ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬

স্বর্ণালংকার-টাকাসহ গ্রেপ্তার ৪

বাসা দেখার নামে ডাকাতি পরিকল্পনায় ছিলেন একই ভবনের গৃহবধূ

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ২৩, ২০২৬, ০৬:০১ এএম

একই ভবনে থাকেন দুই ভাড়াটিয়া। এক ভাড়াটিয়ার পরিকল্পনায় আরেক ভাড়াটিয়ার বাসায় ঘটে ডাকাতি। ডাকাতির সময় বাসা থেকে ডাকাতরা ২০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতির পর পরিকল্পনাকারী নিজেই আবার সান্ত¡না দিয়ে মামলা করান এবং মামলায় সাক্ষী হন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পরিকল্পনাকারী গৃহবধূসহ ডাকাতদলের ৪ জনকে গ্রেপ্তারের পর লুণ্ঠিত কিছু টাকা ও মালামাল উদ্ধার হলেও এখনো অধরা রয়ে গেছে আরও ৩ জন। পুলিশ তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা কামরাঙ্গীরচর এলাকায়।

গতকাল বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ বিষয়ে আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন।

ডিসি তালেবুর রহমান জানান, রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাসা দেখার কথা বলে একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কারের একটি অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন (৩৭), সজীব আলম (২৯), রিপন মিয়া (৪২) ও ফারুক খান (৫০)। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত নগদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং এক জোড়া স্বর্ণের দুল, এক জোড়া বালা, একটি ব্রেসলেট, এক জোড়া চুড়ি, এক জোড়া ঝুমকা ও এক জোড়া পাশা উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় কামরাঙ্গীরচরের মাহদীনগর এলাকায় রক্সি গলি-সংলগ্ন একটি ১০ তলা ভবনের পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে বাসা দেখার কথা বলে পাঁচজন প্রবেশ করেন। পরে ফ্ল্যাটে থাকা তিন নারীকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে প্রায় ২০ লাখ টাকা, প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও চারটি মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যান। ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে নামে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে প্রথমে মুসলিমবাগ এলাকা থেকে সজীব আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে তার বাসা থেকে লুণ্ঠিত এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে একই রাতে চাঁদ মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফারুক খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাসা থেকে আরও এক লাখ টাকা ও লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই ভবনের সপ্তম তলায় বসবাসকারী জিয়াসমিন ওরফে জেসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ডাকাতির পুরো পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব দেন ভুক্তভোগীদের ভবনেরই গৃহবধূ জিয়াসমিন ওরফে জেসমিন। জিয়ানমিন ওই ভবনেরই আরেকটি ফ্লাটে থাকেন। তিনি ডাকাত দলকে তথ্য সরবরাহ, ভবনে প্রবেশ এবং ডাকাতির পর নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সহায়তা করেন। অবাক করা তথ্য হলো, ডাকাতির পরিকল্পনকারী ও নেতৃত্ব দেওয়া গৃহবধূ জেসমিন ভুক্তভোগী পরিবারকে সান্ত¡না দিয়ে নিজেই এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাক্ষী হন। পুলিশের ভাষ্য, এ ঘটনায় মোট আটজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।