গুমসংক্রান্ত নতুন করে পৃথক আইন বা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রয়োজনীয়তা ছিল না। বিদ্যমান ট্রাইব্যুনাল আইনেই এ ধরনের অপরাধের বিচার সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। গতকাল মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গুম অধ্যাদেশে যেসব অপরাধের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, সেগুলো আগেই ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদি গুম অধ্যাদেশ বাতিল করে তা ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে একীভূত করা হয়ে থাকে, তবে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত।
চিফ প্রসিকিউটর মনে করেন, গুম অধ্যাদেশের আওতাধীন যে অপরাধটি ছিল, এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনাল আইনে সেটি সংবিধিবদ্ধ ছিল। এ আইনে যে গুমের অভিযোগ বিচারের এখতিয়ার ছিল, সেখানে আরেকটি আইন ও ট্রাইব্যুনাল গঠন করার প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে আমার কাছে মনে হয়নি। অর্থাৎ গুমের বিচার ট্রাইব্যুনাল আইনেই সম্ভব।
তিনি বলেন, গুম অধ্যাদেশ যদি বাতিল হয়ে থাকে এবং ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে ট্যাগ করে দেওয়া হয়, তাহলে আইনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ এই গুম অধ্যাদেশটা একটি অপ্রয়োজনীয় আইন ছিল বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আইনের সঙ্গে একীভূত হওয়াটা ভালো কাজ হয়েছে। এটি সঠিক ও যথার্থ হয়েছে বলেও মনে করেন চিফ প্রসিকিউটর।
এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের বিচারের পথ সুগম করতে জাতীয় সংসদে ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস (সংশোধন) বিল ২০২৬’ পাস হয়েছে। সংশোধনের মাধ্যমে গুমকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সংসদ অধিবেশনে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

