× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

শাহীনুর ইসলাম শানু

প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৬, ০৬:২২ এএম

অনলাইন গেমে বসছে কর

শাহীনুর ইসলাম শানু

প্রকাশিত: মে ১৫, ২০২৬, ০৬:২২ এএম

অনলাইন গেমে বসছে কর

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার ‘উচ্চাভিলাষী’ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন উৎস খুঁজছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া অনলাইন গেমিং খাতকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তথ্য অনুসারে, বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক গেমিং প্ল্যাটফর্মে স্কিন, ক্যারেক্টার, ভার্চুয়াল কয়েন ও প্রিমিয়াম সুবিধা কিনতে অর্থ ব্যয় করে থাকেন। আগামী অর্থবছর থেকে সব ধরনের গেমিং ও ভার্চুয়াল কয়েন লেনদেনে ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে গেমারদের।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে গত সোমবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এ বিষয়ক একটি প্রেজেন্টেশন দিলে মন্ত্রী তাতে সায় দেন বলে জানিয়েছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। তারা বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতিকে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা, অনলাইন লেনদেন পর্যবেক্ষণ এবং অনিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ বিদেশে চলে যাওয়া ঠেকাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনলাইন গেমিং ও ডিজিটাল সেবার ওপর কর আরোপ করা হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতও অনলাইন গেমিংয়ে ২৮ শতাংশ জিএসটি চালু করেছে। ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স ও ভ্যাট আরোপ করেছে পাকিস্তান। এদিকে ইন্দোনেশিয়া ডিজিটাল পণ্যে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের পাশাপাশি বিদেশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু করেছে।

রাজস্ব কর্মকর্তারা জানান, গেমের ভেতরে কেনাকাটা (ইন-অ্যাপ পারচেজ), সাবস্ক্রিপশন ফি, ভার্চুয়াল গেমিং কারেন্সি এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ব্যবহারকারী আন্তর্জাতিক গেমিং প্ল্যাটফর্মে স্কিন, ক্যারেক্টার, ভার্চুয়াল কয়েন ও প্রিমিয়াম সুবিধা কিনতে অর্থ ব্যয় করছেন। কিন্তু এসব লেনদেনের অধিকাংশই করের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তাদের করজালে আনার চেষ্টা করছে সরকার।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্ট্যাটিসটার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অনলাইন গেমিং বাজারের আকার বর্তমানে ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। তবে এই খাতের বড় অংশের লেনদেন এখনো কর ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তাদের ধারণা, এসব লেনদেনকে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে আনা গেলে একদিকে রাজস্ব বাড়বে, অন্যদিকে সীমান্ত পারের ডিজিটাল লেনদেন পর্যবেক্ষণও সহজ হবে। এসব লেনদেনে অন্তত ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করা হলে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় হবে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম নি¤œ পর্যায়ে থাকায় আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও রাজস্ব বাড়ানোর চাপ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডিজিটাল খাতকে নতুন কর উৎস হিসেবে দেখছে সরকার।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ব্যাংক কার্ড ও অ্যাপ স্টোরের মাধ্যমে হওয়া পেমেন্টে স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট কর্তনের ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।

তথ্য অনুসারে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো প্রতিবেশী দেশ ভারতে অনলাইন গেমিংয়ে ২৮ শতাংশ জিএসটি আরোপের ফলে সরকারের রাজস্ব বেড়েছে। অবশ্য এর ফলে গেমিং কোম্পানিগুলোর ব্যয়ও বেড়েছে। এদিকে পাকিস্তান চালু করেছে ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স ও ভ্যাট। আর ইন্দোনেশিয়া ডিজিটাল পণ্যে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় এনেছে।

অবশ্য অর্থনীতিবিদরা বলছেন, স্পষ্ট আইনি কাঠামো ছাড়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সহজ হবে না। বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, কোন গেম দক্ষতানির্ভর এবং কোনটি জুয়া বা বেটিংয়ের পর্যায়ে পড়ে, তা আগে পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করতে হবে। আইনি সংজ্ঞা স্পষ্ট না হলে কর বাস্তবায়ন বিতর্কিত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল ডাটা পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্ত শক্তিশালী নয়। ফলে বিদেশভিত্তিক গেমিং প্রতিষ্ঠান যেমন টেনসেন্ট বা অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ড থেকে কার্যকরভাবে কর আদায় করা কঠিন হতে পারে।

তার মতে, অতিরিক্ত কর আরোপ করা হলে ব্যবহারকারীদের একটি অংশ অবৈধ বা অননুমোদিত বেটিং প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকতে পারে, যা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে যাবে।

নীতিনির্ধারণ বিশ্লেষকদের মতে, শুধু কর আরোপ করলেই হবে না, এই খাতের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতিমালাও প্রয়োজন। তারা বলছেন, গেমিং প্ল্যাটফর্মের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট কর্তন এবং গেমিং ও জুয়ার মধ্যে পৃথক আইনি কাঠামো তৈরি করা জরুরি।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম মাসরুর রিয়াজ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সঠিক নীতি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তোলা গেলে অনলাইন গেমিং খাত থেকে বছরে কয়েকশ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় সম্ভব। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও আইনি প্রস্তুতি ছাড়া এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!