ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

আজ শুরু পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মে ২৫, ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া হাজিরা গতকাল রাতেই মিনার পথে রওনা হচ্ছেন। আজ সোমবার সকাল থেকে মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র হজের মূল কার্যক্রম। গতকাল রোববার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সৌদি সরকারের নির্দেশনা মেনে হাজিদের মিনায় গমন সহজ ও নিরাপদ করতে আজ রাতেই তাদের পাঠানো শুরু হবে। মক্কাস্থ বাংলাদেশ হজ অফিস ও সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলো ইতোমধ্যে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের মিনায় পাঠানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

শরিয়তের বিধান অনুসারে হাজিরা ৮ জিলহজ মিনায় অবস্থান করে ফজর থেকে এশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। মিনায় রাতযাপন শেষে ৯ জিলহজ (মঙ্গলবার) আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হবেন তারা। সেখানে এ বছর হজের খুতবা দেবেন মসজিদে নববির প্রধান ইমাম ও খতিব শায়েখ আলি বিন আবদুর রহমান আল-হুযাইফি। খুতবার পর হাজিরা একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করবেন। সূর্যাস্ত পর্যন্ত এখানেই অবস্থান করবেন হাজিরা। শরিয়তের বিধানানুসারে আরাফাতে অবস্থান করাই হজ।

৯ জিলহজ সূর্যাস্তের পর মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা দেবেন হাজিরা। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ শেষে উন্মুক্ত আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন। পরদিন ১০ জিলহজ সূর্যোদয়ের আগে মুজদালিফা থেকে মিনায় যাবেন হাজিরা এবং শুধু বড় জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। এরপর মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় পশু কোরবানি দেবেন এবং মাথা মু-ন কিংবা চুল ছোট করবেন। ১১ ও ১২ জিলহজ হজের বাকি আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে মিনা ত্যাগ করবেন হাজিরা।

এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১৬ থেকে ১৮ লাখ মুসলমান হজ পালন করবেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৭৮ হাজার মানুষ হজ পালন করছেন।

উল্লেখ্য, ইসলামের মূল স্তম্ভসমূহের পঞ্চমটি হলো হজে বায়তুল্লাহ। ইমান, নামাজ, জাকাত ও রোজার পরই হজের অবস্থান। হজ মূলত কায়িক ও আর্থিক উভয়ের সমন্বিত একটি ইবাদত। তাই উভয় দিক থেকে সামর্থ্যবান মুসলিমের ওপর হজ পালন করা ফরজ। অর্থাৎ, হজ আদায়ে সক্ষম এমন শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচাপাতি ও আসবাবপত্রের অতিরিক্ত হজে যাওয়া-আসার ব্যয় এবং হজ আদায়কালীন সাংসারিক ব্যয় নির্বাহে সক্ষম এমন সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর হজ আদায় করা ফরজ। হজ প্রত্যেক মুসলমানের ওপর সারা জীবনে একবারই ফরজ হয়। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছেÑ আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন, ‘হে মানবসকল! আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন। সুতরাং তোমরা হজ করো।’ এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! প্রতি বছর কি হজ করতে হবে? তিনি চুপ রইলেন এবং লোকটি এভাবে তিনবার জিজ্ঞেস করল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তাহলে তা (প্রতি বছর হজ করা) ফরজ হয়ে যেত, কিন্তু তোমাদের পক্ষে তা করা সম্ভব হতো না।’ সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৩৩৭ (৪১২); মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১০৬০৭; সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৩৭০৪; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস : ২৫০৮; সুনানে নাসায়ী ৫/১১০; শরহে মুশকিলুল আছার, হাদিস : ১৪৭২; সুনানে দারাকুতনী ২/২৮১