ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বুধবার (২৭ আগস্ট) রাতভর বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এসব হামলায় তিন শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত ও ৩৮ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে রাশিয়ার ‘কূটনীতির প্রতি উত্তর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘রাশিয়া আলোচনার টেবিলের পরিবর্তে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বেছে নিয়েছে। হত্যা বন্ধের বদলে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পথ নিচ্ছে।’
তিনি রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আহ্বান জানান। কিয়েভ শহরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় শহরের সাতটি জেলায় আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। জরুরি পরিষেবা কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করছেন। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তারা দেশজুড়ে রাশিয়ার ছোড়া ৫৯৮টি ড্রোনের মধ্যে ৫৬৩টি এবং ৩১টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ২৬টি প্রতিহত করেছে। বিমান বাহিনী ১৩টি স্থানে হামলার আঘাত এবং ২৬টি স্থানে ধ্বংসাবশেষ পড়েছে বলে জানিয়েছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান টিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাশিয়ার হামলার ধরন একেবারে পূর্বপরিচিত-একাধিক দিক থেকে সম্মিলিত হামলা এবং সাধারণ আবাসিক ভবনগুলোকে টার্গেট করাই তাদের কৌশল।’ অন্যদিকে, মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের ছোড়া ১০২টি ড্রোন রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। এসব ড্রোন অন্তত সাতটি অঞ্চলে হামলার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি তাদের।
আপনার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে মতামত লিখুন