সংস্কার, স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে বিপুল পরিমাণ দেনা করতে হয়েছে। অর্থাৎ গত চার দশকের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো নিয়মিত কার্যাবলি চালাতে ঋণ করতে হয়েছে সরকারকে। সহজ করে বললে, বাংলাদেশ এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যে, নিয়মিত পরিচালন ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। আশির দশকে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মোটাদাগে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের ধারাবাহিকতায় অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরানোর বদলে পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের সংকট আরও বাড়ানো হয়েছে। ব্যাংকের উচ্চ সুদের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব।
একই সঙ্গে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। আস্থাহীনতায় বিনিয়োগ মন্দা আরও বেড়েছে। বড় ঘাটতিতে পড়েছে রাজস্ব আয়। একের পর এক বন্ধ হয়েছে কারখানা। কমেছে কর্মসংস্থান। উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। ইতিহাসের সর্বনি¤œ বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন। তবে অর্থনীতির অধিকাংশ সূচক নেতিবাচক থাকলেও প্রবাসীরা ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের পাশে। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে ভর করে বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। মন্দের ভালো রপ্তানি আয়ও কিছুটা বেড়েছে। আর্থিক খাত বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় অঙ্কের দায়দেনার বোঝা পড়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারের ঘাড়ে। ১৮ মাসে নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার ভারাক্রান্ত অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রেখে দায়িত্ব ছেড়েছেন। সামনে এই অনিবার্য কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে নয়া সরকারকে।
জানা গেছে, দেশে দীর্ঘ সময় ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে ঘুরছে। নিত্যপণ্যের দাম মানুষের আয়কে ক্ষয় করছে। মধ্যবিত্ত চাপে আছে। নিম্নবিত্তের অবস্থা আরও খারাপ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মুহূর্তেই রমজান এসে পড়েছে। তাই বাজার সামাল দেওয়ার চাপ আছে নতুন সরকারের ওপর। দেশে বিনিয়োগ স্থবির। ব্যবসায়ীরা অনিশ্চয়তায়। জ্বালানি ও বিদ্যুতের নিরাপত্তা না থাকা বিনিয়োগে বড় বাধা। ব্যাংকে সুদের হার বাড়ায় বিনিয়োগের খরচ আরও বেড়েছে। পুরো ব্যবসায় পরিবেশে বিরাজ করছে অনিশ্চয়তা। ফলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি শ্লথ। পোশাক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ঝুঁকি বাড়িয়েছে। বাজারে বৈচিত্র্য বাড়েনি। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ‘পাল্টা শুল্ক’-ব্যবস্থার চাপ কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার সে দেশের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করে গেছে, তার প্রভাব মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ তো আছেই। এদিকে বিনিয়োগ বাড়াতে দেশের মধ্যে অর্থের সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী ব্যাংকব্যবস্থা নড়বড়ে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, সুশাসনের ঘাটতি এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে ব্যাংক খাত বিপর্যস্ত। অনিয়মিত ঋণ, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি এবং ঋণখেলাপি সংস্কৃতি সমস্যা বাড়িয়েছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ ক্রমবর্ধমান। অনেক ব্যাংক পড়েছে মূলধন সংকটে। ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় আস্থা কমেছে। খেলাপি ঋণ এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকির একটি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খেলাপি ঋণ কমানো ছাড়া ব্যাংক খাত স্বাভাবিক হতে পারবে না। ব্যাংক কমিশন গঠনের দাবিও উঠেছে নতুন করে। এই ইস্যুতে কী করে নতুন সরকার- সে প্রশ্ন এখন গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের সামনে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ রাজস্ব সংগ্রহের সংকট। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত এখনো মাত্র ৮ শতাংশের মতো। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে কম। বহু বছর ধরে কর সংগ্রহ কাক্সিক্ষত মাত্রায় বাড়ছে না। কর ব্যবস্থাপনায় সুশাসনও দুর্বল।
শেখ হাসিনা সরকার উচ্চ ব্যয়ে একের পর এক মেগাপ্রকল্প করতে গিয়ে দেশের ঘাড়ে বিশাল বৈদেশিক ঋণের বোঝা চাপিয়ে গেছে, যা পরিশোধের চাপ পড়েছে নতুন সরকারের ওপর। বর্তমানে সরকারের ঋণ স্থিতি প্রায় ২২ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার শেষ সময়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পে কমিশনের সুপারিশ রেখে গেছে। যার কারণে এক লাখ কোটি টাকার ব্যয় বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজস্ব আয়ের গতি সরকারের পরিচালন ব্যয় মেটাতেই সক্ষম নয়। এ অবস্থায় কী করে উন্নয়ন ব্যয়ের সংস্থান করবে এবং কীভাবে সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়াবে, তারও চাপ সইতে হবে নতুন সরকারকে।
পরবর্তী অর্থমন্ত্রীর জন্য রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার নোটেও অর্থনীতির দুরবস্থার কথা স্বীকার করেছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ‘বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঝুঁকি এবং নীতি-অগ্রাধিকার’ শীর্ষক নোটে তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘নিম্নমানের কর আদায়, উচ্চ খেলাপি ঋণ, ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি ও দুর্বল শাসনব্যবস্থা অর্থনীতির গভীরে প্রোথিত; মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চাপে প্রবৃদ্ধি কমছে এবং সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় হ্রাস পাচ্ছে। কর আদায় দুর্বল থাকায় বড় সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা কমছে এবং বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যার সুদ পরিশোধে অর্থনীতি চাপের মুখে।’ বর্তমান অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত শুক্রবার চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে ‘কঠিন ও স্থবির’ অবস্থায় রয়েছে। দারিদ্র্য বৃদ্ধির সূচক, বিনিয়োগ হ্রাস, কর্মসংস্থানের সংকোচন এবং বেসরকারি খাতে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমে যাওয়ার মতো বিভিন্ন নির্দেশক বর্তমান অর্থনীতির দুর্বলতাকে স্পষ্ট করছে। প্রাইভেট সেক্টর ঋণ গ্রহণ কমিয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে অর্থনীতি কঠিন পরিস্থিতির মুখে।
২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা
নতুন সরকার এমন একসময় দায়িত্ব নিল, যখন দেশের মোট ঋণের বোঝা দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ কোটি টাকায়। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) তথ্য বলছে, এই ঋণের মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১৬ লাখ কোটি টাকার বেশি, আর বৈদেশিক ঋণ ছাড়িয়েছে সাত লাখ কোটি টাকা। পরিস্থিতি এমন যে, পুরোনো ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারকে পুনরায় নতুন করে ঋণ নিতে হচ্ছে। শুধু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যয় হবে প্রায় ১.২৫ লাখ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের এক-চতুর্থাংশের কাছাকাছি।
আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় ক্ষত এখন ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ছয় লাখ ৪৪ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১৬ শতাংশ এখন খেলাপি। ব্যাংকগুলোর ওপর সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট এবং মূলধন ঘাটতি পুরো খাতকে অস্থির করে রেখেছে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘নতুন সরকারকে ঋণ পরিশোধসূচি বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করতে হবে। কারণ, প্রতিবছরই দেখা যায়, বিদেশি ঋণ পরিশোধের জন্য ইআরডি যে প্রাক্কলন করে, তার চেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সরকারকে দায়িত্ব নিয়ে শুরুতেই সংশোধিত বাজেট পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে, যাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রক্ষেপণগুলো বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। একই সঙ্গে তাদের নির্বাচনি ইশতিহার পূরণে নতুন বাজেট প্রণয়নে বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে। তা না হলে প্রথম বাজেট দেখেই মানুষের মধ্যে হতাশা চলে আসবে।’
উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের নতুন মাইলফলক
বাজারে পণ্যের আমদানি বাড়লেও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, জানুয়ারি মাসে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৭৭ শতাংশে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৭ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে গিয়ে সাধারণ মানুষ এখন দিশাহারা।
সামষ্টিক অর্থনীতির সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র হলো কর্মসংস্থান সংকট। এসডিজি বাস্তবায়নে সিটিজেন প্ল্যাটফর্মের জরিপ বলছে, ২০২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) দেশে প্রায় ২১ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছে। শিল্প ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি বাড়লেও নতুন কর্মসংস্থান হচ্ছে না। অথচ প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ তরুণ-তরুণী নতুন করে কর্মবাজারে প্রবেশ করে।
বিনিয়োগ স্থবিরতা
সরকারের আয় করার ক্ষমতা বা রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক। বর্তমানে কর-জিডিপি অনুপাত নেমে এসেছে মাত্র ৬.৮ শতাংশে, যা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনি¤œ। প্রতিবেশী দেশ ভারতের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ১৭ শতাংশ, ভুটানের ২২ শতাংশ, এমনকি নেপালেরও ২২ শতাংশের ওপরে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে মাত্র ৫৮ শতাংশ।
বেসরকারি খাতে অনাস্থা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই শুরু হয়েছিল। রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা গত দেড় বছরে কোনো বড় ঝুঁকি নেননি। এর ফলে শিল্প ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। এই অনাস্থা কাটাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত দেড় বছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৬ শতাংশে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনি¤œ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত দেড় বছর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।
রিজার্ভে স্বস্তি, এডিপির দুর্বল বাস্তবায়ন
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম-৬) অনুযায়ী এটি ২৯.৮৫ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের এই স্থিতি পরিশোধ ভারসাম্যের ওপর চাপ কিছুটা কমিয়ে দিলেও তা কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয়ের ওপর। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় এখন নিত্যপণ্য ও কাঁচামাল আমদানি বাড়বে, ফলে এই রিজার্ভও খুব স্বস্তি দেবে না। উন্নয়ন কর্মকা- বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) ব্যয় ইতিহাসের সর্বনি¤œ পর্যায়ে নেমে এসেছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল মাত্র ২১ শতাংশ, যা গত দশকের তুলনায় সবচেয়ে কম। ২০২৬ অর্থবছরের শুরুতেও একই চিত্র।
বহুমুখী চ্যালেঞ্জ নিতে হবে নয়া সরকারকে
অন্তর্বর্তী সরকার আগের আওয়ামী সরকারের রেখে যাওয়া বহু বকেয়া দায় পরিশোধ করলেও নতুন সরকারের কাঁধে আবারও বেশ কিছু আর্থিক বোঝা দিয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে বকেয়া বিদ্যুৎ বিল, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়িভাড়া, ভাতা বিতরণ এবং নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন। ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার গঠন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ফ্যামিলি কার্ড চালু করা, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বিবেচনা করাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপিকে আগামী ১০০ দিনের মধ্যেই নতুন বাজেট ঘোষণা করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রথম বাজেটেই বিএনপিকে কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে নতুন সরকারের জন্য বাজেটের অঙ্ক মেলানো কঠিন হবে। বিএনপি অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা প্রথম বাজেটেই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তারা স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় জিডিপির অনুপাতে বরাদ্দ ৫ শতাংশ করার কথা বলেছে, ফ্যামিলি কার্ড চালু করা এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করার অঙ্গীকার করেছে। এসব উদ্যোগে সরাসরি ও বিপুল সরকারি ব্যয় প্রয়োজন হবে।’
ড. জাহিদ আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে বিএনপি ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে আসার অঙ্গীকার করেছে। এর অর্থ হলো, বাজেট ঘাটতি সীমিত রাখবে। বিএনপি সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো দেওয়ারও অঙ্গীকার করেছে। তবে সুপারিশ করা নতুন বেতন কাঠামোর এক-তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন করা হলেও অতিরিক্ত ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। তাই রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে না পারলে, নতুন সরকারকেও ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। আবার সরকার ঋণগ্রহণ বাড়ালে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ আরও কমবে। বর্তমানে তা কমে ৬ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।’





