ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গাজার সব সীমান্ত পারাপার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই নতুন এই অবরোধে প্রায় ২০ লাখ মানুষ চরম খাদ্য সংকট ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।
ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগেও ২৫ কেজি আটার বস্তা যেখানে ৩০ শেকলে বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা ৮০ থেকে ১০০ শেকলে পৌঁছেছে। চিনি, ভোজ্যতেল ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দামও দ্বিগুণ হয়েছে। আতঙ্কে মানুষ অতিরিক্ত পণ্য কিনতে ছুটছেন, এতে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেন জানিয়েছে, সীমান্ত বন্ধ থাকলে চলতি সপ্তাহেই তাদের খাদ্য মজুত শেষ হয়ে যাবে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা হোসে আন্দ্রেস জানিয়েছেন, প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ মানুষের জন্য গরম খাবার প্রস্তুত করতে নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ প্রয়োজন।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজায় বর্তমানে মাত্র এক সপ্তাহের তাজা খাবার এবং প্রায় ১০ দিনের রুটি তৈরির আটা অবশিষ্ট রয়েছে। এর আগেও অবরোধের সময় ত্রাণ নিতে গিয়ে বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছিলেন। নরওয়েজিয়ান শরণার্থী পরিষদের প্রধান নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের কর্মকর্তা ইয়ান এগেল্যান্ড বলেছেন, দখলদার শক্তি হিসেবে বেসামরিক নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসরায়েলের আইনি দায়িত্ব। চলমান যুদ্ধ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন পালনের অজুহাত হতে পারে না।
ইসরায়েলি সংস্থা ‘কোগাট’ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সরবরাহ বন্ধের কথা জানালেও পরে কেরেম শালোম সীমান্ত দিয়ে সীমিত ত্রাণ প্রবেশের অনুমতির আশ^াস দিয়েছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, গাজার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং সেখানে কোনো কৌশলগত খাদ্য মজুত নেই।
এদিকে ইসরায়েলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দেশ ছাড়তে মিসরের সিনাই উপদ্বীপের পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তিনি জানিয়েছেন, তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর কবে খুলবে তা অনিশ্চিত। রাষ্ট্রদূত বাসে করে দক্ষিণ সিনাইয়ের শারম আল-শেখ ও তাবার দিকে যাওয়াকে বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অবরোধ, মূল্যবৃদ্ধি ও অনিশ্চয়তার এই বাস্তবতায় গাজা আবারও এক গভীর মানবিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে।

