শ্রমিক সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষের সময় ভাঙচুর করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বাস এবং বাস কাউন্টারও। এ সময় উভয়পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে আহত হয়েছেন অন্তত ৪ জন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
গতকাল সোমবার বেলা ২টা থেকে সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে কথা কাটাকাটি দিয়ে শুরু হলেও পরে এটি জকিগঞ্জ-জাফলং রুট এবং মিতালি পরিবহন, হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস, জগন্নাথপুর রুটের শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের আকার ধারণ করে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে টার্মিনালজুড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর রুটে চলাচলকারী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে এক নেতা মারা যাওয়ায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে স্থান না পাওয়া মোহাম্মদ শাহজাহানের পক্ষের শ্রমিকরা জোরপূর্বক কার্যালয় দখলের চেষ্টা নিয়ে উত্তেজনা চলে আসছিল।
গতকাল সোমবার কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শাহজাহানকে ধাওয়া দিয়ে জকিগঞ্জ রুটের শ্রমিকরা জগন্নাথপুর রুটের শ্রমিকদের মারধর করে। পরে জকিগঞ্জ রুটের শ্রমিকদের প্রতিহত করতে গিয়ে জাফলং রুটের শ্রমিকদের ওপর হামলা করে বসে ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচল করা মিতালি পরিবহন শ্রমিক ও হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের শ্রমিকরা। তাদের সঙ্গে অন্য রুটের শ্রমিকরা যোগ দিয়ে হামলা চালায়। এতে উভয়পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলে সব পক্ষকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী থেমে থেমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের দুজনকে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
জাফলং রুটের এক শ্রমিক অভিযোগ করেন, তারা মারামারিতে না থাকলেও মিতালি বাস শ্রমিকরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে বাস এবং কাউন্টার ভাঙচুর করে।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ব্যক্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে এই ঘটনার সূত্রপাত। এখন সব রুটের বাসশ্রমিকরা সংঘর্ষে জড়িয়েছে। কে কাকে মারছে, তা বলা মুশকিল হয়ে পড়েছে। চতুর্দিক থেকে সংঘর্ষ বেধেছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও পদক্ষেপ নিতে পারছে না। তাই পুলিশ কমিশনারকে সেনাবাহিনী পাঠাতে বলা হলে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে শ্রমিক সংগঠনের এক নেতা মারা যান। এরপর আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিষয়টি সমাধানে আলোচনা চলছে।

