ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬

দুর্ভোগে দেড় হাজার মানুষ

পুকুরে বিলীন হচ্ছে রাস্তা

বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৭:০৮ এএম

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের লাউতাড়া গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি এখন চরম জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামের সরদারপাড়ার মোড় থেকে লিয়াকতের বাড়ি পর্যন্ত আনুমানিক এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঁচা-পাকা রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন। ফলে বর্ষা মৌসুমে এটি সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন এলাকার সাধারণ মানুষ, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণির মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু বর্তমানে রাস্তার দুই পাশে থাকা ৩টি পুকুরের কারণে সড়কটি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পুকুরগুলোর পাড় বাঁধাই না থাকায় পানির স্রোতে রাস্তার দুই পাশের বড় অংশ ভেঙে পুকুরের পেটে চলে গেছে। ফলে রাস্তাটি এতটাই সংকীর্ণ ও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে যে, বর্তমানে সেখানে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। জরুরি চিকিৎসা কিংবা কৃষিপণ্য বহনে এলাকার মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পুকুর ঘেঁষে থাকা এই সরু রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্কুল শিক্ষার্থী মরিয়ম বেগম ও আবু আহমেদ জানায়, ‘আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে স্কুল-মাদ্রাসায় যাই। পা ফেলতেই ভয় লাগে, কখন জানি পুকুরের মধ্যে পড়ে যাই! মাঝেমধ্যে ভাঙাচোরা ইটের সলিংয়ে পা আটকে যায়। সরকারের কাছে আবেদন, পুকুরের পাড় বেঁধে যেন এই রাস্তাটি পাকা করে আমাদের কষ্টের অবসান ঘটানো হয়।’

রাস্তাটি দ্রুত পাকাকরণ ও টেকসই গাইড ওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করার দাবিতে গত সোমবার শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন দাখিল করেছেন লাউতাড়া গ্রামবাসী। গ্রামবাসীর পক্ষে আবেদনটি জমা দেন এলাকার প্রতিনিধি মো. শাহীন হোসেন।

মো. শাহীন বলেন, ‘ভোগান্তির চিত্র শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়; এলাকার সামাজিক ও চিকিৎসাব্যবস্থাও এই একটি রাস্তার কারণে ভেঙে পড়েছে। কোনো মানুষ হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার কোনো উপায় থাকে না। এমনকি যাতায়াতব্যবস্থার এই করুণ দশার কারণে এই পাড়ার ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতেও অনীহা প্রকাশ করে। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে ছেলে-মেয়েদের হাত ধরে বা কোলে করে এই বিপজ্জনক রাস্তাটুকু পার করে দেন।’

শার্শার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ রাস্তার জন্য একটি আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রাস্তাটি নির্মাণের জন্য এলাকার লোকজন এসেছিলেন। আমি তাৎক্ষণিকভাবে গ্রামবাসীর প্রতিনিধিকে আশ্বস্ত করে বলেছি, জনস্বার্থে রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণ করা প্রয়োজন। আগামীতে বাজেটপ্রাপ্তি সাপেক্ষে রাস্তাটি পাকাকরণ ও সংস্কারে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’ লাউতাড়াবাসীর আশা, প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপে এই এক কিলোমিটার রাস্তার দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের স্থায়ী অবসান ঘটবে।