শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


শাহাদাৎ হোসেন, তালতলী (বরগুনা)

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৭:২২ এএম

সবুজে মোড়া সাগরের বুকে লুকানো স্বর্গ

শাহাদাৎ হোসেন, তালতলী (বরগুনা)

প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৭:২২ এএম

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিদ্রার চর সমুদ্রসৈকত। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিদ্রার চর সমুদ্রসৈকত। ছবি- রূপালী বাংলাদেশ

বরগুনার তালতলী উপজেলার নিদ্রার চর সমুদ্রসৈকত, যা স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ডিসি পয়েন্ট নামে। এখানে যারা ঘুরতে আসেন, তাদের কাছে স্থানটি যেন প্রকৃতির বুকে এক অনন্য সৌন্দর্যের ঠিকানা। কেবল বালুকাবেলাই নয়, এখানে আছে সবুজের বিছানা, নদী-সাগরের মিলন আর জীববৈচিত্র্য, যা পর্যটকদের চোখ ও মন দুটোকেই মুগ্ধ করে।

একদিকে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি, অন্যদিকে নদীর মোহনা। মাঝখানে নরম ঘাসে মোড়া বিস্তৃত প্রান্তর, কেওড়াগাছের শ্বাসমূল, আঁকাবাঁকা ছোট ছোট নালা আর লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ- সব মিলিয়ে নিদ্রার চর যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস। বিকেলের শেষ আলোয় সবুজ ঘাসে বসে ঢেউয়ের ছোঁয়া কিংবা দিগন্তরেখায় সূর্যাস্ত উপভোগ করার অনুভূতি ভ্রমণপিপাসুদের দেয় ভিন্ন এক অনুভূতি। 

নিদ্রার চরের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য পর্যটন সম্ভাবনাকে বাড়িয়েছে বহুগুণ। উত্তরে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে শুভসন্ধ্যা সৈকত, বরগুনার তিন নদীর মোহনায় প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ বেলাভূমি। দক্ষিণে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন টেংরাগিরি (ফাতরার বন) ও সোনাকাটা ইকোপার্ক। কাছেই রয়েছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ১৩টি পল্লি, যেখানে পর্যটকেরা পাবেন রাখাইন সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার স্বাদ।

২০১০ সালে সাজানো সোনাকাটা ইকোপার্ক এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য শান্ত, নির্জন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এক আশ্রয়স্থল। অন্যদিকে, তালতলীর কবিরাজপাড়া, তাঁতিপাড়া বা মনুখাপাড়া রাখাইন গ্রামগুলোয় গেলে তাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা পর্যটকদের ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয়।

স্থানীয় উদ্যোক্তা আরিফ রহমান মনে করেন, ‘নিদ্রার চর সহজেই পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সক্ষম। সঠিক পরিকল্পনায় অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারলে এটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে।’

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান খান জানান, ‘নিদ্রার চর ঘিরে পর্যটনশিল্প বিকাশে নানা পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে।’

ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে বা নিজস্ব গাড়িতে তালতলী উপজেলা হয়ে নিদ্রার চরে যাওয়া যায়। আবার নৌপথে বরগুনা বা আমতলীর লঞ্চে এসে স্থানীয় গাড়ি বা মোটরসাইকেলে সোনাকাটা ইউনিয়নের এই সৈকতে পৌঁছানো সম্ভব। থাকার জন্য তালতলী শহরে আবাসিক হোটেল ও জেলা পরিষদ ডাক বাংলো রয়েছে। সম্প্রতি চালু হওয়া ‘জল তরণি’ নামের তাঁবুঘরও ভ্রমণকারীদের নতুন অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।

Link copied!