ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

কারাফটক থেকে সাক্ষাৎ কক্ষ, এবার স্বস্তির যাত্রা

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৬:৪৬ এএম
ছবি : রূপালী বাংলাদেশ

কারাবন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা স্বজনদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ। কারা কল্যাণ তহবিল থেকে প্রায় ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে আধুনিক গলফকার ক্রয় করে তা চালু করা হয়েছে। এরই মধ্যে এই সেবা দর্শনার্থীদের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে।

দীর্ঘদিন ধরে কারাগারের মূল ফটক থেকে সাক্ষাৎ কক্ষ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে গিয়ে দর্শনার্থীরা নানা ভোগান্তির শিকার হতেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, অসুস্থ ও বয়স্কদের জন্য পথটি ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। অনেক সময় রিকশার জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হতো, আবার যানবাহন না পেয়ে হেঁটেই যেতে বাধ্য হতেন অনেকে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও ছিল কিছু রিকশাচালকের বিরুদ্ধে।

নতুন চালু হওয়া গলফকার সেবার মাধ্যমে এখন দর্শনার্থীরা দ্রুত ও সহজে নির্ধারিত সাক্ষাৎ কক্ষে পৌঁছাতে পারছেন। এতে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি শারীরিক কষ্টও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

সাক্ষাৎ করতে আসা কয়েকজন স্বজন জানান, আগে এখানে আসা মানেই ছিল বাড়তি দুশ্চিন্তা ও কষ্ট। বিশেষ করে বৃদ্ধদের জন্য পথটি ছিল খুবই দুর্ভোগপূর্ণ। এখন গলফকার চালু হওয়ায় সহজে যাতায়াত করা যাচ্ছে এবং স্বস্তি মিলছে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দর্শনার্থীদের কষ্ট লাঘব, সেবা সহজলভ্য করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। একইসঙ্গে কারাবন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রক্রিয়াকে আরও মানবিক ও সুশৃঙ্খল করতে এটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কাশিমপুর কারাগার-২এর সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, কারাগারে আসা স্বজনরা যেন অপ্রয়োজনীয় কষ্টে না পড়েন সেটিই তাদের লক্ষ্য। গলফকার সেবা সেই প্রচেষ্টার অংশ এবং ভবিষ্যতেও আরও জনবান্ধব উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সচেতন মহল এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, কারাগার শুধু শাস্তির স্থান নয়, মানবিকতার চর্চার ক্ষেত্রও হওয়া উচিত। স্বজনদের কষ্ট লাঘবে এ ধরনের পদক্ষেপ কারা ব্যবস্থাপনাকে আরও জনমুখী ও মানবিক করে তুলবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ অন্য কারাগারগুলোর জন্যও দৃষ্টান্ত হতে পারে।