বর্তমান বিশ্ব ক্রমেই একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হচ্ছে। প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা ও যোগাযোগÑসব ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক যোগাযোগের পরিসর বেড়েছে বহুগুণ। এই বৈশ্বিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ইংরেজি ভাষা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। শুধু লিখিত ইংরেজি নয়, পেশাজীবনে স্পোকেন ইংলিশ বা কথ্য ইংরেজির দক্ষতা এখন একটি অপরিহার্য যোগ্যতা। চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে উন্নতি, সবখানেই স্পোকেন ইংলিশ একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। চলুন যেনে নেওয়া যাক ক্যারিয়ারে স্পোকেন ইংলিশের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো।
চাকরির বাজার
আজকের চাকরির বাজারে স্পোকেন ইংলিশ দক্ষতা অনেক সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি, করপোরেট অফিস, আইটি সেক্টর, ব্যাংকিং, এভিয়েশন কিংবা পর্যটন শিল্পসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই কর্মীদের ইংরেজিতে কথা বলার সক্ষমতা প্রত্যাশিত। চাকরির ইন্টারভিউতেই এর বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়। একজন প্রার্থী বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় দক্ষ হলেও যদি নিজেকে স্পষ্ট ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ইংরেজিতে প্রকাশ করতে না পারেন, তবে তিনি অনেক সময় পিছিয়ে পড়েন। স্পোকেন ইংলিশ আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। কর্মক্ষেত্রে মিটিং, প্রেজেন্টেশন, ক্লায়েন্ট কল কিংবা বিদেশি সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় সাবলীল ইংরেজি একজন পেশাজীবীকে আলাদা করে তুলে ধরে। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ সম্ভব হয় এবং নেতৃত্বের গুণাবলি প্রকাশ পায়। অনেক ক্ষেত্রেই পদোন্নতি বা বিদেশে কাজের সুযোগ নির্ভর করে এই যোগাযোগ দক্ষতার ওপর। ফলে ক্যারিয়ার গঠনে স্পোকেন ইংলিশ এক ধরনের সিঁড়ি হিসেবে কাজ করে।
যোগাযোগ ও পেশাগত দক্ষতা
পেশাজীবনে শুধু কাজ জানলেই যথেষ্ট নয়, সেই কাজটি সঠিকভাবে বোঝানো এবং অন্যের কাছ থেকে নির্দেশনা বুঝে নেওয়াও সমান জরুরি। স্পোকেন ইংলিশ কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করে, বিশেষ করে যখন কর্মক্ষেত্র বহুভাষিক বা আন্তর্জাতিক হয়। বিভিন্ন দেশের সহকর্মী, ক্লায়েন্ট বা পার্টনারদের সঙ্গে কাজ করতে গেলে একটি সাধারণ ভাষার প্রয়োজন হয়, আর সেই ভাষাটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইংরেজি। কথ্য ইংরেজিতে দক্ষ হলে ভুল বোঝাবুঝি কমে, কাজের গতি বাড়ে এবং পেশাগত সম্পর্ক আরও দৃঢ হয়। ই-মেইল বা রিপোর্ট লেখার পাশাপাশি সরাসরি আলোচনায় নিজের মতামত তুলে ধরতে পারা একজন কর্মীকে আরও কার্যকর করে তোলে। তা ছাড়া ট্রেনিং সেশন, ওয়ার্কশপ বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও স্পোকেন ইংলিশ অপরিহার্য। এসব জায়গায় প্রশ্ন করা, অভিজ্ঞতা বিনিময় করা কিংবা নেটওয়ার্কিং করার জন্য কথ্য ইংরেজির বিকল্প নেই।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন