× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৫:৫৭ এএম

প্রতিষ্ঠিত সন্তানদের নিষ্ঠুরতা

পোকায় খাচ্ছিল বৃদ্ধ মায়ের মরদেহ

রূপালী প্রতিবেদক

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৫:৫৭ এএম

পোকায় খাচ্ছিল বৃদ্ধ  মায়ের মরদেহ

সংবাদটি নিঃসন্দেহে অমানবিক। যিনিই শুনছেন তিনিই তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করছেন সন্তানদের প্রতি। গর্ভধারিণী বৃদ্ধ মায়ের প্রতি তার প্রতিষ্ঠিত সন্তানদের এমন চরম অমানবিক আচরণে যারপরনাই সবাই ব্যথিত হয়েছেন। আর যেন কোনো মায়ের প্রতি এমন নিষ্ঠুর আচরণ না করা হয়Ñ এটাই সবার দাবি।

নূরজাহান বেগমের বয়স ৭৫ বছর। এই বয়সে তার থাকার কথা পরিবারের সবার সান্নিধ্যে। অথচ তিনিই এই বয়সে রাজধানীর একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় মেয়ের বাসার একটি কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করে আসছিলেন। অন্তত ৪-৫ দিন আগে মৃত্যু হলেও মায়ের খোঁজ নেয়নি কেউ। গত রোববার ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। ওই মরদেহে উইপোকাও দেখা গেছে। বৃদ্ধার দুই ছেলের একজন যুগ্ম সচিব এবং অপরজন বুয়েটের শিক্ষক। পুলিশ জানিয়েছে, নূরজাহান বেগমের স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি পচে গিয়ে পোকায় ধরেছিল। তবে তিনি ঠিক কবে কী কারণে মারা গেছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, পুরো বাসাটি ছিল নোংরা, পরিত্যক্ত ও অগোছালো। দুর্গন্ধ পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

গত রোববার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পল্লবী ৬ নম্বর সেকশনের ৮ নম্বর সড়কের ওই বাসা থেকে লাশ উদ্ধারের কথা জানান ডিএমপির পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির। তিনি বলেন, লাশটি দেখে মনে হয়েছে তিনি ৩-৪ দিন আগে মারা গেছেন। শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে পড়ছিল। গত সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ বলছে, বাসাটি ওই বৃদ্ধার মেয়ের। তার জামাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, যিনি বছর পাঁচেক আগে মারা গেছেন। মৃতের এক ছেলে যুগ্ম সচিব এবং আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। তারা পরিবারসহ অন্যত্র থাকতেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বুয়েটের শিক্ষক সন্তান এলেও যুগ্ম সচিব ছেলে আসেননি।

ওসি হাসান বলেন, ওই বৃদ্ধা বাসার যে কক্ষে থাকতেন, সেটি আবর্জনায় ভরা ছিল। বাসাটি খুব নোংরা ছিল। দেখে মনে হয়েছে, কয়েক বছরে কেউ সেখানে প্রবেশ করেনি। মরে কয়েক দিন পড়ে থাকলেও মেয়ে খোঁজ নেননি মায়ের। গত রোববার তার মেয়ে মাকে ডাকতে গেলে সাড়া না পেয়ে একজন নার্সকে ডাকেন। তিনি ভেবেছিলেন তার মা অসুস্থ। পরে নার্স বাসায় এসে দেখতে পান, তিনি মারা গেছেন। এরপর বের হয়ে মানুষজনকে জানালে প্রতিবেশীরা জাতীয় জরুরি সেবায় ফোন করে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

ওসি হাসান বলেন, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা মরে পচে আছেন, অথচ তিনি গন্ধও পাননি। তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতার কারণে আমরা লাশটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছি। ময়নাতদন্তের পর লাশটি তার বুয়েটের শিক্ষক ছেলে গ্রহণ করেছেন।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!