আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে এবং ঘরমুখী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এবারের ঈদেও কোটি মানুষ ঢাকা মহানগরী ত্যাগ করবে এবং প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ঢাকায় প্রবেশ করবে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ঈদযাত্রা এবং কোরবানির পশুর হাটসংলগ্ন সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখাই এখন ট্রাফিক বিভাগের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার ডিএমপির জনসংযোগ শাখা থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে মহাসড়কে ট্রাক-লরি চলাচল বন্ধসংক্রান্ত নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছেÑ ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৫ থেকে ২৭ মে এবং ২৯ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৬ দিন মহাসড়কে সাধারণ ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। তবে পশুবাহী যানবাহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি ও খাদ্যদ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ওষুধ, সার এবং জ¦ালানি বহনকারী যানবাহনসমূহ এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া রুট পারমিটবিহীন কোনো বাস কোনোক্রমেই রাস্তায় চলাচল করতে পারবে না। আন্তঃজেলা বাসগুলোকে নির্দিষ্ট টার্মিনালের ভেতরে যাত্রী উঠিয়ে সরাসরি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই সড়কের ওপর বাস দাঁড় করানো যাবে না। অনুমোদিত কাউন্টার ছাড়া মূল রাস্তায় দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী ওঠানো বা নামানো যাবে না। ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ এবং বের হওয়ার প্রধান রাস্তাগুলোতে কোনোভাবেই কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। লক্কড়-ঝক্কড়, ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত ও কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী গাড়ি কোনোভাবেই রাস্তায় নামানো যাবে না।
রুট ডাইভারশন ও বিকল্প সড়ক ব্যবহারেও বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কের উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে কামারপাড়া হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটিতে ২৫ থেকে ২৭ মে শুধু ঢাকা মহানগর থেকে বের হওয়ার জন্য (একমুখী বা ওয়ানওয়ে) যানবাহন চলাচল করবে। এই সময়ে আশুলিয়া-ধউর-কামারপাড়া-আব্দুল্লাহপুর হয়ে ঢাকায় প্রবেশকারী যানবাহনকে আশুলিয়া-ধউর-পঞ্চবটী হয়ে মিরপুর বেড়িবাঁধ সড়ক দিয়ে গাবতলী বা অন্য এলাকায় প্রবেশ করতে হবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের এয়ারপোর্ট টু গাজীপুরে আসা ও যাওয়ার লেন দুটিতে ২৫ থেকে ২৭ মে শুধু ঢাকা থেকে বের হওয়ার জন্য (একমুখী ডাইভারশন) গাড়ি চলাচল করবে। এই সময়ে বিআরটির ঢাকায় প্রবেশের লেনটি দিয়ে কোনো যানবাহন ঢাকা অভিমুখে আসতে পারবে না। তবে মহাসড়কের অন্যান্য লেনের গাড়ি আগের মতো স্বাভাবিকভাবে চলাচল করবে। ঢাকা শহরে যানজট কমাতে বিআরটিসি ডিপোর বাস ঢাকা শহর অতিক্রম না করার ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমনÑ গাবতলী/কল্যাণপুর ডিপোর বাস রাজশাহী/রংপুর বিভাগ এবং মতিঝিল ও ফুলবাড়িয়া ডিপোর বাস চট্টগ্রাম/সিলেট বিভাগে চলাচল করবে। এই সময়ে (২৫-২৭ মে) জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ চালকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পরিহার করে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে। সড়কগুলো হলোÑ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বনানী টু আব্দুল্লাহপুর; ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী টু সাইনবোর্ড; মিরপুর রোডে শ্যামলী টু গাবতলী; ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়কে ফুলবাড়িয়া টু বাবুবাজার ব্রিজ; ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে যাত্রাবাড়ী টু বুড়িগঙ্গা ব্রিজ; মোহাম্মদপুর বসিলা ক্রসিং থেকে বসিলা ব্রিজ সড়ক এবং আব্দুল্লাহপুর টু ধউর ব্রিজ সড়ক। কোরবানির পশুর হাটকেন্দ্রিক বেশ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পশুর হাটের ইজারায় উল্লেখিত সীমানা ও স্কেচ ম্যাপের বাইরে প্রধান সড়কের ওপর কোনোভাবেই কোরবানির পশু ক্রয়-বিক্রয় ও লোড-আনলোড করা যাবে না। কোরবানির পশু পরিবহনকারী যানবাহন আনলোড করার জন্য এবং বিক্রীত পশু ট্রাক বা পিকআপে লোড করার জন্য হাটের ভেতরে পৃথক পৃথক জায়গা খালি রাখতে হবে। হাটে জায়গা না থাকলে নিকটবর্তী স্থানে এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় কোরবানির পশু পরিবহনের ক্ষেত্রে ট্রাকের সম্মুখে সুনির্দিষ্ট হাটের নাম সংবলিত ব্যানার অবশ্যই টাঙাতে হবে। হাইওয়ে বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো সড়কের পাশে পশুর হাট ইজারা দেওয়া যাবে না।
যদি কোনো পশুর হাট ঢাকা মহানগরের ফিডার রোড বা সরু রোডের পাশে ইজারা দেওয়া হয়, তাহলে অবশ্যই সড়ক ও হাটের মাঝে ৬ ফুট উঁচু প্রাচীর বা বেষ্টনী স্থাপন করতে হবে এবং সুবিধাজনক জায়গায় পৃথক এন্ট্রি ও এক্সিট গেট রাখতে হবে। পশুর হাটসংলগ্ন সড়কগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পুলিশকে সহযোগিতার জন্য ইজারাদারদের পক্ষ থেকে পর্যাপ্তসংখ্যক কর্মী বা স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে। পশুর হাটে গমনাগমনকারী রাস্তায় কোনোভাবেই ক্রেতাদের গাড়ি, পশুবাহী ট্রাক বা পিকআপ পার্কিং করা যাবে না। কেউ পার্কিং করলে তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ি আটক করে ডাম্পিং বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পশুর হাটের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনা না করা হলে এবং নির্দেশনা অমান্য করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সড়কের ওপরে যত্রতত্র কোরবানি না করে সিটি করপোরেশন নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি করতে হবে।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন