অতিবর্ষণে শ্রাবণ মাসে সব ধরনের সবজির দাম খুচরা পর্যায়ে বেড়েছে। ঢাকায় সবজির দাম কেজিতে অন্তত ২০ টাকা বেড়েছে। কাঁচা মরিচের দাম এখন ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে ডিম ও মাছের দামও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, টানা কয়েক দিনের অতিবৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় সরবরাহ সংকটে ঢাকার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সরবরাহ কমায় সবজির দাম বেশি বেড়েছে। এতে চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।
পণ্যের দামের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পরে সারা দেশ থেকে পণ্যের সরবরাহ বাড়লেই দাম কমবে। ঢাকার পাশের জেলাগুলো থেকে এখন আগের মতো মাছ-সবজি আসতে পারছে না। আসা শুরু হলেই আগের দামে ফিরবে বলে জানান তারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডিম প্রতি ডজনে ২০ টাকা বেড়ে খুচরা পর্যায়ে এখন ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে মোটা চালের দাম না বাড়লেও সুগন্ধি ও চিকনÑ সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। চালের মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মিলারদের হাত রয়েছে বলে মনে করেন কারওয়ান বাজারের চাল ব্যবসায়ীরা।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার ও খিলগাঁও কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
মাছের দামের বিষয়ে ঢাকার ব্যবসায়ী আরিফ সরদার বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাছ আসছে কম, যার কারণে দাম বেশি। ছুটির দিনে গতকাল মগবাজারে কথা হয় বাজার করতে আসা মেহেদি হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন পণ্যের দাম বাড়ে, দাম বাড়লে আর কমে না। এখন বৃষ্টির দোহাই দিয়ে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো। সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি সবজির দাম অন্তত ২০ টাকা বেড়েছে। মগবাজারে খুচরা দোকানে কয়েক দিন আগে প্রতি কেজি বেগুনের দাম ছিল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, তা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। ঝিঙা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দলের দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, এখন ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলার দাম ছিল ৪০ থেকে ৬০ টাকা, তা এখন ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৪০ টাকার পটোল ৬০ টাকা কেচি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ১২০ টাকার কাঁচামরিচের দাম উঠেছে ২০০-২৫০ টাকা কেজি।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাঝারি ও বড় আকারের মাছের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। চাষের রুই ও কাতলার মতো মাছ গত সপ্তাহে যেগুলো ৩৫০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছিল, আজ তা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। নি¤œ ও মধ্যবিত্তের ভরসা হিসেবে পরিচিত তেলাপিয়া ও পাঙাশের দামও বেড়েছে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা।
শুধু মাছ কিংবা সবজিই নয়, বেশ কিছুদিন ধরে স্থিতিশীল থাকা ফার্মের মুরগির ডিমের দামও এখন বেশ চড়া। ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা ডজন দরে বিক্রি হওয়া ফার্মের ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ১৩৫ টাকায়।
গত দুই সপ্তাহ ধরে বেড়ে আছে ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, যা আগে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে পাওয়া যেত। বাজারে এখন প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় দরে। ডিম প্রতি ডজনে ২০ টাকা বেড়ে খুচরা পর্যায়ে এখন ১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ভোজ্যতেল হিসেবে সয়াবিন, আটা, চিনি ও ডালে সরবরাহ ঠিক থাকায় দাম বাড়েনি। কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন