অন্য ১০টা দিনের মতো গতকাল শনিবার সকালেও নিয়মমাফিক কাজকর্ম দিয়ে শুরু হয় ইরানের রাজধানী তেহরানবাসীর। এর মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (ইরনা) জানায়, রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ঘন ধোঁয়া দেখা গেছে। পরে জানা যায়, এই ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বোমা হামলার বিস্ফোরণ। ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের জমহৌরি এলাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে। এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলের হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত হয়েছেন। পরে ইসরায়েলি সরকার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার দায় স্বীকার করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে দেশটির জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। পরে ইরানও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় তিন দফা বৈঠকেও কোনো সিদ্ধান্ত না হওয়ায় ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কেননা, ফলপ্রসূ কোনো চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চলবেÑ এমন হুঁশিয়ারি আগেই দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে গত বছরের মতো মধ্যপ্রাচ্যে ফের নতুন যুদ্ধ শুরু হলো বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলায় ইতিমধ্যে উত্তাল হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় একটি স্কুলে ৭০ শিক্ষার্থী এবং ইরানের পাল্টা হামলায় আবুধাবি ও বাগদাদে ৩ জনসহ মোট ৭৩ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া আহতের বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। ইতিমধ্যে ইরান ও ইসরায়েল তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে যুদ্ধ বাধার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে আলোচনা চলমান থাকার মধ্যে ইরানের ওপর যৌথ হামলাকে ইসরায়েলের ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন এক ইরানি বিশ্লেষক। বলপ্রয়োগে ইরানকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তিতে বাধ্য করা বা ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনে ট্রাম্পের এমন সমারিক হামলা সমাধান দেওয়ার পরিবর্তে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের শঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলা
শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তর ও পূর্ব অংশে আরও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর আগে শহরটির বিভিন্ন অংশে বিস্ফোরণের খবর আসে। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবর অনুযায়ী, ইরানের পাঁচটি শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শহরগুলো হলোÑ তেহরান, ইস্পাহান, কোম, কারাজ ও কেরমানশাহ। সংবাদ সংস্থাটির খবরে আরও বলা হয়, ইরানের রাজধানী তেহরানের ‘ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট’ ও ‘রিপাবলিক’ এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। হামলার শিকার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলো হলোÑ গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ও পারচিন সামরিক স্থাপনা।
হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাৎজ এটিকে ‘আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা’ (প্রি-এম্পটিভ অ্যাটাক) বলেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়েছে। ইসরায়েলের হঠাৎ হামলার পর ইরানের পুরো আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে হামলার পর তেহরানের বেশ কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইরান ভয়াবহ জবাব দেবে। ইরানের সরকারি এক কর্মকর্তা জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বর্তমানে তেহরানে নেই। তাকে একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনাসহ একাধিক নিউজ ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা হয়েছে। আল জাজিরা বলেছে, ইরনার টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট এখনো সচল আছে, তবে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছে না।
ইরানের এক স্কুলের ৭০ শিক্ষার্থীসহ নিহত ৭৩
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরে অবস্থিত একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য নিশ্চিত করে।
সংস্থাটি জানায়, এই হামলায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিনাবের এই প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইরানের ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অন্তত একজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। এ হামলাকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের ‘চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, নজিরবিহীন এই হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে তাদের। অন্যদিকে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইরাকে দুজন নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা আঘাত
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার বিপরীতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত ও কাতারের বিভিন্ন স্থানে এই হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যা পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজধানী মানামাসহ বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছে এবং নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বাহরাইনের জাফায়ার এলাকায় অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটির কাছ থেকে ধোঁয়ার কু-লী উড়তে দেখা গেছে। পরে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর লক্ষ্য করে একটি ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে কুয়েত থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। আল জাজিরা অ্যারাবিক জানিয়েছে, কুয়েতে সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের সতর্ক করা হচ্ছে এবং দেশজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে কাতারের রাজধানী দোহায়ও। তবে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিকে লক্ষ্য করে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে।
একযোগে একাধিক উপসাগরীয় দেশে এ ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান ও কুয়েতে ইরানি হামলার ‘কঠোর ভাষায়’ নিন্দা জানিয়েছে সৌদি আরব। ‘রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং আন্তর্জাতিক আইনের নীতি’ লঙ্ঘনের জন্য ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে সৌদি আরব।
ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাতে ট্রাম্পের আহ্বান
ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা উৎখাত করতে দেশটির জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক ভিডিও বার্তায় তিনি ইরানিদের এই সুযোগ (ইসরায়েল-মার্কিন হামলা) কাজে লাগিয়ে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে আসে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের অভিযান শেষ হলে আপনারা আপনাদের সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিন। এটি আপনাদেরই হবে। আগামী কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সম্ভবত এটাই আপনাদের জন্য একমাত্র সুযোগ।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বারবার একটি চুক্তি করতে চেয়েছিলাম। আমরা চেষ্টা করেছি।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে যাচ্ছি এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্রশিল্প মাটিতে মিশিয়ে দিতে যাচ্ছি। এটি সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’ ইরানের হুমকি থেকে ইউরোপকেও রক্ষা করছেন বলে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা ইউরোপকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘এই দুষ্ট উগ্র একনায়কতন্ত্রের হাত থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।’
‘আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার ইসরায়েলি ষড়যন্ত্র’
আরব সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি স্টাডিজের ইরানি স্টাডিজ ইউনিটের পরিচালক এবং কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহরান কামরাভা বলেছেন, তিনি কখনোই ভাবেননি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আক্রমণ করবে। ইসরায়েল মার্কিন-ইরান আলোচনা ভেস্তে দেওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বেশ সোচ্চার। কামরাভা আল জাজিরাকে বলেন, ‘গত জুনের মতো ইরান ও আমেরিকার মধ্যে আলোচনাকে পথভ্রষ্ট করার জন্য একটি আক্রমণ শুরু করেছে বলে মনে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে এমন একটি কোণে ঠেলে দিয়েছেন, যেখান থেকে তিনি পিছু হটতে পারছিলেন না। তথাকথিত আর্মাডা বা বিশাল সামরিক আয়োজন গত দেড় বছর ধরে ইসরায়েলের জন্য ক্রমাগত সবুজ সংকেত। আমি মনে করি, অনেক উপায়ে এটা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। আবারও আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তা হলো, ইসরায়েলিরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে জোর করে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে এবং তিনি এই মুহূর্তে তাদের আসলে না বলতে পারেননি।’
যৌথ হামলা প্রত্যাখ্যান স্পেনের, রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনার আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র আসলে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে। এমনটাই মনে করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র দিমিত্রি মেদভেদেভ।
বর্তমানে রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মেদভেদেভ। তিনি বলেন, ‘শান্তির দূত আরও একবার নিজের আসল চেহারা দেখিয়েছেন। ইরানের সঙ্গে যত আলোচনা, সবই ছিল অভিযান আড়াল করার কৌশল। এ নিয়ে কারো কোনো সংশয় নেই। কেউ সত্যিকার অর্থে কোনো কিছুতে একমত হতে চায়নি।’
অন্যদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘একতরফা’ সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ‘এটি উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং আরও অনিশ্চিত ও প্রতিকূল বিশ্বব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে পোস্ট করা এক বিবৃতিতে সানচেজ আরও জানান, তিনি ইরান সরকার ও রেভল্যুশনারি গার্ডের কর্মকা-কেও প্রত্যাখ্যান করেন।
আকাশসীমা বন্ধ করেছে বিভিন্ন দেশ
ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং তেহরানের পাল্টা হামলার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তুরস্কের বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা টার্কিশ এয়ারলাইনস তাদের কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক, ইরান ও জর্ডানগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। কাতারভিত্তিক বেসামরিক বিমান পরিবহন সংস্থা কাতার এয়ারওয়েজ তাদের দোহা থেকে ছেড়ে যাওয়া এবং দোহাগামী সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে বাতিল করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দেওয়া বিবৃতিতে কাতার এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দিয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘যখন স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, ফ্লাইট সময়সূচিতে বিলম্ব দেখা দেবে বলে আমাদের ধারণা।’
বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্লাইট স্থগিত
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে যুদ্ধ বাধার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে বলে শনিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।’

