আর কয়েকদিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের সময় যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে টাকার ছড়াছড়ি। বলাবাহুল্য, এসব টাকার উৎস যেমন অজ্ঞাত, তেমনি কত টাকা খরচ হচ্ছে তাও কেউ জানে না।
নির্বাচনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ করতে পারবেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) তা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সে হিসাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারপ্রতি ১০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন প্রার্থীরা। তবে এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা কিংবা ভোটারপ্রতি ১০ টাকা ব্যয় ধরে যেটি বেশি হবে, সে টাকা ব্যয় করতে পারবেন প্রার্থীরা। আসন্ন নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট এক হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একেকজন প্রার্থী ২৫ লাখ টাকা খরচ করলে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হওয়ার কথা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ অর্থ উত্তোলনের যে তথ্য দিয়েছে তাতে হিসাবটা অনেক বড়। মাত্র দুই মাসে- ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ এখন মানুষের হাতে হাতে ঘুরছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচনি প্রচার, কর্মী ব্যবস্থাপনা ও মাঠপর্যায়ের নানা খরচ মেটাতে প্রার্থীদের বড় একটি অংশ ব্যাংক থেকে নগদ অর্থ উত্তোলনের পথে হাঁটছে। এ ছাড়া কালো টাকা ছড়ানোর মাধ্যমেও ভোট কিনছেন কেউ কেউ।
ইসি সূত্রে জানা যায়, এবার নির্বাচনে ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী এক হাজার ৭৩২ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৪৯ জন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তবে পাবনা-১ ও ২ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী আছেন বিএনপির, ২৮৮টি আসনে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আছেন ২২৪টি আসনে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আছেন ২৫৩টি আসনে। জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আছেন ১৯২টি আসনে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আছেন ৩২টি আসনে। অন্য দলগুলোর মধ্যে সিপিবির ৬৫ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ৩৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৪, খেলাফত মজলিসের ২১, গণঅধিকার পরিষদের ৯০, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ৩০, গণফোরামের ১৯, গণসংহতি আন্দোলনের ১৭ ও নাগরিক ঐক্যের ১১ জন প্রার্থী আছেন। নির্বাচনে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ কত টাকা খরচ করতে পারবেন তা নির্ধারণ করে দিয়েছে ইসি। একই সঙ্গে কমিশন জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীরা ভোটারপ্রতি ১০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
পরিসংখ্যান অনুসারে, গাজীপুর-২ আসনের ভোটার সংখ্যা আট লাখ চার হাজার ৩৩৩ জন। এটি সর্বোচ্চ ভোটারের সংসদীয় আসন। সে হিসাবে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন। অন্যদিকে ঝালকাঠি-১ আসনে দুই লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন ভোটার, যা ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বনি¤œ। এখানে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ব্যয় করতে পারবেন ২৫ লাখ টাকা। ভোটারপ্রতি এ আসনে প্রার্থীরা ২২ টাকা ৮৪ পয়সা ব্যয় করতে পারবেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঢাকা-১৯ আসন। এখানে ভোটার সাত লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন। এ আসনে প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ব্যয় করতে পারবেন ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ৭০০ টাকা।
তথ্য অনুসারে, বিগত নির্বাচনগুলোয় ভোটারপ্রতি ব্যয় ১০ টাকা হলেও ২৫ লাখ টাকার বেশি কারো ব্যয় করার সুযোগ ছিল না। এবার সে নিয়ম রাখা হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা কিংবা ভোটারপ্রতি ১০ টাকা ব্যয় ধরে যেটি বেশি হবে, সে টাকা প্রার্থীরা ব্যয় করতে পারবেন। যদি সারা দেশের এক হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী সবাই ২৫ লাখ টাকা করে খরচ করেন, তা হলে ব্যয় হবে ৪৯৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কিছু ব্যক্তি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন নিজেদের আখের গোছানোর জন্য। এমপি হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাতারাতি ফুলেফেপে ওঠার জন্যই তারা রাজনীতিকে সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করেন। তারা জনগণের সেবক নন। জনসেবা করা তাদের রাজনীতির উদ্দেশ্য নয়। তাদের কারণেই রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়ন হচ্ছে। রাজনীতি দুর্নীতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা রাজনীতি করেন শর্টকাটে বড়লোক হওয়ার জন্য। রাজনীতি করে তারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য বিনিয়োগ করেন। কালো টাকা দিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করেন। নির্বাচনে জিতে শুরু করেন লুটপাট। লাভসহ খরচের টাকা তুলে নিয়ে যান। রাজনীতির এই দুষ্টচক্র বন্ধ না করতে পারলে দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে না, গণতন্ত্র বিকশিত হবে না। এ জন্যই নির্বাচনে কালো টাকার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে ভোটারদের। নির্বাচন কমিশনকে হতে হবে আরও কঠোর।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, অতীতেও নির্বাচনে কালো টাকার ব্যবহার দেখা গেছে। এটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এ সংক্রান্ত সরকারের নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা সম্ভব। যদিও কাজটি সহজ নয়। এ ছাড়া নির্বাচনের মাঠে পেশিশক্তি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।
নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, একজন প্রার্থী ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন, অথবা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার মধ্যে, যেটা সবচেয়ে বেশি হবে, সেটা ব্যয় করতে পারবেন। আরপিওর অনুচ্ছেদ ৪৪ অনুযায়ী প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সারা দেশে নির্বাচনি প্রচারের ধরন দেখে অনুমান করতে কষ্ট হয় না যে, অধিকাংশ প্রার্থীই এই নিয়ম মানছেন না। নির্বাচনি প্রচারে খরচ হচ্ছে নির্ধারিত ব্যয়সীমার অনেক বেশি। একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে কালো টাকা ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে। মাত্র দুই মাসে- ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। নভেম্বরে যেখানে এই অঙ্ক ছিল দুই লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা, সেখানে জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র দুই মাসেই নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সাম্প্রতিক সময়ে নগদ টাকা উত্তোলনের পরিমাণ বেড়েছে। প্রার্থীরা প্রচার ব্যয় মেটাতে নগদ অর্থ ব্যবহার করছেন বলেই এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি জানান, বড় বা সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে এবং ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত এসব লেনদেন রিপোর্ট করার নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।
নির্বাচনি ব্যয়ের বড় অংশই নগদে
নগদ টাকার এই ঊর্ধ্বগতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, এর আগের কয়েক মাসে চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। গত বছর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়জুড়ে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ ধারাবাহিকভাবে কমছিল। জুলাইয়ে যেখানে এই অঙ্ক ছিল দুই লাখ ৮৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, আগস্টে তা কমে দাঁড়ায় দুই লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে এই পতন অব্যাহত থেকে নভেম্বরে নেমে আসে দুই লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই হঠাৎ উল্টো স্রোত নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বিশ^ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচনি ব্যয়ের বড় অংশই নগদে হয়। তাই ভোটের আগে মানুষের হাতে নগদ টাকা বাড়াটা অস্বাভাবিক নয়। তবে অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন হলে তা বিএফআইইউকে রিপোর্ট করার ব্যবস্থাও কার্যকর রয়েছে।
কালো টাকার আশঙ্কা
নগদ টাকার এই দ্রুত বিস্তারে নতুন করে কালো টাকা ব্যবহারের প্রশ্ন উঠেছে। সেই আশঙ্কা থেকেই নির্বাচনের আগে নজরদারি জোরদার করেছে বিএফআইইউ। গত ১১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো হিসাবে একদিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে নগদ লেনদেন প্রতিবেদন (সিটিআর) আকারে বিএফআইইউকে জানাতে হবে। অনলাইন, এটিএমসহ সব ধরনের নগদ লেনদেনই এর আওতায় পড়বে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হলে কিংবা ভুল তথ্য দিলে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
নির্বাচনের আগে রেমিট্যান্সে জোয়ার
নগদ টাকার প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি নির্বাচন সামনে রেখে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকে দেখা যাচ্ছে ইতিবাচক চিত্র, তা হলো রেমিট্যান্স। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিÑ এই দুই মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ছয় বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। শুধু জানুয়ারিতেই এসেছে তিন দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৫ শতাংশের বেশি। এর আগের মাস ডিসেম্বরেও রেমিট্যান্স ছিল রেকর্ড ছোঁয়াÑ তিন দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। দেশে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সাত দিনে ৭৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) এর পরিমাণ ৯ হাজার ৬৭৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত রমজান বা ঈদকেন্দ্রিক সময়ে রেমিট্যান্স বাড়ে। কিন্তু এবার মৌসুমি কারণের বাইরে গিয়ে নির্বাচন সামনে রেখে প্রবাসীদের একটি অংশ অতিরিক্ত অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন, এমন ইঙ্গিত মিলছে।
ডলার কিনে বাজারে টাকার জোগান
রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহও বেড়েছে। গত মঙ্গলবার ১৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নিলামের মাধ্যমে ১৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এই ডলার কেনা হয় বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এই লেনদেনের বিপরীতে মঙ্গলবারেই বাজারে ছাড়া হয়েছে প্রায় দুই হাজার ৯১ কোটি টাকা (২,০৯১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা), যা টাকার বাজারে তারল্য বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এ পর্যন্ত মোট ৩৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। এর বিপরীতে বাজারে ছাড়া হয়েছে আনুমানিক চার হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। গড় বিনিময় হার অনুযায়ী, এর বিপরীতে বাজারে ছাড়া হয়েছে প্রায় ৫২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলক ভালো রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জোরদার করছে, অন্যদিকে টাকার বাজারে প্রয়োজনীয় তারল্য সরবরাহ দিচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অতিরিক্ত তারল্য মূল্যস্ফীতির ওপর চাপও তৈরি করতে পারে। ফলে রিজার্ভ বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণÑ এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় চ্যালেঞ্জ।
ডিজিটাল লেনদেনে ‘রেড অ্যালার্ট’
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে টাকার অপব্যবহার রোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা সীমিত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত গতকাল রোববার রাত ১২টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এসব সেবা সীমিত থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা প্রতিবার সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন। এভাবে দৈনিক লেনদেন করা যাবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ সেবা ব্যবহার করে একে অপরকে টাকা পাঠানোর সেবা বন্ধ থাকবে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবায় এই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমএফএস ও ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের আওতাধীন আইবিএফটির মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (পিটুপি) লেনদেনের অপব্যবহার রোধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফলে গতকাল রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত (পূর্ণ ৯৬ ঘণ্টা) এমএফএসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রতিটি লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা ও লেনদেনের সর্বোচ্চ সংখ্যা হবে দৈনিক ১০টি। তবে মার্চেন্ট পেমেন্ট ও পরিষেবা বিলের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত লেনদেনের বিধান অপরিবর্তিত থাকবে। লেনদেনের বাইরে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যান্য সেবা উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
-20260209034519.webp)




