× UCB Sticker Card
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মোজাম্মেল হক আলম, লাকসাম (কুমিল্লা)

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:৪৯ এএম

লাকসাম পৌরসভা

কাগজে ‘ক’ শ্রেণি, সেবায় শূন্য

মোজাম্মেল হক আলম, লাকসাম (কুমিল্লা)

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৩:৪৯ এএম

কাগজে ‘ক’ শ্রেণি, সেবায় শূন্য

সরকার আসে, সরকার যায় আর ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টায়; কিন্তু কিছু অঞ্চলের ভাগ্যলিপি যেন একই জায়গায় স্থবির হয়ে থাকে। এর অন্যতম বড় বাস্তব উদাহরণ কুমিল্লার লাকসাম পৌরসভা। খাতা-কলমে এটি একটি ‘প্রথম শ্রেণি’র (‘ক’ শ্রেণি) পৌরসভা হলেও বাস্তবে এখানকার বাসিন্দারা প্রথম শ্রেণির নাগরিক সুবিধা থেকে চরমভাবে বঞ্চিত। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলেও রাস্তাঘাট ও ড্রেন সংস্কারের মতো রুটিন কাজের বাইরে আধুনিক পৌরসভা গঠনে দৃশ্যমান কোনো টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তীব্র অভিযোগ স্থানীয়দের।

জানা যায়, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত কুমিল্লার অন্যতম প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক কেন্দ্র আয়তন ও জনসংখ্যায় বহুগুণ বাড়লেও কাক্সিক্ষত নাগরিক সুবিধা মেলেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও শহর পরিকল্পনাবিদদের মতে, একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত পৌরসভা হিসেবে লাকসামকে গড়ে তোলার জন্য যে দূরদর্শী উদ্যোগের প্রয়োজন ছিল, তা বরাবরই উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সুপেয় পানির তীব্র অভাব। অধিকাংশ এলাকায় এখনো কোনো আধুনিক ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা নিরবচ্ছিন্ন পাইপলাইনের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে বাসিন্দাদের বাধ্য হয়ে ভূগর্ভস্থ আয়রন ও আর্সেনিকযুক্ত পানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এছাড়া কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণ করা হলেও সঠিক মাস্টারপ্ল্যানের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই লাকসাম বাজারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সুনির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন বা বৈজ্ঞানিক রিসাইক্লিং ব্যবস্থা না থাকায় যত্রতত্র ফেলা বর্জ্য জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েক বছর আগে একটি ডাম্পিং স্টেশনের কাজ হাতে নেওয়া হলেও তা আজও আলোর মুখ দেখেনি।

একটি প্রথম শ্রেণির আধুনিক পৌরসভায় যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থাকা আবশ্যক, তার অধিকাংশই লাকসামে অনুপস্থিত। এখানে নেই কোনো জাতীয় ঈদগাহ, পরিচ্ছন্ন পৌর কবরস্থান, বিনোদন পার্ক, খোলা খেলার মাঠ, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষায়িত স্কুল, শহরের অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার হাইড্রেন্ট ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক একাডেমি ও সুইমিং পুল। অন্যদিকে, লাকসাম জংশন ও দৌলতগঞ্জ বাজার এলাকায় তীব্র যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। সুনির্দিষ্ট বাস টার্মিনাল বা পার্কিং জোন না থাকা, অবৈধ ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত ঐতিহাসিক রেল জংশনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই প্রাচীন বাণিজ্যিক শহরটির সম্ভাবনা ছিল অপার। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের লক্ষাধিক মানুষের এই জনপদে বহুতল ভবন গড়ে উঠলেও একটি সচল, সুস্থ ও পরিবেশবান্ধব নগরের পরিবেশ তৈরি হয়নি। স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের মতে, জনপ্রতিনিধিরা কেবল পাঁচ বছরের নির্বাচনি মেয়াদ মাথায় রেখে তাৎক্ষণিক কিছু সংস্কারকাজ করেন। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা (মাস্টারপ্ল্যান) না থাকায় স্মার্ট পৌরসভার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে লাকসাম।

পৌরসভার বাসিন্দা জামাল আহমেদ বলেন, ‘কেবল রাস্তাঘাট সংস্কার একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভার একমাত্র পরিচয় হতে পারে না। লাকসামকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট ও মানবিক শহরে রূপান্তর করতে হলে দলমত-নির্বিশেষে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। সুপেয় পানি, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন ও সবুজায়ন এখন সময়ের দাবি।

লাকসাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি জাফর আহমেদ বলেন, প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে নাগরিকদের ওপর সর্বোচ্চ হারে হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ফি আদায় করা হলেও সে অনুপাতে উন্নত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত হয়নি। পরিকল্পনাহীন বর্জ্য অপসারণ ও খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট নিয়ে নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত না হলে সেই স্বীকৃতির বাস্তবিক কোনো মূল্য থাকে না।

এ বিষয়ে ইউএনও ও পৌরসভার প্রশাসক নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘স্মার্ট ও আধুনিক পৌরসভা’ বাস্তবায়নের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং নীতির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করবেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা।

 

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!