ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

সংসদে থেকেই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করবে জামায়াত

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬, ১১:২৩ পিএম

সংসদ থেকে পদত্যাগ নয়, বরং সংসদে থেকেই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সনদের সঙ্গে বিশ^াসঘাতকতা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজপথেও অবস্থান নেওয়া হবে বলে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর দলীয় কার্যালয়ে ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইলেক্টরাল সিস্টেমসের (আইএফইএস) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম মিলন।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটা ইউকে বেসড অর্গানাইজেশনের সঙ্গে বসে ছিলাম, যাদের মূল উদ্দেশ্য হলো যে জাতীয় সংসদকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়। সেই বিষয় নিয়ে তারা আমাদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। আমরা তাদের কথা শুনেছি। আমাদের পক্ষ থেকে আমরা বলেছি, আমাদের এই যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পূর্বের সংসদ থেকে ভিন্ন। কারণ, এই সংসদ জুলাই আন্দোলনের ওপরে গঠিত একটি সংসদ। এই সংসদের ব্যাপারে দেশের মানুষের আশা সম্পূর্ণ আলাদা। জুলাই আন্দোলনের এজেন্ডা হলো, সংসদই হোক আমাদের জাতীয় জীবনের সব আলোচনা এবং সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে সরকারি দলের সঙ্গে বিরোধী দল সমানভাবেই ইম্পর্টেন্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে সরকারি দল এবং বিরোধী দল ইম্পর্টেন্ট রোল প্লে করতে পারে, সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেক ডিফিকাল্টিজ আছে। সরকারি দল এখন একটা বড় মেজরিটি নিয়ে আছে। সেক্ষেত্রে কোনো একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সব কিছুই সরকারি দলের ওপর নির্ভর করছে। কাজেই সেক্ষেত্রে রুলস অব প্রসিডিউরের ব্যাপারেও অনেক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা সেখানে আলোচনা হয়েছে। সেগুলোর ব্যাপারে আমরা আমাদের সাজেশন দিয়েছি। তারা একটা রিপোর্ট তৈরি করবেন এবং তারাও আমাদের কিছু সাজেশন দিয়েছেন কী করে পার্লামেন্টকে আরও শক্তিশালী করা যায়।’

সাইফুল আলম মিলন অভিযোগ করেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের চেষ্টা করছে সরকারি দল। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাব সরকারপ্রধানের দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। সরকারপ্রধানের নীরব থাকা এবং অন্য কাউকে দিয়ে জবাব দেওয়ানো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ক্ষুণœ করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং ২০২৫ সালের গণভোট অধ্যাদেশের ৩ ধারা ও তপশিলের বৈধতা নিয়ে করা রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে আবেদন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই রিটে বিবাদী হিসেবে পক্ষভুক্ত হতে পৃথক আবেদন করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত দুজন সংসদ সদস্য।