ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

৫ আগস্টের আগেই জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৫:৫৭ এএম

আগামী ৫ আগস্টের আগেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, জাদুঘরের কিছু চূড়ান্ত কাজ, জনবল নিয়োগসহ কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলেই এটি উদ্বোধন করা হবে। কিছু চূড়ান্ত কাজ বাকি রয়েছে। জনবল নিয়োগসহ কয়েকটি বিষয় সম্পন্ন করা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান এ কথা বলেন। তিনি জানান, আসন্ন অগাস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা (রোডম্যাপ) প্রণয়ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পৃথক রোডম্যাপ করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে এগুলো চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হতে পারে।

জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘর নিয়ে আলোচনা চলছে। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, ৫ আগস্টের আগেই জুলাই জাদুঘরের উদ্বোধন হবে। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়া সফর করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর ছিল চীন। আবার বিভিন্ন পর্যায়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকা দেশগুলোর সঙ্গেও প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পর্ক বজায় রাখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তান ও তুরস্ক সফর করবেন কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে অবশ্যই যাওয়া হবে। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে সরকারের দ্বিধা নেই। জাতীয় স্বার্থই এখানে মূল বিবেচ্য। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে রপ্তানিমুখী বিনিয়োগের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল (ইপিজেড) রয়েছে। একই সঙ্গে সরকার রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দীর্ঘদিন আমরা একটি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিলাম, যা ঝুঁকিপূর্ণ। এখন রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি দেশীয় বিনিয়োগও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দামে গম আমদানির অনুমোদন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এর অংশ হিসেবে কিছু পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি পরিমাণে কেনার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে তৈরি পোশাকের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ত। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। তাদের আয় শুধু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনই নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখে। জাহেদ উর রহমান বলেন, গার্মেন্টস খাত সচল থাকলে এর সুফল অন্যান্য খাতেও ছড়িয়ে পড়ে। তাই সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং জনগণ বিষয়টি উপলব্ধি করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নির্বাচন কমিশনের বরাত দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সারা দেশকে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পার্বত্য ও উপকূলীয় অঞ্চল, নদীপ্রধান ও চরাঞ্চল এবং সমতল ও শহরাঞ্চলÑ এই চার ভাগে ভাগ করে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করবে ইসি। জাহেদুর রহমান বলেন, ‘এটা একটা খুবই আলোচিত ইস্যু ছিল আমাদের সব সময়, সেটা হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আদৌ হবে কি না। কেউ কেউ এভাবে বলার চেষ্টা করতেন, যেহেতু ওখানে অনেক ক্ষেত্রেই প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।

আমরা রিপিটেডলি বলেছি, আমাদের মন্ত্রী সব সময় বলেছেন যে, এটা এই বছরের মধ্যেই শুরু হবে এবং আপনারা জানেন, নির্বাচন হওয়ার জন্য একটা বিশেষ সময় লাগে। আমরা চেষ্টা করি বেশিসংখ্যক নির্বাচন শুষ্ক মৌসুমে করার, শীতের মৌসুমে করার।

এ বছরের অক্টোবরের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো শুরু করা গেলে পরের বছরের অক্টোবর নাগাদ সব নির্বাচন শেষ হতে পারে বলে ধারণা দেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সোমবার এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, আসছে অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। কখন কোন নির্বাচন হবে, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি। ‘সবগুলো (সিটি, পৌর, উপজেলা, জেলা ও ইউপি) নির্বাচন একসঙ্গে করা যাবে না। কোনটা বেশি দরকারÑ সরকারের সঙ্গে এসব বিষয়ে আমাদের আলাপ-আলোচনা হবে। তার ভিত্তিতে আমরা তপশিল ঘোষণা করব।’ আগামী সপ্তাহ থেকে ইসি সচিব এ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে হালনাগাদ তথ্য দেবেন বলেও জানিয়েছিলেন ইসি সানাউল্লাহ।