ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামে নিজের দাদি, ফুপু ও এক প্রতিবেশীকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আকাশ মোল্লাকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
নিহতরা হলেনÑ অভিযুক্ত আকাশের আমিনা বেগম (৮০), ফুফু রাহেলা বেগমকে (৫৫) ও প্রতিবেশী কাবুল হোসেন (৪৯)। এ ঘটনায় প্রতিবেশী রিয়াজুল মোল্লা (৩৬) ও আর্জিনা বেগম (৪৫) আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবার তাকে বিয়ে না দেওয়া এবং মানসিক হতাশা থেকেই এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে গ্রেপ্তারকৃত আসামি আকাশ। তবে তার মানসিক অবস্থা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামি জিজ্ঞাসাবাদে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। স্থানীয়দের কাছ থেকেও জানা গেছে, কিছুদিন ধরে তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, সোমবার স্থানীয় বাসিন্দা কাবুল হোসেন রাত সাড়ে ৮টার দিকে চা পান করতে বের হন। রাত ৯টার দিকে গদাধরডাঙ্গী গ্রামের হারুন মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পান। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে তারা দেখতে পান আকাশ মোল্লা তার দাদি আমিনা বেগম ও ফুফু রাহেলা বেগমকে কোদাল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করছে।
এ সময় প্রতিবেশী কাবুল হোসেন চিৎকার করলে আসামি তার ওপরও হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই কাবুল হোসেন, আমিনা বেগম ও রাহেলা বেগম গুরুতর জখম হয়ে মারা যান। হামলায় রিয়াজুল মোল্লা ও আর্জিনা বেগম গুরুতর আহত হন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পরপরই আসামি পালিয়ে যায়। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ, ডিবি ও র্যাবের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ভোরে তার বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল উদ্ধার করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় নিহত কাবুল হোসেনের স্ত্রী কোহিনুর বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

