবস্থা করা এবং অনিবার্য কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি তাদের জন্য বিশেষ বা বিকল্প পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। এ ছাড়া পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নে ভুলের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সিদ্ধান্তের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাও দাবি করে শিক্ষার্থীরা। তাদের প্রশ্ন, পূর্ণ নম্বর কেবল ভুল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া পরীক্ষার্থীরা পাবেন, নাকি সব পরীক্ষার্থী পাবেনÑ এ বিষয়ে পরিষ্কার সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।

গত মঙ্গলবার বিভিন্ন কলেজের ছাত্রছাত্রীরা রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করে। এরপর তারা শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এলাকায় অবস্থান শেষে বিকেলে সংসদ ভবনের সামনের এলাকায় জড়ো হয়। সেখানে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাড়িয়ে দিলেও আবারও সন্ধ্যার পর অবস্থান নেয়। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে রাত ১০টায় ‘লংমার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি ঘোষণা করে তারা এলাকা ত্যাগ করে। বন্যার কারণে চট্টগ্রামের সব বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখার দিন বুধবার সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত অন্যান্য বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গত বুধবার বেলা দেড়টা থেকে আন্দোলনকারীরা সায়েন্স ল্যাব মোড়, ইসিবি চত্বর ও উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সামনে জড়ো হয়। সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবস্থান নেওয়া পরীক্ষার্থীরা নীলক্ষেত হয়ে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ শুরু করে শিক্ষা ভবনের সামনে পুলিশ বাধার মুখে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা শিক্ষা ভবন এলাকা ছেড়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) নিয়াজ মেহেদী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সরকার দাবি মেনে নেওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের অযৌক্তিক আন্দোলনের নামে রাজপথ বন্ধ করে নগরবাসীকে হয়রানি করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। কোনো অপশক্তি রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিএমপির রমনা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) শেখ জাহিদুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সচিবালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। প্রধানমন্ত্রী এখানে অফিস করেন। এখানকার কোনো বিষয় আমরা ছোট করে দেখি না। যার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টিপাত থেকে জলাবদ্ধতার কারণে দেশের বেশকিছু এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বন্যার পানি। ফলে কিছু এলাকায় চরম বিপাকে পড়েন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তাদের বৃষ্টিতে ভিজে এবং কোথাও হাঁটুপানি ভেঙে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তবে এর সঙ্গে আগুনে ঘি ঢালার মতো যুক্ত হয়, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ব্যক্তিগত ফোনালাপের কয়েকটি বক্তব্য। যা ছিল অনেকটা এরকমÑ এখনকার ছেলেমেয়েরা ফার্মের মুরগি... একটু ভিজলে জ্বর চলে আসে। এরপর এর প্রতিবাদে রাজধানীসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। ‘কলেজ নেটওয়ার্ক গ্রুপ’ থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন মঙ্গলবার রাজপথে গড়ায়। রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, উত্তরা, বাড্ডা এবং ঢাকার বাইরে কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ফরিদপুরে পরীক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। ১৪ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগানও দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতে শিক্ষার্থীরা ১৫ জুলাইয়ে জন্য ‘মার্চ টু শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ কর্মসূচির ডাক দেয়। তাদের আন্দোলনের মুখেও চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া দেশের বাকি ৫৯টি জেলায় ১৫ জুলাইয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!