নতুন সরকারের আমলে প্রচ- আশাবাদী হয়েছিলেন পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। পুঁজিবাজারে জ¦লে ওঠা সেই আশার আলো নিভতে শুরু করেছে। ঢাকার শেয়ারবাজারে শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ডের সর্বোচ্চ লেনদেন গতকাল রোববার ৮০০ কোটির নিচে নেমেছে। তবে এই লেনদেন কমে যাওয়াকে বিনিয়োগকারীদের অনেকে বাজারে মূল্য সংশোধন বলে দাবি করেছেন।
ঢাকার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন গতকাল ৭৮০ কোটি ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে ৫ কোটি ৫ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। একই সঙ্গে ডিএসইতে শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। এর মাধ্যমে টানা তিন কার্যদিবস পতনের মধ্যে পড়েছে শেয়ারবাজার।
ডিএসইর ওয়েবসাইটে গতকাল দেখা গেছে, ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৭৮৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৮৬ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সিএসইর ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৪১ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৩৪টির এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২০ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
ডিএসইতে মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। গতকাল রোববার লেনদেন হয়েছে ৭৮০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৩৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৫৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১৬টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দাম কমেছে ২৪০টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে ৩টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২৭টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৯টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২৭টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১৯টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৪টির এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৮টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৯টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে সামিট এলায়েন্স পোর্টের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এমএল ডাইংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৪৯ লাখ টাকার। ১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আইটি কনসালটেন্টস।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑ আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ড্রাগন সোয়েটার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, লাভেলো আইসক্রিম, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, মালেক স্পিনিং এবং টেকনো ড্রাগস।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন