ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

১৩৩ অধ্যাদেশ যাচাই

গণভোটসহ অন্তর্বর্তী সরকারের জারি ২০টি বাতিলের সুপারিশ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০১:১৫ এএম

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে গণভোটসহ ২০টি অধ্যাদেশ বাতিল করার সুপারিশ করেছেন জাতীয় সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটির সরকারপক্ষের সংসদ সদস্যরা। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয় স্থাপন অধ্যাদেশসহ চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণের সুপারিশ রয়েছে। তবে এই কমিটির বিরোধীদলীয় তিনজন সদস্য এসব অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে তাদের নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে অধ্যাদেশ বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উত্থাপন করেন সভাপতি জয়নুল আবেদীন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ সংসদে এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ এবং চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণের বিল আনার জন্য কমিটি সুপারিশ করেছে, যার মধ্যে ১৪টিতে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়েছে বিরোধী দল। ১২ এপ্রিলের মধ্যে বিল আকারে অনুমোদন না হলে অধ্যাদেশগুলো লোপ পাবে। বাকি ১১৩টির মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু বিল আকারে উত্থাপন এবং বাকি ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে।

চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণের সুপারিশ করা হয়েছে। অধ্যাদেশগুলো হলোÑ জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪; সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।

নতুন করে বিল আকারে উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করা ১৬টি অধ্যাদেশের কয়েকটি হলোÑ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪; রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫; রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫; গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫; গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫; জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬; মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬; তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।

বিরোধী দলের আপত্তি না থাকা অধ্যাদেশগুলো হলোÑ মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫; বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬; বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৬।

১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কোথায় কী সংশোধনী আনা হবে, তা বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এগুলো হলোÑ ২০২৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ, কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সেকেন্ড অ্যামেন্ডমেন্ট), জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ সালের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) অধ্যাদেশ এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ।