জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে আবারও ফিরছেন বড় পর্দায়। তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমায় তাকে দেখা যাবে আফিয়া চরিত্রে। সম্প্রতি দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিনেমা, ইন্ডাস্ট্রির সংকট এবং সাম্প্রতিক নানা ইস্যু নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় নিজের চরিত্র নিয়ে মম বলেন, ‘ হুমায়ূন আহমেদ স্যারের বনলতা এক্সপ্রেস উপন্যাসটি যারা পড়েছেন তারা ইতোমধ্যে জানেন আফিয়া চরিত্রটি কেমন। আর তানিম নূর পরিচালিত বনলতা এক্সপ্রেস-এর আফিয়া চরিত্রটি কেমন সেটা দেখতে হলে সিনেমাটি দেখতে হবে।’
কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। তার ভাষায়, ‘কাজ করার অভিজ্ঞতা অবশ্যই অনেক ভালো। নিজের যে কাজটি ভালো হয় সেই কাজটি নিয়ে দর্শকদের জানাতে আগ্রহ বোধ করি।’
আসন্ন ঈদে প্রেক্ষাগৃহে অনেক সিনেমা মুক্তি পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। তবে হল সংকট নিয়ে তার ভাবনা বেশ স্পষ্ট। মম বলেন, ‘এখন সত্যটা হচ্ছে আমাদের সিনেমা হলো কম, এই সত্যটার মুখোমুখি হতে হবে আমাদের। এটা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই দায়িত্বটা আমাদের নিতে হবে। এতদিন পর নির্বাচিত সরকার এসেছে। সিনেমা একটা দেশের জন্য জরুরি বিষয়, সেটা যেন সরকার থেকে বুঝতে পারে, এটা আমার চাওয়া থাকবে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ জন্য বিকল্প প্রেক্ষাগৃহ দেখতে হবে, যেমন বিভিন্ন অডিটরিয়াম, শিল্পকলা। এটা আমরা ছুঁয়ে দিলে মন সিনেমার সময় শুরু করেছিলাম। বিকল্প প্রেক্ষাগৃহের চর্চা তখন শুরু হয়েছিল।’
নতুন সরকারের কাছে একজন সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে মমর চাওয়া কেবল আর্থিক অনুদান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সদিচ্ছা। তিনি বলেন, ‘সিনেমার শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সদিচ্ছা থাকতে হবে। অনুদান দিয়ে সিনেমা বাঁচানো সম্ভব নয়। একটা দেশকে উপস্থাপন করতে হলে কালচার সবার আগে আসে। কালচারটা সফট পলিটিক্সের জায়গা। সেই জায়গা থেকে আমাদের দেশের সিনেমাটাকে বিশ্বের কাছে পৌঁছাতে চাই, তাহলে আমাদের যা যা দরকার তাই করা উচিত।’
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বা অনুদান নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক প্রসঙ্গে রবী ঠাকুরের উদ্ধৃতি টেনে মম বলেন, ‘যা রটে তা কিছু হলেও বটে রবীন্দ্রনাথ সেই আমলেই বলে গিয়েছেন। কেন হচ্ছে এ ধরনের সিন্ডিকেট বা কেন হচ্ছে এ ধরনের সমালোচনা? আমাদের দেশের স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার নিয়ে কখনো কথা বলার সুযোগ তৈরি হওয়ার কথা না, সেগুলো নিয়ে কেন কথা হচ্ছে সেটা খতিয়ে দেখতে হবে।’
জুলাই আন্দোলনে সরব থাকা প্রসঙ্গে মম তার স্বচ্ছ অবস্থান পরিষ্কার করেন। কাজের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়ছে কিনা, এমন প্রশ্নে তার সোজাসাপ্টা উত্তর। তিনি বলেন, ‘আমি শিল্পী হিসেবে কখনো ম্যানুফেস্ট দাঁড় করায়নি। আমি আমার গণতান্ত্রিক অবস্থান থেকে যা কথা বলার বলেছি। আমি কোনো দলের সুবিধা নেইনি, কোনো দলকে ব্যবহার করিনি, ভবিষ্যতেও ইচ্ছা নেই। যেহেতু কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই, জন্মসূত্রে এদেশের নাগরিক হওয়া বাদে, কাজের ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
সম্প্রতি শুটিং ইউনিটে সহকর্মীদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ির যে সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে মম কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বললেন, ‘সম্মান রেখেই বলছি, নিজেকে যারা নি¤œমানের বানাতে চান তারাই এইগুলো করছে, তাদেরকে নিয়ে আমি মন্তব্য করতে চাই না। শিল্পীর নিজস্ব একটা অবস্থান আছে, কে শিল্পী সেটা আপনারা আগে ঠিক করেন। আপনারা যদি সবাইকে শিল্পী বলেন তাহলে মুশকিল আছে। গণমাধ্যম কর্মীদের অনেক বড় দায়িত্ব।’
ছোট পর্দার দর্শকদের জন্য ঈদে সালাউদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় একটি নাটক নিয়ে আসছেন মম। আর নিজের ব্যক্তিগত ঈদ পরিকল্পনা নিয়ে জানালেন, ‘ঈদ ঢাকাতে আমার বাবা-মা পরিবারের সঙ্গে করব।’
জাকিয়া বারী মমর এই প্রত্যাবর্তনে ভক্তদের মাঝে বাড়তি আগ্রহ কাজ করছে। বড় পর্দা আর ছোট পর্দা, দুই মাধ্যমেই তার সরব উপস্থিতি ঈদে বাড়তি আমেজ যোগ করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন