× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০৫:২৯ এএম

সমালোচনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

হাসপাতাল নয়, যেন ভোগান্তি

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুন ২, ২০২৬, ০৫:২৯ এএম

হাসপাতাল নয়, যেন ভোগান্তি

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রের একটি হাসপাতাল। মন্দির বা মসজিদের মতো টিকিট নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে জুতা জমা দিয়ে প্রবেশ করতে হয় হাসপাতালটিতে। যেখানে বলা হয়ে থাকে, হাসপাতালে যেকোনো ধরনের রোগ-জীবাণুই সক্রিয় এবং তা পায়ের মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা শতভাগ, সেখানে এই হাসপাতালটিতে জুতা খুলে প্রবেশ বাধ্যতামূলক! ‘নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়’ বললেও খালি পায়ে হাঁটা যে শতভাগ নিরাপদ নয় সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই বিশেষজ্ঞদের। হাসপাতালটির দেয়ালে দেয়ালে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফের বিভিন্ন আয়াত লিখে রাখা হয়েছে। আর এটাই রোগী টানার মূল টেকনিক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরÑ এমন দাবি মগবাজারের নয়াটোলা এলাকার বাসিন্দা মাহফুজুর রহমানের।

হাসপাতালটির নাম আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। সম্প্রতি ছয়টি শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সমালোচিত এই হাসপাতাল নিয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, এটা তো হাসপাতাল না, খুপড়ি। আমার স্ত্রীর যখন প্রসব ব্যথা ওঠে তখন বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় হাসপাতালটিতে নিয়ে যাই। নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা না করেই এখানকার চিকিৎসকরা প্রথমে ৩৫ হাজার টাকার সিজার প্যাকেজ ধরিয়ে দেন। তাদের কথা মেনে সিজারের জন্য বন্ড সই করি। প্যাকেজে একটি কেবিন দেওয়ার কথা লেখা ছিল। সেই কেবিনের সাইজটা তাদের যে অ্যাম্বুলেন্স রাজধানীতে রোগী আনা-নেওয়া করে তার চাইতেও ছোট। কোনোমতে একটা খাট সেখানে ফেলা ছিল। আমার স্ত্রীকে যখন ডেলিভারি রুমে নেওয়া হয় তখন বারবার জিজ্ঞেস করেও তার কী অবস্থা জানতে পারিনি প্রায় ৩ ঘণ্টা। এরপর হঠাৎ এক নার্স জানান, আপনার স্ত্রীকে এখন অপারেশনের টেবিলে নেওয়া হবে, ৩ ব্যাগ রক্ত লাগবে, ব্যবস্থা করেন। ৩ ঘণ্টা আগে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে এখন টেবিলে তোলা হবে বা রক্ত লাগবেÑ একথা জানানোর মানে কি জানতে চাইলে নার্স মুখের ওপর রুমের দরজা লাগিয়ে দেন এই বলে, স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচাতে হলে বাড়তি কথা না বলে যা বলছি তা করেন। আর এই ওষুধগুলো লাগবে, ১০ মিনিটের মধ্যে নিয়ে আসেন। অথচ সিজার প্যাকেজে কোনো বাড়তি ওষুধ আমাদের কেনার কথা নয়। আমি তখন রক্ত জোগাড় করব, না ১০ মিনিটের মধ্যে গুহার মতো আঁকাবাঁকা সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আগে ওষুধ আনব, তা নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিলাম।

প্রায় একই অভিজ্ঞতার কথা জানান রাজধানীর বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা তানভীর আহমেদ ও রুম্পা আক্তার দম্পতি। তারা বলেন, একজন বলেছিলেন ওইখানে শরিয়া মেনে চিকিৎসা হয়। তাই কোনো কিছু না ভেবেই প্রসব ব্যথা উঠলে হাসপাতালটিতে যাই। ঢাকায় শুধু আমরা স্বামী-স্ত্রী থাকি। আর সন্তান প্রসবকালে দেখভালের জন্য গ্রাম থেকে মা এসেছেন জানিয়ে তানভীর বলেন, মা তো গ্রামের মানুষ। হাসপাতালে ঢুকেই জুতা খুলতে হবে শুনে অবাক হন। বলেন, গেরামে টয়লেট এবং হাসপাতালে জুতা ছাড়া যেখানে কোনো মানুষ যায় না, সেখানে ঢাকা শহরে জুতা খুলে হাসপাতালে যেতে হবে কেন? এরপরের অভিজ্ঞতা ভয়ংকর। আমার স্ত্রীর বয়স তুলনামূলক কম থাকায় আমরা নরমাল ডেলিভারির কথাই বলেছিলাম চিকিৎসককে। কিন্তু তাদের এক কথা, সিজার ছাড়া বাচ্চা প্রসব করানো অসম্ভব। প্যাকেজও ধরিয়ে দিলেন ৩৫ হাজার টাকা, ৪৫ হাজার টাকা ও ৫৫ হাজার টাকার। মধ্যবিত্ত হিসেবে কিছুটা সাশ্রয়ের আশায় ৩৫ হাজার টাকার প্যাকেজ নিই। কিন্তু বাচ্চা জন্ম হওয়া থেকে শুরু করে বাসায় ফেরা পর্যন্ত নানাবিধ খরচ গিয়ে দাঁড়ায় ৭৫ হাজার টাকায়। এটা যদি শরিয়াহ মোতাবেক চলা হাসপাতালের কীর্তি হয় তা হলে অন্য হাসপাতালের দোষ কি?

তানভীর আহমেদ বা মাহফুজুর রহমান বাড়তি অর্থ ব্যয় করে হাসপাতালটি থেকে জীবিত সন্তান নিয়ে বাসায় ফিরতে পারলেও গত বুধবার এই হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ছয় শিশুর। এদিন পোস্ট অপারেটিভ রুমে যখন ১১ মা অপেক্ষা করছিলেন সন্তানের তখন খুপড়ি রুমে এসির তীব্র ঠান্ডায় প্রাণ হারায় ৬ শিশু। কাতর কণ্ঠে এক মা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, রাত ২টা থেকে ৩টার দিকে আমি দায়িত্বরত নার্সকে বলেছিলাম এসি বন্ধ করতে। কিন্তু তিনি কথা শোনেননি। যখন আরও কয়েকজন বললেন, তখন ১ ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখলেও আবার চালু করে দেওয়া হয়। সে সময় বাইরে তীব্র ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রচ- ঠান্ডায় সব শিশুর শ^াসকষ্ট শুরু হয়। ভোর ৬টার দিকে তাদের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। একে একে চোখের সামনে ৬টি নিষ্পাপ প্রাণ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, এটি হত্যা। এই হত্যার বিচার চাই। ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে রেখে বাচ্চা জন্ম দিলাম। অথচ এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলায় শিশুটিকে কোলে পর্যন্ত নিতে পারলাম না। আমরা ৬ জন মা এখন কি নিয়ে বাঁচব?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আদ্-দ্বীন হাসপাতালের এক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা গভীর শোকাহত। কিন্তু ওই রুমে কোনো ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ছিল না। তাই এসি বন্ধ রাখার উপায় ছিল না। আবার এসি বন্ধ রাখা হলেও সাফোকেশনে শিশুদের শ^াসকষ্ট শুরু হতো। হাসপাতালের অবকাঠামোগত দিক পরিবর্তন খুবই জরুরি।

হাসপাতালটিতে পড়ালেখা করে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এফসিপিএস-এ অধ্যয়নরত ডা. নুজহাত নোশিন বলেন, আমি নিজে সেখানে পড়ালেখা করলেও কাউকে ওই হাসপাতালে ভর্তির জন্য রিকমেন্ড করিনি। কারণ একটা হাসপাতালের অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের টপ টু বটম কি পরিমাণ খারাপ হতে পারে সেটা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল না দেখলে কেউ বুঝবে না। হাসপাতালটির সিস্টেমটাই এমন করা যাতে একজনকে সর্বোচ্চ পরিমাণ সাফার করানো যায়। সেখানে হাসপাতালের অফিস স্টাফ থেকে শুরু করে সিস্টার, আয়া-বুয়া, গার্ড সবার দাম আছে, একমাত্র ডাক্তার আর রোগী ছাড়া। ডাক্তার আর রোগীদের ট্রিট করা হয় কুকুর-বিড়ালের মতো। স্টাফদের কোনো অফিসিয়াল আচরণবিধি শেখানো হয় না। আর সিস্টারদের একেকজনকে এমনভাবে ওভার পাওয়ার করা হয়, যাতে তারাই নিজেদের বড় অধ্যাপক মনে করে। ইন্টার্ন বা মেডিকেল অফিসার হয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা করা লাগে কোন ট্রিটমেন্ট কেন দেওয়া হলো। ডিসচার্জ পেপার লিখে দিতে হবে নার্সদের সময়মতো। নইলে এমন ব্যবহার করে যেন তাদের টাকায় খেয়ে-পরে বেঁচে আছেন ডাক্তাররা।

লেবার রুমের মিডওয়াইফদের বিষয়ে এই ডাক্তার বলেন, তারা তো আরও এক ধাপ উপরে। লেবারে থাকা রোগীদের সঙ্গে তাদের ব্যবহার খুবই খারাপ। এরা নাড়ি কেটে দেয় কোনো ধরনের অ্যানেস্থেশিয়া ছাড়াই। জাস্ট দড়ি কাটার মতো খচাখচ কেটে দেয়। আর রিপেয়ারও করে খুব খারাপভাবে। কিন্তু এই নিয়ে তাদের কিছু বলাও যায় না। কারণ তাদের ব্যবহার। লেবারের কোনো রোগীর কোনো জটিলতা হলে তারা নিজেরা সেই ফাইল নিয়ে অধ্যাপকদের কাছে যায়। মিড লেভেলের কোনো ডাক্তারকে সেই ফাইল ধরতেও দেয় না। রোগীর ব্যাপারে কোনো ব্রিফও করে না অভিভাবকদের। তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালের হিপোক্রেসির আরেক উদাহরণ হচ্ছেÑ জায়গায় জায়গায় পবিত্র কোরআনের আয়াত ও হাদিস লিখে রেখেছে। কিন্তু সে অনুসারে কোনো কাজই হয় না। যেন পুরোই ‘ডার্ক সিরিজ’। নিতান্ত বাধ্য না হলে কোনো টেকনিক্যাল সার্ভিসিংও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করায় না।

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় যখন তদন্ত চলছে, ঠিক সেই সময় হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ মিটার না থাকা, খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়ম এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগে হাসপাতালটিকে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এই ঘটনার জেরে গত রোববার বিকেলে হাসপাতালটিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে খাদ্য আইন, ২০১৩-এর আওতায় দুই লাখ টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় এক লাখ টাকা টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, সংরক্ষণাগার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা দীর্ঘ সময় ধরে পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনিয়ম ধরা পড়ে। হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক ছাড়া অন্যান্য ওয়ার্ডে ব্যবহৃত রেফ্রিজারেটরগুলোতে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ বা মনিটরিং মিটার পাওয়া যায়নি। শুধু কিছু চেম্বারে মিটার ছিল। চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ওষুধ, খাদ্য ও বিভিন্ন সংবেদনশীল উপকরণ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের কয়েকটি অংশে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা গেছে। এ ছাড়া খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণের একটি স্থানে পণ্যের লেবেলিংয়ে ত্রুটি এবং পরিবেশগত মানের ঘাটতি পাওয়া যায়। তিনি বলেন, নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী দুই লাখ টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেছে।

গতকাল সোমবার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং এর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথকভাবে তদন্ত করছে। আমি নিজে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও ঘটনাস্থলে গেছেন। তিনি বলেন, তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবে আরও বাস্তবভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরির জন্য কিছু অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবকদের বক্তব্য, হাসপাতালের পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সব দিক বিবেচনায় তদন্ত কার্যক্রম চলছে। মৃত শিশুদের পোস্টমর্টেম না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে সরকারের পক্ষ থেকে পোস্টমর্টেমের চেষ্টা করা হলেও অভিভাবকেরা এতে সম্মতি দেননি। জোর করে পোস্টমর্টেম করলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারত। বিষয়টি নিয়ে একটি মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই হাসপাতালের ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত দোষীরা যেন কোনো কারণে ছাড় না পায় তা নিশ্চিতে আইনি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলও। গতকাল সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, প্রকৃতপক্ষে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দোষী চিহ্নিত হলে সে যেন আইনি ফাঁকফোকরের মধ্য দিয়ে পার না পায় সেজন্য আইনগত পরামর্শ দিতে কাজ করবেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকেও আলাদা তদন্ত চলছে। এ ছাড়া, ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা কতটুকু ছিল, তা তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসবে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত গাইডলাইন মানা হয়েছিল কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির বাইরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ^াস রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এটি খুবই অমানবিক একটা ঘটনা ঘটেছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সব ধরনের অনিবন্ধিত হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু আদ্-দ্বীন তো একটি স্বনামধন্য হাসপাতাল। এই হাসপাতালে এরকম একটি ঘটনা ঘটা খুবই দুঃখজনক। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির বাইরেও আমরা বিষয়টি নিয়ে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তারা মৃত শিশুদের অভিভাবক-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন ৩ তারিখ প্রকাশ করার কথা রয়েছে। আর আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন ৩ কর্মদিবসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। দুই প্রতিবেদন মিলিয়ে যে তথ্য উঠে আসবে, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই না এভাবে আর একটি প্রাণও হারিয়ে যাক।

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!