ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

রিহ্যাব নির্বাচনে এবার ত্রিমুখী লড়াই

রহিম শেখ
প্রকাশিত: এপ্রিল ১২, ২০২৬, ০৫:৩৯ এএম

আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশে (রিহ্যাব) একসময় উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হতো। তবে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এর ছন্দপতন হয়। ২০১৪ সালে ভোট ছাড়াই সংগঠনটির সভাপতি হন আলমগীর শামসুল আলামিন। পরের তিন মেয়াদেও সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি হয়। সব মিলিয়ে ১০ বছর পর ২০২৪ সালে ভোটের ধারা আবার ফেরে। সেই ধারা অব্যাহত রেখেই আগামী ১৮ এপ্রিল শনিবার রাজধানীর ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। এবার ভোটার হয়েছেন ৬৭৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৬১৩ জন এবং চট্টগ্রামের ৬১ জন। রিহ্যাবের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে এবার ত্রিমুখী লড়াই হবে। প্রথমবারের মতো সভাপতি, ৬ সহসভাপতি ও ১৯ পরিচালক পদের সব কটিতে সরাসরি নির্বাচন হবে। সব মিলিয়ে সংগঠনটির ২৯ পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ৭৭ জন ব্যবসায়ী। এর মধ্যে তিন প্যানেলের পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছেন।

জানা যায়, রিহ্যাবের বর্তমান পর্ষদ তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়। সে অনুযায়ী গত বছর তপশিল ঘোষণা করা হয়। ভোট হওয়ার কথা ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি। পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ভোট প্রায় দুই মাস পিছিয়ে যায়।

জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে রিহ্যাবের সদস্যদের নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ ও প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি জোট জাগরণ ১৩ জনের একটি খ-িত প্যানেল দিয়েছে। তবে সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন নবো উদ্যোগ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল খায়ের। এই তিন প্যানেলের বাইরে তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালক প্রার্থীও রয়েছেন।

এবারও আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্যানেল লিডার ও সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন রিহ্যাবের বর্তমান সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান। ছয় সহসভাপতি পদে তাদের প্রার্থীরা হলেন লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. মহসিন মিয়া, শেখ মো. শোয়েব উদ্দীন ও মোহাম্মদ মোরশেদুল হাসান। এই প্যানেলের পরিচালক পদে তরুণ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দুজন নারী আবাসন ব্যবসায়ীও রয়েছেন।

জানতে চাইলে ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থী লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যখন কোনো সংগঠন ঠিকমতো কাজ করতে পারেনি, আমরা তখন কাজ করেছি। রিহ্যাবে আমরা নির্বাচনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। গত দুই বছরে আমরা ড্যাপ সংশোধন করার পাশাপাশি সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া জমি অনুমোদন ছাড়াই নামজারির সুবিধা আদায় করেছি। এ ছাড়া গৃহঋণ ২ কোটি থেকে ৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ড্যাপ সংশোধন হলেও কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি রয়েছে। সেগুলো সংশোধনের জন্য আমরা চেষ্টা করব। ওয়াসা ও রাজউকের বিরুদ্ধে রিট করা হয়েছে। আমরা আশা করছি রিটের রায় খুব শিগগির আসাবে।

এবারের নির্বাচনে প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ নামে নতুন প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী হয়েছেন গ্লোরিয়াস ল্যান্ডস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসের চেয়ারম্যান মো. আলী আফজাল। এই প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন আবদুর রাজ্জাক, মো. শেখ সাদি, আবু খালেদ মো. বরকতুল্লাহ, এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, মো. হারুন অর রশীদ ও নূর উদ্দিন আহমেদ। গত নির্বাচনে আবাসন ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের হয়ে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছিলেন এমন চারজন এবার প্রগতিশীল আবাসন ব্যবসায়ী পরিষদ থেকে প্রার্থী হয়েছেন।

প্রগতিশীল প্যানেলের প্রার্থী ড. হারুন অর রশিদ বলেন, বিজয়ী হলে আবাসন খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। রিহ্যাব সদস্যদের স্বার্থে প্রথম পর্যায়ে ৫ দফায় ১৫টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি উত্তরায় রিহ্যাব ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের জন্য এক বিঘা জমির ওপর আধুনিক ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ড্যাপ সংশোধন, বিধিমালা হালনাগাদ এবং টিডিএস সমস্যার সমাধানেও কাজ করা হবে।

জাগরণ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন ক্যাপিটাল ল্যান্ড ডেভেলপমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি মোকাররম হোসেন খান। এই প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন আবদুল লতিফ, এ এম মহিব উদ্দীন, এস এম জাহিদুল ইসলাম, মো. রেজাউল করিম খান ও মো. শাহদাৎ হোসেন। এ ছাড়া পরিচালক পদে তাদের প্রার্থী রয়েছেন সাতজন। প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই খাতের সমস্যাগুলো আগে চিহ্নিত করা হবে। এরপর সেসব সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা সদস্য ও সংগঠনের জন্য কাজ করতে চাই। এ জন্য সদস্যদের সমর্থন চাই। আমরা বিজয়ী হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও টেকসই উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে চাই।