ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

মূল্যস্ফীতি সামান্য কমায় খাদ্যে স্বস্তি

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৬:৩৭ এএম

দেশের মূল্যস্ফীতির উত্তাপ মে মাসের চেয়ে গত জুন মাসে সামগ্রিকভাবে আরও কমেছে। তবে এ নিয়ে টানা তিন মাস মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশিই রয়েছে। মে মাসের ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি কমে জুন মাসে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গতকাল সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করে।

এদিকে মূল্যস্ফীতিতে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। আইএমএফ ওয়াল্ড ইকোনমিক আউট লুক ২০২৬-এর প্রতিবেদন অনুসারে মূল্যস্ফীতির শীর্ষে রয়েছে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান। মুদ্রার মান পতন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির মূল্যস্ফীতি ৪৮.৭% থেকে দাঁড়িয়েছে ৬৮.৯ শতাংশে। এরপর সিরিয়া ২৭.৫ শতাংশ, লেবানন ১৯ শতাংশ এবং মিয়ানমারে ১৮ শতাংশ। এরপরে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের আগে থাকা চারটি দেশই যুদ্ধবিধ্বস্ত।

অন্যদিকে, সার্কভুক্ত ৮টি দেশের মধ্যে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের খাদ্য এবং জ¦ালানি আমদানির উচ্চ ব্যয় ও অভ্যান্তরীণ বাজারব্যবস্থার কারণে মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি। তবে সবচেয়ে কম ০.৬ শতাংশ নিয়ে সুখে রয়েছে শ্রীলঙ্কা।

জাতিসংঘের দাপ্তরিক স্বীকৃতি অনুসারে এশিয়া মহাদেশে মোট ৪৮টি দেশ রয়েছে। তার মধ্যে মূল্যস্ফীতিতে পঞ্চম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

বিবিএসের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, জুন মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে সামান্য কমে জুনে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ হয়েছে।

গত মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের পরে, অর্থাৎ ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি। এ ছাড়া টানা তিন মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি আছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

মূল্যস্ফীতি বাড়লে সীমিত ও মধ্য আয়ের মানুষের কষ্ট বাড়ে। আয় না বাড়লেও তাদের সংসার চালানোর খরচ বেড়ে যায় বলেন তারা।

অন্যদিকে, জুন মাসে জাতীয় গড় মজুরির হার হয়েছে ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। দেশে যত মূল্যস্ফীতি হয়েছে, এর চেয়ে মজুরি কম বেড়েছে। যার কারণে বাজার থেকে পণ্য কিনতে ভোগান্তি বাড়ছে ভোক্তাদের।

দেশের বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সদ্যসমাপ্ত জুন মাসে জাতীয় পর্যায়ে সাধারণ (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট) মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর আগের মাস মে-তে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।

বিবিএসের মাসিক মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, জুন মাসে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূতÑ উভয় খাতেই মূল্যস্ফীতির হার কমেছে। জুন মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে, যা মে মাসে ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি মে মাসের ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে সামান্য কমে জুনে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ হয়েছে।

তবে চলতি বছরের চিত্র গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত বছরের জুনে (২০২৫) সাধারণ মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা এ বছরের জুনে বেড়ে ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে।

এ ছাড়া এক বছরের ব্যবধানে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুনে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা ২০২৬ সালের জুনে ৮ দশমিক ৬০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ হয়েছে।

এদিকে, ১২ মাসের চলন্ত গড় মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে উন্নতির চিত্র দেখা গেছে। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর আগের বছরের একই সময়ে (জুলাই ২০২৪ থেকে জুন ২০২৫) এই গড় হার ছিল ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ। অর্থাৎ বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমেছে।