× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

পারভেজ খান

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ০৫:১০ এএম

সীমান্তে বারুদের গন্ধ

পারভেজ খান

প্রকাশিত: মে ১১, ২০২৬, ০৫:১০ এএম

সীমান্তে বারুদের গন্ধ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। ওপারে-এপারে একই মাটি, একই নদী, একই পাহাড়, একই আকাশ, একই ভাষা, একই সংস্কৃতি, একই ইতিহাস। মানচিত্র ও পতাকা শুধু ভূখণ্ড আলাদা করে, ইতিহাস নয়। অথচ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি প্রায় ৯১ লাখ পুরোনো ভোটার। নতুন তালিকায় ‘অনুপ্রবেশকারী’ অভিযোগে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। গত কদিন ধরে সীমান্তে চলছে টানটান উত্তেজনা। চলছে পুশ ইন। গত শনিবার কসবায় বিএসএফের গুলিতে মারা গেছেন কলেজছাত্রসহ দুই বাংলাদেশি।

ওপারে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) টহল জোরদার করেছে। রাতের অন্ধকারে কাঁটাতারের ওপাশে বাড়তি আলো, নজরদারি টাওয়ারে সশস্ত্র সতর্কতা। সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে বইছে এক অজানা আশঙ্কা। প্রশ্ন, এই কঠোর অবস্থান কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, নাকি সন্দেহের দেয়াল আরও উঁচু করছে? স্থানীয়দের ভাষায়, পরিবেশ আগের মতো শান্ত নয়। ব্যবসায়ে মন্দা ভাব। বাতাসে বারুদের গন্ধ। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে। বিজিবি জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা সতর্ক। 

এ বিষয়ে বিজিবি সদর দপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, দুই দেশের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখা, বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত পতাকা বৈঠক ও যৌথ টহলের মাধ্যমে সীমান্ত এলাকার সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে বিজিবি কাজ করছে। বিজিবি সীমান্তে রাডার, থার্মাল ক্যামেরা এবং হাই-স্পিড বোট ব্যবহার করে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে পর্যবেক্ষণ চৌকি স্থাপন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। কঠোরতা যদি মানবিক সংবেদনশীলতার সঙ্গে ভারসাম্য না রাখে, তবে তা সামাজিক ক্ষত তৈরি করবে। শেখ হাসিনা সরকারের পতন-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে যে শীতলতা দেখা দিয়েছিল, পরবর্তীতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেটা আবার স্বাভাবিক অবস্থার দিকে ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের পর, বিশেষ করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে সীমান্ত ও ‘পুশ ব্যাক’ ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে আবার চাপ সৃষ্টি করছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আবারও এক অনিশ্চয়তার মোড়ে।

বিশ্লেষকরা আরও মনে করেন, নির্বাচনের আগে থেকেই ‘বাংলাদেশ’ ছিল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের অন্যতম আলোচিত ইস্যু। বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতাদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে এনআরসি, সিএএ এবং তথাকথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ প্রসঙ্গ। ভোটের ফল ঘোষণার পর কলকাতার নিউমার্কেটসহ কয়েকটি এলাকায় ভাঙচুরের ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল অবৈধ নাগরিকদের পুশ ব্যাক প্রসঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেন। শুভেন্দু অধিকারীও কড়া কড়া কথা বলছেন। কসবায় আবারও গুলি করে হত্যা, কুলাউড়ায় এক দিনে ১০ জনকে পুশ ব্যাক- এসব ভালো কোনো ইঙ্গিত বহন করে কি?

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, কথিত ‘পুশ ইন’ ইস্যু, কুমিল্লার কসবা সীমান্তে গুলিতে নিহতের ঘটনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বক্তব্য- সব মিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা নিয়ে আমাদের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ভাষ্য একে অন্যকে প্রভাবিত করছে; তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগই এখন সবচেয়ে জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, সীমান্তে বিচ্ছিন্ন সহিংসতা বা ‘পুশ ইনে’র অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু নির্বাচনি রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বক্তব্যগুলো যখন তীব্র হয়, তখন তা মাঠ পর্যায়ের বাহিনীর আচরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কাঠামো এখনো শক্তিশালী। তাই উত্তেজনা প্রশমনে নিয়মিত ফ্ল্যাগ মিটিং ও ডিরেক্টর জেনারেল পর্যায়ের সংলাপ বাড়ানো প্রয়োজন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেন, কথিত ‘পুশ ইন’ ইস্যুতে দুই দেশকেই তথ্যভিত্তিক যাচাই-বাছাই করতে হবে। সীমান্তে গুলির ঘটনায় জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তব প্রয়োগ না হলে মানবাধিকার প্রশ্নে চাপ বাড়বে। অ-প্রাণঘাতী পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়ে যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, সেটি কঠোরভাবে মানা উচিত।

সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষক হুমায়ুন কবির বলেন, সীমান্তে প্রাণহানি দুই দেশের জনমনে আঘাত করে। এমন ঘটনায় দ্রুত যৌথ তদন্ত ও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি। সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও সমন্বিত টহল জোরদার করা গেলে প্রাণহানি কমানো সম্ভব।

মানবাধিকারকর্মী ও গবেষক ড. সুলতানা কামাল বলেন, সীমান্তে নাগরিকের জীবন সুরক্ষা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। আইন প্রয়োগে অনুপাত ও প্রয়োজনীয়তার নীতি মানা না হলে তা আন্তর্জাতিক মানদ-ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, সীমান্ত প্রশ্ন একটি সংবেদনশীল ইস্যু। অনেক সময় আঞ্চলিক রাজনীতির বক্তব্য কেন্দ্রীয় নীতির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তাই শুভেন্দুর বক্তব্যকে সরাসরি রাষ্ট্রনীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখার আগে দিল্লির আনুষ্ঠানিক অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রহমান মনে করেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক বহুমাত্রিকÑ বাণিজ্য, ট্রানজিট, বিদ্যুৎ, নদী-ব্যবস্থাপনা- সব কিছুই এতে জড়িত। একটি ইস্যুতে উত্তেজনা তৈরি হলেও সার্বিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা কম। তবে জনমতের চাপ বাড়লে কূটনৈতিক ভাষা কঠোর হতে পারে।

ওপার বাংলার রাজনীতি বিশ্লেষকরাও কথা বলছেন এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে। সীমান্ত ইস্যু, বিশেষ করে অনুপ্রবেশ, সীমান্তে গুলিবর্ষণ, কাঁটাতারের বেড়া, চোরাচালান ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক মহলে নানা মত রয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে কঠোর অবস্থানের সুরই বেশি শোনা যায়, তবুও কয়েকজন বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারণ পর্যায়ের পর্যবেক্ষক বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গিকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।

ভারতের সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ক বিশ্লেষক অধ্যাপক সুখদেব থোরাত সীমান্ত প্রশ্নকে শুধু নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে না দেখে সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতার আলোকে বিবেচনার কথা বলেন। তার মতে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সমস্যাকে শুধু অনুপ্রবেশ বা আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ রাখলে সমাধান আসবে না। সীমান্ত অঞ্চলের দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের ঘাটতি ও ঐতিহাসিক যোগাযোগের বিষয়গুলো বুঝতে হবে। বাংলাদেশকে দোষারোপ করার বদলে যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগ বাড়ানো উচিত। সীমান্তে সহিংসতা কমাতে মানবিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। সীমান্তে গুলিবর্ষণ বা প্রাণহানির ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিকর।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক সি. রাজা মোহন দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। সীমান্ত ইস্যুতে অতিরিক্ত কঠোর অবস্থান বা রাজনৈতিক বক্তব্য দুই দেশের আস্থার পরিবেশকে দুর্বল করতে পারে। তার মতে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অবদান রাখছে। তাই সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় আস্থা ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। বাংলাদেশকে চাপের মুখে ঠেলে দিলে চীনসহ অন্য আঞ্চলিক শক্তি সেই শূন্যতা পূরণ করতে পারে, যা ভারতের কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না-ও হতে পারে।

ভারতের আরও অনেক রাজনীতিক বিশ্লেষকও ঠিক এমনটিই মনে করেন। তাদের মতে, সীমান্ত ইস্যুতে শুধু নিরাপত্তাকেন্দ্রিক কঠোর ভাষ্য নয়, বরং যৌথ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প, বিএসএফ-বিজিবি সমন্বয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক উত্তেজনামুক্ত সংলাপ সম্পর্ককে একটা ভালো অবস্থানে নিতে পারে। তারা বলেন, বাংলাদেশকে ‘সমস্যা’ হিসেবে না দেখে ‘অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা করলে সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সহজ হবে এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্যও বজায় থাকবে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ ও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। এই ভাষা শুধু রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বা রাজনীতির বার্তা নয়; এর প্রতিধ্বনি পৌঁছাচ্ছে বাণিজ্য অঙ্গনেও। সীমান্তে এখন থমথমে পরিবেশ- অবিশ্বাসের ছায়া, কাঁটাতারের ওপারে বারুদের গন্ধ, ব্যবসায়ীদের স্বাভাবিক জীবনেও নেমে এসেছে অদৃশ্য অস্থির শীতলতা। সীমান্ত-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা। পেট্রাপোল-বেনাপোলসহ সব স্থলবন্দরে কাগজপত্র যাচাই, ট্রাক চলাচলে বিলম্ব, নিরাপত্তা জোরদারÑ সব মিলিয়ে বাণিজ্যের গতি মন্থর হয়েছে।

বেনাপোলের সিঅ্যান্ডএফ ব্যাবসায়ী সুভাষ চন্দ্র গতকাল রূপালী বাংলাদেশকে টেলিফোনে বলেন, রাজনৈতিক উত্তাপ যত বাড়ে, ব্যবসা তত সংকুচিত হয়। সীমান্তে যদি সন্দেহের দেয়াল ওঠে, ক্ষতি হবে দুই দেশের মানুষের। বাংলাদেশি পণ্যÑ গার্মেন্টস, কৃষিপণ্য, মাছ এবং ভারতীয় ভোগ্যপণ্যের আদান-প্রদান দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় অর্থনীতির ভরসা। কিন্তু কাঁটাতারের দুই পাশে এখন শঙ্কাÑ আজ কি ট্রাক পার হবে? কাগজে কোনো ভুল ধরা পড়বে না তো? এমন আতঙ্ক এখন ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

সীমান্ত এলাকায় সংখ্যালঘুদের অবস্থানেও নীরব আতঙ্ক বিরাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সম্প্রদায়, যারা রাজ্যের উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী, তাদের মধ্যে এই আতঙ্ক আর অস্বস্তি স্পষ্ট। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে চাপা ভয়। অনেক জায়গায় নথি যাচাই ও পুলিশি উপস্থিতি বেড়েছে। যদিও সরকার বলছে, এটি নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিত প্রক্রিয়া, তবুও সেখানকার সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নÑ এই তৎপরতার লক্ষ্য কারা?

কলকাতার এক বাংলা দৈনিককে মুর্শিদাবাদের এক শিক্ষক বলেন, আমরা তো বহু প্রজন্ম ধরে এখানে আছি। তবুও যখন ‘অনুপ্রবেশ’ শব্দটা উচ্চারিত হয়, তখন সন্দেহের চোখটা আগে আমাদের দিকেই ঘোরে।

উত্তর ২৪ পরগনার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, বাজারে এখন অদ্ভুত এক নীরবতা। কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলে না, কিন্তু সবার মুখে একই কথাÑ সময়ের হাওয়া ভালো না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বাকি উন্মুক্ত অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও নির্বাচনি প্রচারে সীমান্তে দ্রুত বেড়া নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সীমান্তে যৌথ অভিযান এবং কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ বাড়লে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা, বাণিজ্য ও সামাজিক যোগাযোগে প্রভাব পড়তে পারে।

আমাদের দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা অবশ্যই রাষ্ট্রের অধিকার। কিন্তু সেটি হতে হবে সমন্বিত, স্বচ্ছ ও মানবাধিকারসম্মত। অন্যথায় ছোট ছোট ঘটনা বড় কূটনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। মনে রাখতে হবে, সীমান্ত শুধু একটি নিরাপত্তারেখা নয়, এটি হাজারো মানুষের জীবনরেখা। দুই পাশে রয়েছে আত্মীয়তা, কৃষিজমি, ক্ষুদ্র বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ। হঠাৎ করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা মানবিক ও অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যদি সীমান্তে ‘জিরো টলারেন্স’-নীতি কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে প্রাণহানির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারেÑ এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!