ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

যুদ্ধবিরতির মাঝেও রক্ত ঝরছে গাজা-লেবাননে

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ১৯, ২০২৬, ০৬:৪৩ এএম

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজা উপত্যকা ও লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। সর্বশেষ হামলায় গাজা ও লেবাননে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গাজার একটি কমিউনিটি রান্নাঘরে হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন কর্মী। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে রোববার ওই হামলা চালানো হয়। হামলায় নিহতরা সাধারণ মানুষের জন্য খাবার প্রস্তুতের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। গাজার খান ইউনিস ও বেইত লাহিয়াতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। হামাস এই হামলাকে ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধাপরাধ’ বলে উল্লেখ করেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৭৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পরও সেখানে প্রাণ গেছে শত শত মানুষের। বর্তমানে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলেও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তায়র ফেলসাই, তায়র দেব্বা ও জেবশিতসহ কয়েকটি এলাকায় হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

এ অবস্থায় মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে গাজায়। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো হাজারো মরদেহ চাপা পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে উদ্ধারকাজ প্রায় বন্ধ। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজাজুড়ে জমে থাকা ধ্বংসস্তূপ সরাতে প্রায় সাত বছর সময় লাগতে পারে। ২৩ বছর বয়সি লিনা আল-জাওরা এখনো তার পরিবারের ২৮ সদস্যের মরদেহ দাফন করতে পারেননি। ধ্বংসস্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি শুধু প্রিয়জনদের কবর দেওয়ার অপেক্ষা করছেন। গাজার উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, জ্বালানি ও যন্ত্রপাতির সংকটে তারা অনেক জায়গায় হাত দিয়েই কংক্রিট সরানোর চেষ্টা করছেন। যুদ্ধবিরতি থাকলেও বাস্তবে সেখানে এখনো থামেনি মৃত্যু, ধ্বংস আর স্বজন হারানোর কান্না।