যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দে একটি বিশেষ সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। গত শনিবার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এ ধরনের অভিযান বাস্তবায়িত হলে তা হতে পারে ‘সামরিক ইতিহাসের সবচেয়ে জটিল ও পরিশীলিত অভিযান’।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) উপপরিচালক জোসেফ রজার্স বলেন, আলোচনায় দ্রুত কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় ইরানের বর্তমান পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে দেওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য উপায় হতে পারে সামরিক অভিযান।
সামরিক পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অভিযানে হাজারো স্থলসেনা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশ করবে। তাদের বিস্ফোরক ফাঁদ এড়িয়ে এগোতে হবে, নির্মাণকর্মীদের সহায়তায় ধ্বংসস্তূপ সরাতে হবে এবং স্থাপনাগুলোর চারপাশে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে হবে। এরপর বিশেষ বাহিনীর একটি ছোট দল সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করবে।
রজার্সের মতে, এ অভিযান হবে ব্যাপক লজিস্টিক-নির্ভর এবং অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে সংগঠিত ও সক্ষম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযানে সিল টিম-৬-এর সিলভার স্কোয়াড্রন, দ্বিতীয় রেঞ্জার ব্যাটালিয়ন এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর ২১তম অর্ডন্যান্স কোম্পানি অংশ নিতে পারে। ২১তম অর্ডন্যান্স কোম্পানির দায়িত্ব হবে ফোরদো ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনা থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ২০২৫ সালে জানিয়েছিল, ইরানের কাছে ২০ হাজার পাউন্ডের বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। রজার্স বলেন, অভিযানে অংশ নেওয়া বাহিনীকে প্রথমে সব স্থাপনার চারপাশে নিরাপদ পরিধি তৈরি এবং সেখান থেকে বিমানঘাঁটি পর্যন্ত নিরাপদ রসদ ও পরিবহনপথ নিশ্চিত করতে হবে। একই সময়ে ধ্বংস হওয়া প্রবেশপথ খনন করে উন্মুক্ত এবং ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের সময় হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলে ইরানের গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোকাবিলা-সংক্রান্ত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রিচার্ড গোল্ডবার্গ বলেন, পুরো অভিযানের জন্য আকাশপথের একটি নিরাপদ করিডরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে বাহিনী নিরাপদ স্থানে ফিরতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইসফাহান স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার, বিস্ফোরক ফাঁদ পেতে রাখা এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে। ফলে আকস্মিক অভিযানের সুযোগ এখন আর নেই। লক্ষ্যবস্তুগুলো নির্দিষ্ট এবং উভয় পক্ষই সেগুলোর অবস্থান সম্পর্কে অবগত।
নিউ ইয়র্ক পোস্ট জানায়, গত মাসে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিলÑ সম্ভাব্য অভিযানের আশঙ্কায় ইরান ইসফাহান স্থাপনার সুড়ঙ্গে মাইন ও বিস্ফোরক পেতে রেখেছে।
এদিকে নাতাঞ্জের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নতুন সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উঠে এসেছে। গত এক মাসে ইরান সেখানে শত শত পারমাণবিক সেন্ট্রিফিউজ স্থানান্তর করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গোল্ডবার্গ বলেন, সেখানে কতগুলো সেন্ট্রিফিউজ রয়েছে, তা জানা নেই। তবে যদি বিশেষ অভিযান চালানো হয়, তাহলে উদ্দেশ্য হতে পারে স্থাপনাটি ভেতর থেকে ধ্বংস করা, কারণ শুধু বিমান হামলায় সেটি ধ্বংস করা সম্ভব না-ও হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে অভিযান চালানো হলে তা ভেনেজুয়েলার সাবেক শাসক নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের অভিযানের মতো হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিশেষ বাহিনী গোপনে প্রবেশ করে বিস্ফোরক স্থাপন এবং দ্রুত এলাকা ত্যাগ করবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন