নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীর জমিতে নির্মাণকাজে বাধা, সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মাসুম মিয়া জানান, উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের লক্ষ্যা-শিমুলিয়া মৌজায় ২০০৮ সালে বৈধ দলিলের মাধ্যমে তিনি ৯ শতাংশ জমি কেনেন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে জমির সীমানা নির্ধারণ করে সীমানা প্রাচীর ও পিলার নির্মাণ করা হয় এবং দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি জমিটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। গত ২২ জুলাই বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে তিনি জমিতে বালু ভরাটের কাজ শুরু করলে রয়েল পার্টিকেল মিলের এমডি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইসার নির্দেশে ২০-২২ জনের একটি দল সেখানে এসে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেয়। এ সময় তারা জমিটি নিজেদের দাবি করে মাসুমের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ওই রাতেই সংঘবদ্ধ হয়ে জমিতে প্রবেশ করে সীমানা প্রাচীর ও পিলার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং সেখানে ‘আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ ইসা’ নামের একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে জমি দখলের পাঁয়তারা চালায়। ভুক্তভোগীর ভাই আলী হোসেন জানান, একই জমি-সংক্রান্ত পূর্বের একটি মামলা আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তারা তদন্ত করেছিলেন। পরে প্রতিপক্ষ মামলা প্রত্যাহার করে নিলে আদালতের আদেশেই তারা নতুন করে নির্মাণকাজ শুরু করেন। কিন্তু এরপরেও প্রতিপক্ষ কাজে বাধা প্রদান, চাঁদা দাবি এবং অনবরত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন