ঢাকা শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

মাথার পেছনে গুলি ছিল, পুরা  বুকটা গুলিতে ঝাঁঝরা-রক্তাক্ত: ট্রাইব্যুনালে শহিদ আবু সাঈদের বাবা

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: আগস্ট ২৯, ২০২৫, ০৬:৫৯ এএম
ট্রাইব্যুনাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী শহিদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। গুলি করে ছেলেকে হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালে এসে আসামিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানালেন শহিদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। বললেন, মৃত্যুর আগে বিচার দেখে যেতে চাই। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। 

মকবুল হোসেন আদালতকে জানান, তার ছেলে সাঈদ মেধাবী ছিলেন। তিনি পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পান। আর এসএসসিতে গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়েছে। পরে ভর্তি হন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগে।  তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই মাঠে থেকে কাজ করে বাড়ি এসে জানতে পারেন ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে শুনেন সাঈদ মারা গেছেন। ছেলের মৃত্যুর খবর এটা শুনে মাথায় তার আকাশ ভেঙে পড়ে বলেও জানান তিনি। এরপর হাসপাতালে পাঠান দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জামাইকে। প্রথমে তাদের পুলিশ সাঈদের লাশ দেখতে দেয় না। 

সাঈদের বাবা বলেন, রাত ৩টায় লাশ বাড়িতে আনি। প্রশাসন রাতেই দাফন করতে বলে। রাজি হইনি। পরদিন দুই জানাজা শেষে বাড়ির কবরস্থানে দাফন করি। তিনি বলেন, ছেলের লাশটা একবার দেখি। মাথার পেছন দিয়ে রক্ত। পুরা বুকটা গুলিতে ঝাঁঝরা, রক্ত দিয়ে মাখা। শুনেছি আমির আলী ও সুজন গুলি করছে। কয়দিন আগে শুনেছি ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়া গলা চেপে ধরে মেরেছে। ছেলে শহিদ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই। ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গেল বছর আন্দোলন যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ। ২৫ বছর বয়সি আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কও ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে, সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই হত্যাকা-ের প্রতিবাদেই সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন।