× UCB Sticker Card
রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:১৭ এএম

বিআইডব্লিউটিএ’র নদী খনন প্রকল্প

হিসাব মিলছে না শত কোটি টাকার

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০২:১৭ এএম

হিসাব মিলছে না শত কোটি টাকার

নদী খননের নামে ১৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন নাÑ বিআইডব্লিউটিএ’র একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমে অনিয়মের একাধিক তথ্য পাওয়ার দাবি করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রকল্পের নথিপত্র পর্যালোচনা, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহে দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ না হওয়ার আলামতও মিলেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এরপরও রহস্যজনক কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেই অনুসন্ধান ঝুলে আছে। অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিআইডব্লিউটিএ এবং দুদকের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।

অভিযোগের তির বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ড্রেজিং বিভাগের তৎকালীন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দিকে। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. ছাইদুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানও দীর্ঘদিন ধরে চলমান বলে জানা গেছে। এত অভিযোগ ও অনুসন্ধানের মধ্যেই তিনি এখন বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার দৌড়ে সক্রিয়Ñ এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলোÑ যে নদী খননের জন্য শত কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, সেই নদীর নাব্য ফিরল না কেন? বরং কোথাও কোথাও আগের মতোই পলি জমে থাকার অভিযোগ উঠছে কেন? আর যদি সত্যিই প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে না হয়ে থাকে, তা হলে ১৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বিল কীভাবে পরিশোধ করা হলো?

দুদকের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নেত্রকোনার কংস ও ভোগাই নদীর মোহনগঞ্জ থেকে নালিতাবাড়ী পর্যন্ত নৌপথ খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয় ‘অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং (প্রথম পর্যায়ে ২৪টি নৌপথ)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায়। কংস ও ভোগাই নদীর প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার নৌপথ খননের লক্ষ্যে একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, নদী দুটির বিভিন্ন অংশে ড্রেজিংয়ের পর শুষ্ক মৌসুমেও নির্দিষ্ট গভীরতায় পানি থাকার কথা ছিল। খননকাজে ড্রেজার, এক্সকাভেটর ও শ্রমিকের মাধ্যমে মাটি সরানোর পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে এসব কাজের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

দুদকের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্রকল্পের প্রাক্কলনে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ড্রেজিং ধরা হয়েছিল। আবার দরপত্রে এক্সকাভেটরের মাধ্যমে খননের যে ব্যবস্থা ছিল, বাস্তবে তার যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার পরও যেসব এলাকায় নির্দিষ্ট গভীরতায় পানি থাকার কথা, সেসব স্থানে পলি জমে থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব বিষয় থেকে প্রকল্পের কাজ বাস্তবে কতটা হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

এ অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি দল অনুসন্ধানে নামে। সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহের পাশাপাশি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গেছে। অনুসন্ধান এখন খননকাজের পরিমাণ ও মাটির হিসাব যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে অনুসন্ধানের অগ্রগতি নিয়ে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে রাজি হননি।

নদী খনন, নাকি বালু উত্তোলনের মহোৎসব : প্রকল্পটির আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো, নদী খননের নামে স্থানীয়ভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির একটি চক্র গড়ে ওঠে। জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পাওয়ার পর নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। সেই বালু বিক্রি করে বিপুল অর্থ আয় হলেও নদী খননের প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ঠিকাদাররা বিল তুলে নিলেও নদীর কাক্সিক্ষত গভীরতা ও নাব্য ফিরিয়ে আনা যায়নি। ফলে একই প্রকল্পে একদিকে সরকারি অর্থ ব্যয়ের দাবি, অন্যদিকে বালু বিক্রির মাধ্যমে অতিরিক্ত মুনাফাÑ দুই দিক থেকেই লাভবান হয়েছে সংশ্লিষ্ট চক্র।

তথ্যমতে, বিআইডব্লিটিএ’র কার্যাদেশ পাওয়া স্থানীয় বালুদস্যুরা বল্কহেড দিয়ে কংস ও ভোগাই নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনে উঠেপড়ে লাগে। এই বালু বিক্রি হয় কোটি কোটি টাকায়। সূত্র জানায়, এর বড় ভাগ যায় বিআইডব্লিটিএ’র সংশ্লিষ্ট কিছু অসাধু প্রকৌশলীর পকেটে। এ হিসাবে নদী খননে বরাদ্দকৃত কোনো অর্থই খরচ হওয়ার কথা নয়। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে তুলে নিয়েছে বরাদ্দের অর্থ। বিআইডব্লিউটিএ’র এই অর্থ ভাগ-বাটোয়ারা হতো পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, বিআইডব্লিউটিএ’র মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে।

দুদক সূত্র জানায়, সে সময় ভোগাই ও কংস নদী খননের নামে অর্থ আত্মসাতের বিভিন্ন রেকর্ড তাদের হাতে আসে। প্রাপ্ত রেকর্ডপত্রের ভিত্তিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক, বিআইডব্লিউটিএ’র মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী এবং দুই নির্বাহী প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদও করে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণও আছে দুদকের হাতে। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় তারা এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

১৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পে কার দায় কতটুকু : অভিযোগের মূল কেন্দ্রে থাকা প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকল্পের বিভিন্ন রেকর্ড এরই মধ্যে জব্দ বা সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদও হয়েছে। এসব নথি বিশ্লেষণ করে অনিয়মের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, প্রকল্পের অনিয়মের দায় শুধু মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের, নাকি এর সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও যোগসূত্র রয়েছে? প্রকল্পের অনুমোদন, প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, কাজের পরিমাপ, বিল অনুমোদন, প্রতিটি ধাপে কারা দায়িত্বে ছিলেনÑ সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

দুদকের অনুসন্ধানে কেন দীর্ঘসূত্রিতা : ১৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের পাশাপাশি ছাইদুর রহমান ও তার স্ত্রী শামিমা আক্তার এবং বিআইডব্লিউটিএ’র উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সম্পদ নিয়েও দুদকের অনুসন্ধান চলছে বলে জানা গেছে।

সূত্রের দাবি, বিগত ২০২০ সালে সংশ্লিষ্টদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল ও জিজ্ঞাসাবাদও হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অনুসন্ধানের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

দুদকের নথি-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই অনুসন্ধানে একাধিক কর্মকর্তা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে নথি দুদকের প্রধান কার্যালয়েও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কেন বছরের পর বছর অনুসন্ধান শেষ হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সম্পদ বিবরণীতে অসঙ্গতির অভিযোগ : ছাইদুর রহমানের পুরোনো আয়কর নথি পর্যালোচনার দাবি করে অভিযোগকারীরা বলেন, সেখানে তার সম্পদ ও আয়ের উৎস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে স্বর্ণ বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ পাওয়ার যে তথ্য আয়কর নথিতে দেখানো হয়েছে ওই রসিদের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আয়কর নথিতে স্বর্ণ বিক্রির যে প্রতিষ্ঠানের রসিদ দেখানো হয়েছে, সরেজমিনে সেই ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট নামে কোনো দোকানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট ও কুড়িগ্রামে বিপুল বিনিয়োগের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব সম্পদের মালিকানা ও অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি দুদক।

রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন : ছাইদুর রহমানের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও বিআইডব্লিউটিএ’র ভেতরে আলোচনা রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপিপন্থি কর্মকর্তাদের সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও কীভাবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বহাল রয়েছেন এবং এখন প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন?

প্রধান প্রকৌশলীর দৌড়ে ছাইদুর : ছাইদুর রহমান এত বিতর্কের মাঝেও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। জানা যায়, সরকারের উচ্চপদস্থ একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা তার ঘনিষ্ঠজন। ওই কর্মকর্তার সুপারিশেই তিনি তার দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছেন। তবে তাকে ড্রেজিং বিভাগ থেকে সরিয়ে ঢাকা অফিসের প্রকৌশল বিভাগে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সব অভিযোগের মধ্যেই বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান প্রকৌশলী পদে ছাইদুর রহমানের সম্ভাব্য নিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, যার বিরুদ্ধে নদী খনন প্রকল্পে শত কোটি টাকার অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে, তাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলে তা কি তদন্তকে প্রভাবিত করবে না?

জবাবদিহি কোথায় : নদী খননের নামে ১৩৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের পরও যদি নদীর নাব্য না ফেরে, তা হলে সেই অর্থের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। সরকারি প্রকল্পের টাকা ব্যয় হয়েছে কি নাÑ এটি একমাত্র প্রশ্ন নয়; বরং কাজটি বাস্তবে কতটুকু হয়েছে, তার পরিমাপ কীভাবে হয়েছে এবং সেই পরিমাপের ভিত্তিতে বিল কে অনুমোদন করেছেÑ এসব প্রশ্নের উত্তরও জরুরি।

দুদকের অনুসন্ধানে যদি সত্যিই অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবেÑ এটাই প্রত্যাশা। একই সঙ্গে অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অবৈধ সম্পদ ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগও নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ নদী খননের টাকা জনগণের টাকা। সেই টাকা নদীর বুকে গেছে, নাকি কারো পকেটেÑ তার উত্তর পাওয়ার অধিকার জনগণের রয়েছে।

অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. ছাইদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তার দপ্তরেও গিয়ে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল দিয়ে এবং এসএমএস পাঠিয়েও তার কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

তবে বিআইডব্লিউটিএর জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ছাইদুর রহমানকে ড্রেজিং শাখা থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো এখন পর্যন্ত আগের অবস্থানেই আছে। আপডেট কিছু নেই বলে তিনি জানান।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!