ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

গাজামুখী ত্রাণবহরে হামলা, অনশনে ৮৭ ত্রাণকর্মী

ভিনদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত: মে ২২, ২০২৬, ০৪:০৮ এএম

গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের আন্তর্জাতিক ত্রাণবহর আটকে দিয়েছে ইসরায়েল। বহরের জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় অবস্থান করার সময় ইসরায়েলি নৌবাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪৩০ জন ত্রাণকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। অভিযানের সময় বহরের দুটি জাহাজে গুলির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকেরা। সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতেও গুলির দৃশ্য দেখা গেছে।

গত সপ্তাহে তুরস্কের একটি বন্দর থেকে প্রায় ৫০টি জাহাজ নিয়ে বহরটি গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পরে সাইপ্রাসের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের গতি রোধ করা হয়। ইসরায়েল জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের আশদোদ বন্দরে নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আটক ত্রাণকর্মীদের মধ্যে অন্তত ৮৭ জন অনশন শুরু করেছেন। একই সঙ্গে তারা ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি হাজারো ফিলিস্তিনির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে জোরপূর্বক লোকজনকে ধরে নিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছেন, গাজায় হামাসের ওপর আরোপিত অবরোধ ভাঙার একটি পরিকল্পনা প্রতিহত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ফ্লোটিলার আয়োজক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ঠেকানোই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তুরস্ক ও স্পেন ইসরায়েলের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া তাদের নাগরিক ও জাহাজ দ্রুত মুক্তির দাবি তুলেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ত্রাণবহরের সঙ্গে যুক্ত চার ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এদিকে গাজা পুনর্গঠনের জন্য প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সৌদি আরব সফর করে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিতের চেষ্টা করছেন। তবে ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে এখনো জটিলতা কাটেনি।