ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

৫১ দফা ও ৯ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার

রুবেল রহমান
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৬:১৩ এএম
রূপালী বাংলাদেশ গ্রাফিক্স

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে দেশের বৃহত্তম দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ইশতেহারের মূল স্লোগান।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলটি তাদের ইশতেহারকে পাঁচটি অধ্যায়ে ভাগ করেছে, যেখানে ক্ষমতায় গেলে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ৫১টি দফাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেরও অঙ্গীকার করেছে দলটি। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন, বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’ এবং তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা এবারের ইশতেহারের মূল ভিত্তি।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ নির্দিষ্টকরণ এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতাসহ ৩৫টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিএনপি স্লোগান নয়, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় বিশ্বাসী। আসন্ন নির্বাচনে তারেক রহমান দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং এটিই তার পক্ষ থেকে ঘোষিত প্রথম নির্বাচনি ইশতেহার।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং বিএনপির ৩১ দফার ভিত্তিতে এই সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। এতে সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বাতিলকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারে ‘বাংলাদেশ সবার আগে’ নীতির অঙ্গীকার করা হয়েছে, যেখানে সব আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততায় জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জনগণের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিএনপি উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের সীমান্তের বাইরে রয়েছে ‘বন্ধু, প্রভু নয়’। দলটি জোর দিয়ে বলেছে, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিকদের কল্যাণÑ এ বিষয়গুলোই তাদের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে। বিএনপি জানিয়েছে, সমতা, ন্যায়সঙ্গতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ একটি আত্মমর্যাদাশীল, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল বৈশ্বিক ভূমিকা পালন করবে। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক প্রসঙ্গে বিএনপি বলেছে, আন্তর্জাতিক বিধি ও নিয়ম মেনে সমতা, বাস্তববাদ এবং পারস্পরিক স্বার্থের স্বীকৃতির ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলায় তারা গুরুত্ব দেবে। আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দলটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না এবং নিজের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না।

ইশতেহারে অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থা, জোট ও উদীয়মান আঞ্চলিক ব্লকের সঙ্গে নতুন বাজারে প্রবেশ এবং অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে বিএনপি উদ্যোগ নেবে। বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প খাতে মূল্য সংযোজন বাড়াতে কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির প্রবেশাধিকার বাড়াতে শ্রম ও অভিবাসন কূটনীতি জোরদার করা হবে। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে বিএনপি জানিয়েছে, প্রধান বৈশ্বিক শক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে নিরলস প্রচেষ্টা চালানো হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং শুল্ক ও বাণিজ্যসুবিধা সুরক্ষায় কার্যকর কূটনীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। কৃষি ও শিল্পের কাঁচামাল নিশ্চিত করতে এবং বাণিজ্য সম্পর্কে বৈচিত্র্য আনতে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও বলা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাÑ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা, উপকূলীয় নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তি মোকাবিলায় আঞ্চলিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদার করা হবে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে বিএনপি জানিয়েছে, সমতা, সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার ওপর দাঁড়িয়ে সম্পর্ক গড়ে তুলতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে তাদের উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

সীমান্তবর্তী নদীর পানি বণ্টন প্রসঙ্গে বিএনপি অঙ্গীকার করেছেÑ পদ্মা, তিস্তা এবং বাংলাদেশের সব আন্তঃসীমান্ত নদীর ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণের ওপর যেকোনো হামলা অগ্রহণযোগ্য এবং জাতীয় সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। ইশতেহারে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বিএনপির ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধওে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করতে আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে বিএনপি। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বৃত্ত পুঁজি এবং বাংলাদেশের উৎপাদনশীলতা ও মানবসম্পদ একত্র করে অর্থনৈতিক সংহতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব অংশীদারত্বের আওতায় পারস্পরিক খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামরিক শিল্প ও প্রশিক্ষণে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রোহিঙ্গাসংকট প্রসঙ্গে বিএনপি বলেছে, এই সংকটের দ্রুত সমাধান তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গত আট বছরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অগ্রগতির অভাবের জন্য জনগণের ম্যান্ডেটবিহীন সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছে দলটি। তারা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকার সফলভাবে দুবার রোহিঙ্গাসংকট সমাধান করেছিল। ইশতেহারে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকারসহ নিরাপদ, স্বেচ্ছাসেবী, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা হবে।

ইশতেহারে সফট পাওয়ার, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কূটনীতিকেও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় উন্নয়ন ও মানুষে-মানুষে যোগাযোগ জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষক, গবেষক, লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বেসরকারি নীতিনির্ধারক ও তরুণ রাজনীতিকদের অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের সংস্কৃতিমনস্ক তরুণ প্রজন্মকে বৈশ্বিক পরিসরে যুক্ত করে দেশের সফট পাওয়ার শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

বিএনপি জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে শক্তিশালী করতে জনবল নিয়োগ বৃদ্ধি, বিদেশে মিশন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন স্তরে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মন্ত্রণালয় ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোর মানবসম্পদ, ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়ন করা হবে।

বিএনপি জানিয়েছে, গত দেড় দশকে ব্যাপক দুর্নীতি, অস্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যয়বহুল স্বল্পমেয়াদি চুক্তি, উচ্চ ক্যাপাসিটি চার্জ এবং অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ব্যয়বহুল ও অদক্ষ হয়ে পড়েছে। দলটির মতে, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে টেকসই শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। নির্বাচনি ইশতেহারে বিএনপি বলেছে, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ও জ্বলানিব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

ইশতেহার অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করা হবে এবং সঞ্চালন লাইন বাড়িয়ে ২৫ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে নেওয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্র আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে দলটি। পাশাপাশি সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থা পুরোপুরি আধুনিক করে সিস্টেম লস কমানো এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে স্মার্ট গ্রিড চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিএনপি জানিয়েছে, ক্যাপাসিটি চার্জসহ ভাড়াভিত্তিক ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো হবে এবং চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণ নিশ্চিত করতে ‘লিস্ট কস্ট’ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। বাড়ি, শিল্পকারখানা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জ্বালানি নিরীক্ষা (এনার্জি অডিট) চালু করা হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত আমদানিনির্ভরতার কারণ চিহ্নিত করে দেশীয় জ¦ালানি উৎসের ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

ইশতেহারে বলা হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্রয়ে কোনো গোপন চুক্তি করা হবে না এবং সংশ্লিষ্ট সব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে। বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তিগুলো পুনর্গঠন করে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, প্রযুক্তি হস্তান্তর নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রের যৌক্তিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হবে। ইশতেহারে ধাপে ধাপে ৫ মিলিয়ন টন পরিশোধন সক্ষমতার একটি নতুন অপরিশোধিত তেল শোধনাগার নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা চট্টগ্রাম বা উপকূলীয় শিল্পাঞ্চলে স্থাপন করা হতে পারে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে বাপেক্সকে শক্তিশালী করা হবে এবং স্থলভাগ ও সমুদ্রভাগে ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও খনন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। জ্বালানির দাম সাশ্রয়ী ও স্বচ্ছ রাখতে ট্যারিফ নির্ধারণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা হবে এবং প্রয়োজন হলে স্বাধীন পর্যালোচনাব্যবস্থা চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে। গ্যাস বিতরণব্যবস্থা ও মূল্যনীতি পর্যালোচনা করে গৃহস্থালি ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

ইশতেহারে বলা হয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগে করছাড় ও স্বল্পসুদে সবুজ অর্থায়ন দেওয়া হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে সামগ্রিক জ্বালানি মিশ্রণে নবায়নযোগ্য জ¦ালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএনপি। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্বল্প ব্যয়ে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা অনুসন্ধান এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় পারমাণবিক জ¦ালানির নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কোনো দুর্নীতি থাকলে তা তদন্তের অঙ্গীকার করেছে দলটি। নগর ও বন্দর এলাকায় জ¦ালানি চাহিদা পূরণ এবং পরিবেশদূষণ কমাতে বর্জ্য থেকে জ¦ালানি উৎপাদন প্রকল্প চালুর কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে অগ্রাধিকারমূলক খাত হিসেবে ঘোষণা করেছে। এতে দলটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভাবনায় একটি কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। নির্বাচনি ইশতেহারে দলটি বলেছে, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আওতায় শিল্প ৪ দশমিক শূন্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়নের ভিত্তিতে ভবিষ্যতমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।

আইসিটি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির অঙ্গীকারকে বিএনপির অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৃহৎ পরিসরের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থার শক্তিশালীকরণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা এবং ফ্রিল্যান্সিং ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু কর্মসংস্থানের সংখ্যা নয়, কাজের মান, আয়ের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতার বিষয়েও নজর দিতে হবে।

বিএনপির ইশতেহারে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর বিষয়ে বলা আছে, শিক্ষা খাতে ডিজিটাল সুবিধা বাড়াতে স্কুল, কলেজ, ক্যাফে ও লাইব্রেরিতে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও গবেষণার কাজে সহায়তা করবে এবং ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি ‘বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস’ প্রদান প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সরকারিভাবে ‘বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস’ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিএনপি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে করমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে বিএনপি ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা চালুর কথা জানিয়েছে।  ক্লাস সিক্স থেকে দলগত কাজ, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন (পার্সোনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট), পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে তোলা হবে। ইশতেহারে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে বাংলা-ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, জাপানিজ, কোরিয়ান, ইতালিয়ান, ম্যান্ডারিন ইত্যাদি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা মাধ্যমিক পর্যায় থেকে চালু করা হবে।