রাজধানীর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়লেন টাইগাররা। তরুণ পেসার নাহিদ রানার আগুনঝরা বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। তবে দেশের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটিই টাইগারদের প্রথম টেস্ট জয়।
গতকাল মঙ্গলবার টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে গতি, বাউন্স ও রিভার্স সুইংয়ের দারুণ মিশেলে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ছিন্নভিন্ন করে দেন লাল-সবুজের তরুণ তুর্কি নাহিদ রানা। ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ৪০ রানে ৫ উইকেট তুলে নেন এই ডানহাতি পেসার। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো পেসারের চতুর্থ ইনিংসে এটিই প্রথম পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি।
এদিন ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় মাত্র ১৬৩ রানে। সফরকারীরা শেষ ৫ উইকেট হারায় মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে। নাহিদের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলামের নিয়ন্ত্রিত বোলিংও বড় ভূমিকা রাখে জয়ে।
প্রথম চার দিনের মধ্যে দুই দিন বৃষ্টিতে খেলা ব্যাহত হওয়ায় শেষ দিনে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সময়। তবে সেই বাধা উতরে গিয়ে দুর্দান্ত লড়াইয়ে জয় নিশ্চিত করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ১৫২ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। অধিনায়ক শান্ত ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেললেও সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন। মেহেদী হাসান মিরাজ ২৪ এবং তাসকিন আহমেদ দ্রুত ১১ রান যোগ করলে ৯ উইকেটে ২৪০ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে দেন তাসকিন। এরপর আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও শেষ সেশনে বাংলাদেশের বোলারদের তোপে ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ।
তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে ফজল ৬৬ রানে থামার পর ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এরপর নাহিদ রানার বিধ্বংসী স্পেলে একের পর এক উইকেট হারায় সফরকারীরা। বিশেষ করে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ১৪৭ কিলোমিটার গতির রিভার্স সুইংয়ে বোল্ড করা ডেলিভারিটি ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত শাহিন শাহ আফ্রিদিকে বাউন্সারে আউট করে ৫ উইকেট পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন নাহিদ। তার উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে সে সময় মিরপুর গর্জে ওঠে ‘নাহিদ ... নাহিদ’ ধ্বনিতে। নিজের টানা তিন ওভারে সৌদ শাকিল, রিজওয়ান ও নোমান আলীকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের মেরুদ- ভেঙে দেন নাহিদ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৪১৩। পাকিস্তান ১ম ইনিংস : ৩৮৬
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : ৭০.৩ ওভারে ২৪০/৯ ডি. (আগের দিন ১৫২/৩) (শান্ত ৮৭, মুশফিক ২২, লিটন ১১, মিরাজ ২৪, তাইজুল ৩, তাসকিন ১১, ইবাদত ৪*; আফ্রিদি ১৬-২-৫৪-২, আব্বাস ১৪-৩-৩৫-১, হাসান ১৭.৩-২-৫২-৩, সালমান ৫-০-১৮-০, হাসান ১৮-১-৭৬-৩)।
পাকিস্তান ২য় ইনিংস : (লক্ষ্য ২৬৮ রান) ৫২.৫ ওভারে ১৬৩ (আজান ১৫, ইমাম ২, ফজল ৬৬, মাসুদ ২, সালমান ২৬, শাকিল ১৫, রিজওয়ান ১৫, নোমান ৪, হাসান ১, আফ্রিদি ০, আব্বাস *; তাসকিন ১০-১-৪০-২, মিরাজ ১৭-৩-৪৭-১, নাহিদ ৯.৫-২-৪০-৫, ইবাদত ২-০-৯-০, তাইজুল ১৪-৩-২২-২)
ফল : বাংলাদেশ ১০৪ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : নাজমুল হোসেন শান্ত।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন