ঢাকা টেস্টের পর সিলেট টেস্টেও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করল বাংলাদেশ। জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে টাইগাররা। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে ২৩২ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৯০ রান করলে জয়ের জন্য পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। তার রেকর্ডগড়া ১৩৭ রানের ওপর ভর করেই বড় রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। রানের দেখা পেয়েছেন লিটন দাস আর মাহমুদুল হাসান জয়ও। দুজন যথাক্রমে ৬৯ আর ৫২ রান করেছেন।
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সফল ছিলেন খুররম শেহজাদ। ৮৬ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। এ ছাড়া ৩ উইকেট শিকার করেন সাজিদ খান। যদিও ১২৬ রান খরচ করতে হয়েছে তাকে।
গতকাল সোমবার ১৫৬ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিন ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। আগের দিন মুমিনুল হক মাঠ ছাড়তেই দিনের শেষ ঘোষণা করা হয়েছিল। ১৩ রানে অপরাজিত থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ক্রিজে নামেন মুশফিকুর রহিম। দিনের পঞ্চম ওভারে বাংলাদেশ উইকেট হারায়। শান্ত ৪৬ বলে ১৫ রান করে খুররম শাহজাদের কাছে এলবিডব্লিউ হন। রিভিউ নিয়েও টিকতে পারেননি অধিনায়ক। ক্রিজে নামেন লিটন দাস। ৪১তম ওভারের তৃতীয় বলে তার সিঙ্গেলে বাংলাদেশ লিড নেয় ২০০ রানের। দুজনে মিলে ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে প্রথম সেশন শেষ করেন। লাঞ্চের আগে বাংলাদেশের লিড ছিল ২৪৯ রানের।
লাঞ্চের পর চতুর্থ বলেই লিটন দাস পেয়ে যান ২০তম হাফ সেঞ্চুরি। ৫৪ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার এক ম্যাচে দুই ইনিংস মিলে সর্বোচ্চ রান করলেন ডানহাতি ব্যাটার। এতদিন এক ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৯৩ রান করেছিলেন লিটন, ২০২২ সালের মে মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুরে। ওইবার প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ার সেরা ১৪১ রান করেন, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫২ রান। লিটন এই টেস্টে ১৯৪ রান করার পর মুশফিকুর রহিম ১০৩ বলে ৩ চার ও ১ ছয়ে ৩০তম ফিফটি করেন।
দ্বিতীয় সেশনে নেমে নিজের প্রথম বলেই পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন তিনি। মিরপুরে ৩৩ ও ১১ রান করা এই ডানহাতি ব্যাটার সিলেটে দুটি ইনিংসেই পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছালেন। প্রথম ইনিংসে তার ব্যাটেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ায়। তার একার লড়াইয়ে ২৭৮ রান করেছিল। ১৫৯ বলে ১২৬ রান করেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৯ রানে থেমেছেন লিটন। এরপর মেহেদি মিরাজ উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ৩৯ বল খেলে ১৯ রান করেছেন তিনি।
বাকি দুই ফরম্যাট থেকে অবসর নিলেও টেস্ট ক্রিকেটে খেলে যাচ্ছেন মুশফিকুর। হয়তো তার সবচেয়ে পছন্দের ফরম্যাট এই লাল বলের ক্রিকেট। তাই তো ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়েও দুর্দান্ত ফর্মে এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। সিরিজের প্রথম টেস্টের পর দ্বিতীয় টেস্টেও তার ব্যাটে রান। সিলেটে দ্বিতীয় ইনিংসে পেয়েছেন তিন অঙ্কের দেখা।
১৭৮ বল খেলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেছেন মুশফিক। এই ইনিংস খেলতে ৯টি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। এটি টেস্টে তার ১৪তম সেঞ্চুরি। লাল বলের ক্রিকেটে এখন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ২৩৩ বলে ১৩৭ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।
মুশফিককে শেষদিকে ভালো সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তিনি ৫১ বলে করেছেন ২২ রান। এ ছাড়া তাসকিন আহমেদ ১৩ বলে ৬ ও শরিফুল ইসলাম ১২ রান করেছেন ১৫ বল খেলে।

