দীর্ঘ সময় ধরে অভিনয় থেকে অনেকটা দূরে রয়েছেন এক সময়ের ব্যস্ত অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস। এখন কালেভদ্রে পর্দায় দেখা মেলে তার। সর্বশেষ তাকে গত বছরের বিজয় দিবসে নতুন একটি বিজ্ঞাপনে দেখা যায়। তারও কয়েক মাস আগে তিনি হাজির হয়েছিলেন কিশোরীদের বিকাশের বার্তা নিয়ে একটি বিজ্ঞাপনে। পর্দার চেয়ে পারিবারিক জীবন ও বাবার কৃষিকাজ সামলানোর দায়িত্বে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই অভিনেত্রী।
আগের মতো অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই বলে দৈনিক রূপালী বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন মৌটুসী বিশ্বাস। তার কথায়, জীবনের এই পর্যায়ে অভিনয়ের অনুপস্থিতি তাকে তেমনভাবে নাড়া দেয় না; বরং গল্প, সময় ও জীবনযাত্রার সঙ্গে মিললেই কেবল কাজে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।
বিস্তারিত জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘অভিনয়ে আর নিয়মিত হওয়া হবে না। মাঝে মাঝে করতে পারি আবার একেবারেই নাও করতে পারি। আমাকে ঢাকা ও খুলনা মিলিয়ে থাকতে হয়। খুলনায় কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাই প্রতি মাসেই একটা নির্দিষ্ট সময় আমাকে খুলনায় থাকতে হয় সবকিছু দেখাশোনার জন্য। ঢাকায় আমার সংসার, আবার খুলনায় আমার বাবার বাড়ি দুটো সংসারই আমাকে সামলাতে হয়। খুলনা ঢাকা করতে করতেই আমার সময় চলে যাচ্ছে।’
নিয়মিতই কাজের প্রস্তাব পান বলে জানিয়েছেন মৌটুসী। তবে সেসব কাজ তাকে টানে না বলে জানান। বললেন, ‘অনেক যে বেশি ভালো কাজ হচ্ছে তা কিন্তু নয়। যারা নিয়মিত ভালো কাজ করছেন তাদের নিজস্ব একটা সার্কেল আছে, চিন্তা চেতনা আছে। আমি এসবের আগে পরে নেই। যে কারণে কাজে কম। তা ছাড়া যেসব কাজ হচ্ছে তা দেখে কখনো নিজেকে পর্দায় মিস করি না। ওসব কাজ দেখে কখনো আগ্রহও হয় না।’
এখন কাজের মাধ্যম বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওটিটিতে পুরুষ চরিত্রের বেশি কদর। এখন আমাদের দেশের অভিনয়শিল্পীরা দারুণ অভিনয় করেন। এ জন্য কখনো সংকট হয় না। আমাদের এখানে খুব যে ভালো প্রশিক্ষণ হয় তা কিন্তু নয়। মন মতো গল্প ও চরিত্র পাই না। সবকিছু মিলিয়ে নিয়মিত হওয়া মুশকিল।’
মৌটুসীর বাবা অবসরের পর খুলনায় পারিবারিক জমিতে কৃষি কাজে সময় দিতেন। দুই বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর সেই দায়িত্ব তিনি নিজেই তুলে নিয়েছেন। এই প্রকৃতির মাঝেই নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চান অভিনেত্রী।
তবে অভিনয়কে একেবারে বিদায় জানাননি মৌটুসী। সম্প্রতি ‘মাটির ওপারে’ নামে একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বানিয়েছেন আফজাল হোসেন মুন্না। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিচালকের কাছ থেকে গল্পটি শুনে এই গল্পের সঙ্গে আমি দ্রুত নিজেকে কানেক্ট করতে পেরেছি। তাই সব চিন্তা বাদ দিয়ে কাজটির সঙ্গে যুক্ত হই, কারণ আমার বিশ্বাস ছিল তিনি কাজটি সুন্দর করে তুলে আনতে পারবেন। আইশার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। এই সময় গল্পটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন কাজটি কতটুকু দর্শক গ্রহণ করবে তা জানি না। তবে এটা ভাইরাল হওয়ার মতো গল্প না। কিন্তু গল্পটা গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে ভাইরাল হওয়ার চেয়ে বেশি হচ্ছে এই সময় এসে গুরুত্বপূর্ণ গল্পের সঙ্গে থাকা।’
ভাইরালের জন্য আমরা দর্শক হারাচ্ছি কিনা জানতে চাইলে মৌটুসী বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া খারাপ না। ভাইরাল হওয়ার কারণে দর্শক বেড়েছে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে যে, একটি কাজ ভাইরাল হলে সেই প্যাটার্ন ফলো করেন অন্যরা। তখন দর্শকের মাধ্যমে আগ্রহ কমে যায়। আমি ভাইরাল হওয়া নিয়ে চিন্তিত না। আমার কিছুর চাপ নেই। আমার কমতি নেই। ঝামেলাহীন আমি।’
অভিনয় কমিয়ে দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে মৌটুসী জানিয়েছেন, অধিকাংশ গল্পের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে না পারায় অনেক প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি। পর্দায় অনুপস্থিতি নিয়ে কোনো আক্ষেপ নেই এই অভিনেত্রীর।
ওটিটির কাজ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মৌটুসী। বললেন, ‘কটি কাজ ভালো হচ্ছে তা আমি জানি না। একজনের কাছে ভালো লাগলে সেই কাজ আমার কাছে নাও লাগতে পারে। আবার তার বিপরীতও হতে পারে। ভালো মন্দ মিলিয়ে কাজ হচ্ছে। আমার মতে, ওটিটিতে এমন কিছু হয়নি যেটা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা যায়। তবে কিছু হারিয়ে যাওয়া অভিনয়শিল্পীকে ওটিটির মাধ্যমে পুনরায় কাজে পেয়েছি। এটি আরও বেশি হওয়া দরকার। ওটিটির গল্প ও চরিত্রগুলো আরও গবেষণানির্ভর হলে ভালো হতো। ওটিটিতে এমন অনেক কিছুই নেই। ভালো কাজ করা আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, গল্পটা গুরুত্বপূর্ণ।’
সব ধরনের দুর্ভাগ্য থেকে রেহাই চান এই অভিনেত্রী। সেইসঙ্গে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে স্বাধীনভাবে মানুষ হিসেবে ভয়হীন জীবনযাপন করতে চান বলে জানান মৌটুসী।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন