স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমরা যৌথ অভিযান চালাচ্ছি। গত ১ মে থেকে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান শুরু করেছে। পুলিশের আবেদন ও সার্বিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার বাহিনীর পোশাকে পরিবর্তন এনে আগের ঐতিহ্যবাহী রূপে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা সম্পর্কিত জাতীয় কমিটির প্রথম সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এতে সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অপারেশনে থাকলেও শুধু নারকোটিক্স বিভাগই অপারেশন করে না, পুলিশ-র্যাবসহ অন্যান্য সংস্থাও এতে অংশ নেয়। দেশে মাদকের যে ছড়াছড়ি হয়েছে, এটা একদিনে হয়নি। এই অবস্থা থেকে আমরা নিষ্কৃতি পেতে জোরালো অভিযান পরিচালনা করছি। প্রতিদিনই এ বিষয়ে অগ্রগতি হচ্ছে। পুলিশও অপারেশন পরিচালনা করছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বিশেষ অপারেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। মে মাসের ১ তারিখ থেকে আমরা শুরু করেছি, সারা দেশেই চলছে। এখন মাদকের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের মধ্যে ব্যবহারকারীদের না ধরে আগে বড় চোরাচালানকারী ও সীমান্ত দিয়ে যারা মাদক আনে, তাদের আটক করার ব্যবস্থা করছি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পুলিশ বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবারও তাদের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাংবাদিকরা পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের অগ্রগতির বিষয় জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি সারা দেশে এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে যে বিদ্যমান পোশাক আছে, এটা নিয়ে কেউ সন্তুষ্ট না এবং এটার যেটা দৃশ্যমান যে এই পোশাকটা আসলে ওয়াইডলি একসেপ্টেডও হয়নি। মানানসই না শুদ্ধ বাংলায়। সে জন্য পুলিশ বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বিষয়টা বিবেচনা করেছি যে এই ড্রেসটা কীভাবে হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা একটা ঐতিহ্যবাহী ড্রেস যাতে দেওয়া যায় সেটাও বিবেচনা করেছি। আগের শার্ট যেটা কী বলব, ওপরের অংশ আগে যেটা ছিল মেট্রোর জন্য এবং সারা দেশের জন্য, সেটা আমরা বহাল রেখেছি। তবে প্যান্ট, পায়জামা সেটা আমরা খাকি ড্রেস দিয়েছি। এই হিসেবে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করে একটা গ্রহণযোগ্য পোশাক হিসেবে দিয়েছি। সেটা তাদের পরিধান করতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। কারণ এটা প্রস্তুতির বিষয় আছে, কাপড় প্রোডাকশনের বিষয় আছে, জামার বিষয় আছে। এটা এখনো আমরা অফিসিয়ালি ঘোষণা করিনি, তবে আমরা সিদ্ধান্ত দিয়েছি। আজকে ঘোষণা দিলাম।
পুলিশের ১৬ জন ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নিয়োগ, বদলি, প্রমোশন বা ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশনÑ এগুলো মন্ত্রণালয়ের রুটিন কাজ। এগুলো চলছে। এটার কোনো টাইম লিমিট নেই। এটা প্রতিদিনকার কাজ। যাদের অপসারণ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ বা প্রমাণ পেয়েছেন কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এগুলো মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হয়। কারো প্রতি যেন অবিচার না হয় আমরা সেভাবে দেখেছি।

