× UCB Sticker Card
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:২২ এএম

আকাশ থেকে আত্মবিশ্বাসের আঙ্গিনায়

রূপালী ডেস্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:২২ এএম

আকাশ থেকে আত্মবিশ্বাসের আঙ্গিনায়

মানুষের জীবনে কিছু যাত্রা থাকে, যা কেবল পেশা বদলের গল্প নয়, বরং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের অধ্যায়। সেই যাত্রায় ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, আর নিজের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে যায় অসংখ্য মানুষের ভবিষ্যৎ। ফাল্গুনী নাজ নীন টিনার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্পও ঠিক তেমনই এক অনুপ্রেরণার উপাখ্যান।

আকাশপথে বিমানবালা হিসেবে কর্মজীবনের সূচনা। প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মেলামেশা, দেশের সীমানা পেরিয়ে ভিন্ন সংস্কৃতি ও জীবনের গল্প দেখা, এসব অভিজ্ঞতা তার চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করেছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে সমাজের সেই নারীদের বাস্তবতা, যারা মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সামাজিক, পারিবারিক কিংবা অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতায় নিজেদের স্বপ্নকে পূর্ণতা দিতে পারেন না। সেই অঙ্গীকার থেকেই উদ্যোক্তার পথচলা। প্রতিষ্ঠা করেন ফেভট্যাক্স যেখানে ব্যবসার লক্ষ্য শুধু পোশাক বিক্রি নয়, বরং দেশীয় ঐতিহ্যকে আধুনিকতার সঙ্গে যুক্ত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা এবং নারীদের আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা। এই দীর্ঘ পথচলায় এসেছে নানা চ্যালেঞ্জ, নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, উৎপাদনব্যবস্থার জটিলতা, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব, সবকিছুর মধ্য দিয়েই তিনি এগিয়ে নিয়েছেন নিজের স্বপ্নকে। উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গল্প, নেতৃত্বের দর্শন, ব্যাবসায়িক কৌশল, নারী হিসেবে পথচলার অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে রূপালী বাংলাদেশ-এর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেছেন ফেভট্যাক্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ফাল্গুনী নাজনীন টিনা

আপনার উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পেছনের গল্পটি কী?

আমার কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল একজন বিমানবালা হিসেবে। এই পেশায় কাজ করার সময় সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মিশেছি এবং খুব কাছ থেকে দেখেছি, বিশেষ করে অনেক নারী কীভাবে নানা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক প্রতিবন্ধকতার কারণে পিছিয়ে পড়ছেন। তাদের সংগ্রাম আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।

সেই সময় থেকেই আমার মনে একটি স্বপ্ন জন্ম নেয় শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তোলা নয়, বরং নারীদের ক্ষমতায়ন ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে কাজ করা। সেই লক্ষ্য থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমি বিশ্বাস করি, একজন উদ্যোক্তা শুধু ব্যবসা পরিচালনা করেন না; তিনি মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করেন, আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলেন এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি করেন। আমার এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্যও সেটিই।

আপনার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের দিনগুলো কেমন ছিল?

আমার ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল বিমানবালা হিসেবে। কাজের অভিজ্ঞতা আমাকে শুধু পেশাগতভাবে সমৃদ্ধ করেনি, বরং সমাজের বাস্তব চিত্রও দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। কর্মজীবনের শুরুতেই উপলব্ধি করি, অনেক নারী নানা সামাজিক ও পারিবারিক বাধার কারণে তাদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেন না। এই বাস্তবতা আমাকে গভীরভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।

আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা কে বা কী ছিল?

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আমার পরিবার। ছোটবেলা থেকেই পরিবার আমাকে সততা, পরিশ্রম, মানবিকতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছে। তাদের অবিচল সমর্থন ও বিশ্বাসই আমাকে প্রতিটি কঠিন সময়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছে।

এছাড়াও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আমার জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। তার নেতৃত্ব, দূরদর্শী চিন্তাভাবনা, সমাজসেবামূলক কর্মকা- এবং মানুষের কল্যাণে নিরলস কাজ আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। তার কাছ থেকে আমি শিখেছি, একজন মানুষের প্রকৃত সফলতা শুধু নিজের অর্জনে নয়, বরং সমাজের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারার মধ্যেই নিহিত।

বাজারে টিকে থাকতে আপনারা কী ধরনের বিশেষ কৌশল ব্যবহার করছেন?

আমাদের প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি হলো কমিটমেন্ট, সততা এবং গ্রাহকের আস্থা। আমরা সবসময় মানসম্মত পোশাক সরবরাহে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং প্রতিটি গ্রাহককে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।

পোশাকের ক্ষেত্রে আমরা ঐতিহ্যবাহী ডিজাইনের সৌন্দর্য ধরে রাখার পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ফিউশন ডিজাইনও উপস্থাপন করছি। দেশীয় ঐতিহ্য, উন্নত মান, নান্দনিকতা এবং সাশ্রয়ী মূল্যের সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা বাজারে আলাদা অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছি। আমাদের বিশ্বাস, গ্রাহকের সন্তুষ্টি ও বিশ্বাসই দীর্ঘমেয়াদে সফলতার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

একজন লিডার বা নেতা হিসেবে আপনার ম্যানেজমেন্ট স্টাইল কেমন?

আমি সবসময় আমার প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সদস্যকে পরিবারের অংশ হিসেবে দেখি। সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করি এবং পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করি। পাশাপাশি, প্রত্যেকের দক্ষতা ও সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করাকেই আমি একজন নেতা হিসেবে আমার অন্যতম দায়িত্ব মনে করি।

ব্যবসা শুরুর সময়ে আপনাকে কী কী প্রধান প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল?

ব্যবসার শুরুতে আমাকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। নারী উদ্যোক্তা হিসেবে রাতের বেলা কাজ ও বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা সহজ ছিল না। পোশাক উৎপাদনের ক্ষেত্রে অনেক সময় কারখানার কমিটমেন্ট ঠিকভাবে রক্ষা না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ত।

এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক ওঠানামা, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ব্যাংকিং খাতের সীমাবদ্ধতাও ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলেছে। তবে এসব চ্যালেঞ্জকে বাধা না ভেবে ধৈর্য, পরিকল্পনা এবং প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করেছি। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি প্রতিবন্ধকতাই নতুন কিছু শেখার এবং আরও শক্তভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করে।

নারী উদ্যোক্তা হিসেবে কোনো আলাদা চ্যালেঞ্জ বা সামাজিক বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কি?

হ্যাঁ, নারী উদ্যোক্তা হিসেবে অনেক সময় সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন এবং কাজের সক্ষমতা প্রমাণ করার অতিরিক্ত চাপের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, দক্ষতা, সততা এবং ধারাবাহিক কাজের মাধ্যমে এসব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। আজকের দিনে নারীরা শুধু সফল উদ্যোক্তাই নন, তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!