ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আবারও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন পুলিশ সদস্য এবং এক শিশুসহ তিনজন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার ভোরে দুটি পৃথক হামলা চালানো হয়। একটি হামলা পরিচালিত হয় পুলিশের একটি চেকপোস্টে, অপরটি সাধারণ মানুষের একটি জটলাকে লক্ষ্য করে। নিহতদের মরদেহ খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। এই হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলা নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা : গত বছরের অক্টোবরে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বাস্তবে সহিংসতা থামেনি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে এখন পর্যন্ত শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হয়েছেন। অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় গাজার পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে।
মানবিক সংকট আরও গভীর : দীর্ঘদিনের সংঘাতে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৫ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছেন। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এরই মধ্যে শীত ও ভারী বৃষ্টির কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসরত অনেক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে রোগব্যাধি বাড়ছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব : বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনার আড়ালে গাজায় হামলার মাত্রা বেড়েছে। লেবানন ও অন্যান্য সীমান্ত এলাকাতেও সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়লেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান দৃশ্যমান নয়। গাজার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজায় চলমান সহিংসতা শুধু একটি যুদ্ধ নয়, এটি একটি গভীর মানবিক সংকট। প্রতিদিনের প্রাণহানি ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে থাকা লাখো মানুষের জন্য দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান এখন সময়ের দাবি।

