ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

বিতর্কে পোস্টাল ব্যালট

স্বপ্না চক্রবর্তী
প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম
রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে ‘পোস্টাল ব্যালট’। ২০০৮ সাল থেকে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার আইনটি রয়েছে। তবে এবার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এটি প্রয়োগ হতে যাচ্ছে। এ নিয়ে বেশ আয়োজন করে নানা পদক্ষেপও নিয়েছে ইসি। কিন্তু পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বাহরাইনের ভিডিও ভাইরালসহ নানা ঘটনায় এরই মধ্যে বিতর্কিত হয়ে পড়েছে পোস্টাল ব্যালট ও ইসি স্বয়ং।

তথ্য অনুসারে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন পদ্ধতি চালু করেছে ইসি। এর মাধ্যমে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। দেশের ভেতরে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন করেছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জনের বেশি, বাকিরা প্রবাসী।

এর মধ্যে সম্প্রতি বাহরাইনে এক ব্যক্তির হাতে অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট থাকার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তৈরি হয় সমালোচনা, যা এখন জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বিএনপি বলছে, জামায়াতকে সুবিধা দিতে ইসির এই কারসাজি। বিএনপি এটিকে ভোট চুরির প্রাথমিক মহড়া হিসেবেও দাবি করছে। অন্যদিকে জামায়াত বলছে, এর সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালট কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ইসি ব্যর্থ বলেও অভিমত সব রাজনৈতিক দলের।

পোস্টাল ব্যালট নিয়ে তীব্র চাপের মুখে থাকা ইসি বলছে, কারসাজির সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে এনআইডি ব্লকসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে শুধু পোস্টাল ব্যালটে ভোট নয়, এই কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন নির্বাচন বিশ্লেষকেরা।  

গত ১৮ নভেম্বর পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। শেষ হয় চলতি মাসের ৫ তারিখ। ইসির তথ্য অনুযায়ী মোট নিবন্ধনকারীর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৮১ হাজার ৪৩৪ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫২ হাজার ২৪৬ জন। আর এদের মধ্যে প্রবাসী ভোটারই বেশি। প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার ১৮৬ জন নিবন্ধন করেছেন। মালয়েশিয়ায় ৮৪ হাজার ২৯২ জন, কাতারে ৭৬ হাজার ১৩৯ জন এবং ওমানে ৫৬ হাজার ২০৭ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লাÑ ১ লাখ ১২ হাজার ৯০ জন। এর পরই ঢাকায় ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ জন এবং চট্টগ্রামে ৯৫ হাজার ২৯৭ জন। আর আসনভিত্তিক নিবন্ধনে ফেনী-৩ আসন ১৬ হাজার ৯৩ জন নিয়ে সবার ওপরে রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ৩০১ জন। মাত্র গত ১৬ দিনে বিশ্বের ৮১টি দেশে অবস্থানরত ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৭৬৯ জন প্রবাসীর কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৭ হাজার ৯৪৩টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে সৌদি আরবে অবস্থানরত ভোটারদের কাছে।

কিন্তু সম্প্রতি একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যেখানে একটি ঘরে কয়েকজন মিলে অনেকগুলো পোস্টাল ব্যালট গুনছেন। খামে উল্লেখিত ঠিকানা দেখে নিশ্চিত হওয়া যায়, এটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনের নাম। ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা এখান থেকে যেগুলা আছে, সব লইয়া যানগা। আমরার দরকার নাই। ভিডিও কইরেন না। ফেসবুকে ছাড়িয়েন না।’ অন্য আরেকজনের কণ্ঠে শোনা যায়, ‘একাধিকজন ভিডিও করলে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে যাবে। তখন ভাবমূর্তির ক্ষতি হবে। বাহরাইনে প্রবাসীদের দেওয়া পোস্টাল ব্যালটে ভোট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’ পরে তথ্য বিশ্লেষণে পাওয়া যায়, বাহরাইনে জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার বাসাতেই এই পোস্টাল ব্যালটগুলো পাওয়া গেছে।

এরপর থেকেই সোচ্চার হয়ে ওঠে বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। এ বিষয়ে বিএনপির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে কিছু রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক প্রথম লাইনে রাখা হলেও বিএনপির প্রতীক মাঝামাঝি রাখা হয়েছে। কাগজ ভাঁজ করলে মাঝখানের প্রতীকে চোখ না-ও পড়তে পারে। এটা ঘটনাক্রম নয়, উদ্দেশ্যমূলক বলেই মনে হয়েছে। এখনো যেসব দেশে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়নি, সেগুলো যেন সংশোধন করে পাঠানো হয়, সেই দাবিও ইসিকে জানান তিনি। যে ভিডিও ছড়িয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী। রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, দলের পক্ষ থেকে ইসিকে বলা হয়েছে। যারা ব্যালট নিয়ে কারচুপির চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। ইসি আগে একবার বলেছিল, এ ধরনের কাজে কেউ জড়িত হলে তাদের ব্লক করে দেওয়া হবে। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।

এদিকে আন্তর্জাতিক এক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের তথ্য অনুযায়ী, বাহরাইনের একাধিক প্রবাসী বাংলাদেশি স্বীকার করেছেন, পোস্টাল ব্যালট পেতে কেবল বাহরাইন নয়, গোটা গাল্ফ বা উপসাগরীয় এলাকার প্রবাসী ভোটারদের সহায়তা করছে বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপ। তারা ওই গণমাধ্যমকে জানান, ভিডিওর যে ক্লিপগুলো সামাজিক মাধ্যমে এসেছে, সেগুলো মূলত বাইরাইনের হিদ এলাকার। নিজেকে জামায়াতের বাহরাইন শাখার নেতা পরিচয় দিয়ে মোহাম্মদ জয়নুল আবেদিন নামে একজন ওই গণমাধ্যমকে বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারদের বেশির ভাগই শ্রমিক হওয়ায় তাদের নির্দিষ্ট ঠিকানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে, যারা শ্রমিক ক্যাম্পগুলোতে থাকেন, তাদের বেশির ভাগেরই নিজস্ব কোনো পোস্টাল ঠিকানা নেই। পোস্টাল ভোটের জন্য রেজিস্ট্রেশনের সময় অনেকেই নিকটস্থ দোকান অথবা ভবন যেখানে মানুষ সব সময় থাকে এমন একটা অ্যাড্রেস দিয়েছেন। এতে করে একেকটি ঠিকানায় কয়েকশ করে ব্যালট এসেছে। এখানে ভোট জালিয়াতি কিংবা ভোটারদের প্রভাবিত করার কোনো উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করেছেন তিনি। বাইরাইনের ওই এলাকায় থাকা বিএনপির কিছু সমর্থক উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই ভিডিও করে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও দাবি তার। তিনি বলেন, বাহরাইনের পোস্টাল বিভাগের কর্মী যখন দেখেছেন একই ঠিকানায় বাল্ক অ্যামাউন্টে (বড়সংখ্যক) আছে এবং সবাই বাংলাদেশি, খুব সম্ভবত তার কাজ কমানোর জন্য একই জায়গায় ডাম্পিং করছে।

তবে ভিডিওটি জামায়াত নেতার বাড়িতে করা হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে এমন দাবি করা হলেও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। এখন এআইয়ের যুগ। যে কেউ যে কিছু ভিডিও-অডিও ছড়িয়ে দিতে পারে যে কারো নামে। আমরাও এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

এ ক্ষেত্রে একই ঠিকানায় কয়েকশ ব্যালট কিংবা ব্যালট পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নির্বাচন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আব্দুল আলিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আইনটি আগে থাকলেও এবারই প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন প্রবাসী ভোটাররা। শুরুতেই এমন ঘটনা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে। এর মাধ্যমে মানুষ ভোট দিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে, অনেকে পোস্টাল ব্যালটে ভোট না-ও দিতে পারেন। মানুষকে একটা আস্থাহীনতার পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে, যা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশে কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ ক্ষেত্রে ভুল কোথায় হচ্ছে, সেটি খুঁজে তার বিরুদ্ধে কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।’ তিনি বলেন, ব্যালট যেহেতু চলে গেছে, এখন ফেরত আসার সময় এরকম সমস্যা যেন না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে জাল ভোট ঠেকানো যাবে। কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে দিতে হবে। তবে যেহেতু এখন নানাভাবে মানুষ বিভিন্ন রকম জালিয়াতি করছে, সেহেতু এই পোস্টাল ভোটকেও হয়তো জাল করে দিতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে ইসিকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। প্রয়োজনে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।

এ ঘটনাকে ভয়াবহ উল্লেখ করে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করে বলেন, অনেক রক্তের বিনিময়ে ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান। কোনো প্রতিষ্ঠান বা কারো খামখেয়ালিতে যেন এর মহিমা কোনোভাবেই নষ্ট হয়ে না যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিংবা কমিশনের জন্য ভোটারদের আস্থা ধরে রাখা খুবই জরুরি। এ ধরনের ঘটনা ভোটের প্রতি মানুষের সন্দেহ তৈরি করতে পারে।

ভিডিওর বিষয়ে রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেছেন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, প্রবাসী ভোটাররা একটা ব্যালট পেয়েছেন, এই আনন্দটুকু ধরে রাখার জন্য হয়তো কেউ ভিডিওটা পোস্ট করেছে। তবে এটি উচিত হয়নি। এটি যাতে ভবিষ্যতে না হয়, এ বিষয়ে আপনাদের কী উদ্যোগ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভিডিওটির বিষয়ে ইসি এখনো তদন্ত করছে। তদন্ত শেষেই বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, ‘বাহরাইনের ক্ষেত্রে ১৬০টি ব্যালট একটি ডেলিভারি পয়েন্টে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে প্রবাসী ভাইয়েরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। আমার পাশে থাকে, আমি ওরটা পৌঁছে দিচ্ছিÑ ব্যাপারটা এরকম।’

তবে এর আগে বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রের বরাত নিয়ে ইসি জানায়, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বাহরাইনপ্রবাসী কয়েকজন ভোটার কর্মস্থলে থাকাকালীন বাহরাইন পোস্ট কর্তৃক ব্যালট খাম বিতরণের জন্য যোগাযোগ করা হলে তারা একই এলাকায় বসবাসকারী সহকর্মীর কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করেন। পরে পোস্টম্যান ওই ব্যক্তির কাছে একই এলাকায় বসবাসরত ১৬০টি ব্যালট খাম বিতরণের জন্য হস্তান্তর করেন।

বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে এবারই প্রথম প্রবাসীদের জন্য বড় পরিসরে পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভোটগ্রহণের আগেই এই ব্যালটের নকশা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিএনপির অভিযোগ, পোস্টাল ব্যালটের ভাঁজের ঠিক মাঝখানে ধানের শীষ প্রতীকটি রাখা হয়েছে, যার ফলে ব্যালটটি খুললে প্রতীকটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না অথবা তা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান এ বিষয়ে বলেন, ব্যালট পেপারটি যখন ভাঁজ করা হয়, তখন ধানের শীষ প্রতীকটি ঠিক ভাঁজের মাঝখানে পড়ে যায়। এতে করে ভোটাররা যখন ব্যালটটি হাতে পাবেন, তখন প্রতীকটি আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ধানের শীষকে রাখা হয়েছে মাঝামাঝি বা এমন এক অবস্থানে, যা দৃষ্টিগোচর হওয়া কঠিন। এটি উদ্দেশ্যমূলক।

তবে বিএনপির এই গুরুতর অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ দুই দফায় ব্যাখ্যা দেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এটি একটি ‘মিস’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল। ব্যালট পেপার ছাপানোর সময় একটি নির্দিষ্ট ক্রম বা গেজেটের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করা হয়। কোনো একটি নির্দিষ্ট দলকে লক্ষ্য করে প্রতীকের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়নি। ইসির ভাষায়, এটি ‘ইট ইজ এ মিস’ অর্থাৎ, নকশা করার সময় কেউ খেয়াল করেনি যে ভাঁজটি ঠিক ধানের শীষের ওপর পড়বে। এ ক্ষেত্রে নামের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী প্রতীকের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসি সচিব বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধনের ক্রম অনুযায়ী প্রতীকের তালিকা করা হয়। সেই তালিকা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যালটের ডিজাইন করা হয়েছে। এখানে মানুষের হস্তক্ষেপের সুযোগ কম ছিল।

তবে বাহরাইনের ভিডিও প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সহ্য করা হবে না। যদি কেউ কারচুপি করার চেষ্টা করে, তাহলে তার এনআইডি ব্লক করা হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে ফিরিয়ে এনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।