× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

মেহেদী হাসান খাজা

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ১২:৫৮ এএম

তারেক রহমানের ‘মাস্টারপ্ল্যান’

তরুণ নেতৃত্বে ও ডিজিটালি শক্তিশালী দল গঠনের উদ্যোগ

মেহেদী হাসান খাজা

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২৬, ১২:৫৮ এএম

তরুণ নেতৃত্বে ও ডিজিটালি  শক্তিশালী দল গঠনের উদ্যোগ

শক্তিশালী সরকার পরিচালনার পূর্বশর্ত একটি সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন। সেই লক্ষ্যেই ঈদুল আজহার পর দল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্রে এমনটা জানা গেছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কর্মব্যস্ততার মধ্যেও দলকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও তৃণমূলমুখী করার লক্ষ্যে একটি ‘মাস্টারপ্ল্যান’ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশব্যাপী দলকে সাংগঠনিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসার দায়িত্ব পাচ্ছেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। তার নেতৃত্বে একটি টিম গঠনের বিষয়ে এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান ইঙ্গিত দিয়েছেন। সূত্র জানায়, কমিটি পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে দল ও সংগঠনগুলো সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হবে।

জানা গেছে, তৃণমূলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সারা দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ সব ইউনিটের সম্মেলন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, ক্ষমতার বলয়ে থেকে তৃণমূল যাতে জনবিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে, সেদিকে কড়া নজর রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ডিজিটাল ও স্মার্ট দল গঠন ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট। প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীদের ডাটাবেজ তৈরি, দলীয় কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনে করেন, শক্তিশালী সরকার পরিচালনার পূর্বশর্ত একটি সুশৃঙ্খল ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন। সেই লক্ষ্যেই এই দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এক দশক ধরে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল হয়নি। চলতি বছর হওয়ার কথা। কাজেই জাতীয় কাউন্সিলের আগে তৃণমূল কমিটিগুলো পুনর্গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। দলের শীর্ষ নেতারা আভাস দিয়েছেন, নতুন ও পুরোনো নেতৃত্বের সমন্বয়ে এবং রাজপথে সক্রিয় ও পরীক্ষিত নেতাদের প্রাধান্য দিয়ে দলটির এই সাংগঠনিক সংস্কারকাজ ঈদুল আজহার পরই শুরু হচ্ছে।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছে ১০ বছর আগে, ২০১৬ সালের মার্চে। বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির ১৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে বহাল আছেন মাত্র ১৪ জন। বাকি পাঁচটি পদ শূন্য। আবার দলের অনেক নেতা এখন সরকার ও সংসদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে সাংগঠনিক কাজে তাদের সময় কমেছে। এ অবস্থায় সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল করার আভাস দিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।

দলীয় নেতারা মনে করছেন, বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের আগেই তৃণমূল পর্যায় থেকে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা/উপজেলা, জেলা ও বিভাগী পর্যায়ে বিএনপির কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা জরুরি। কোথাও আহ্বায়ক কমিটি, আবার কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ ও আংশিক কমিটি দিয়ে চলছে। কাজেই জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের আগে তৃণমূল কমিটি পুনর্গঠনের কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে বিএনপি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ মেয়াদে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি ধরে রাখতে নিয়মিত কাউন্সিল ও নেতৃত্ব নবায়ন অপরিহার্য। রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি বিএনপি যদি দ্রুততম সময়ে তরুণ ও যোগ্যদের হাতে সংগঠনের দায়িত্ব তুলে দিতে পারে, তাহলে দলে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং প্রতিপক্ষের অপপ্রচার মোকাবিলা করা সহজ হবে।

দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা বলেন, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন দলটির হাইকমান্ড। এরই মধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও কার্যকর ও জনমুখী করার জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী কমিটিগুলো পুনর্গঠিত হবে। এ বছর দলের জাতীয় কাউন্সিল হবে এমন চিন্তাভাবনা রয়েছে। তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘কাউন্সিল আমরা করব। কিন্তু এটা করার একটা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া আছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আমরা কাজটা করব।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জাতীয় কাউন্সিল করতে অন্তত কয়েক মাস লাগবে। কাউন্সিলের আগে তৃণমূল পর্যায়ে দলকে গোছাতে হবে। একই সঙ্গে অঙ্গসংগঠন ও সহযোগী সংগঠনগুলো পুনর্গঠনের কাজ চলছে। জাতীয় কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক।

এ ছাড়া বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা বলেন, সম্মেলন না হওয়ায় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও কোন্দলের কারণে সাংগঠনিক যে দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, এর সুযোগ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক পক্ষগুলো বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক আক্রমণ জোরদার করেছে। এ অবস্থায় সংগঠনগুলো চাঙা করার তাগিদ উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি এখন কেবল একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চাইছে। হাইকমান্ডের নির্দেশনায় এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তরুণ, শিক্ষিত ও মেধাবী নেতৃত্বকে। বিগত দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রামে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং একই সঙ্গে আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনে বিশ্বাসী, তাদের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসা হতে পারে। বিশেষ করে দলটির আইটি সেল, গবেষণা উইং এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক শাখাগুলোতে বড় ধরনের রদবদল হতে পারে বলে জানা গেছে।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!