× UCB Sticker Card
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬

ফেসবুক


ইউটিউব


টিকটক

Rupali Bangladesh

ইনস্টাগ্রাম

Rupali Bangladesh

এক্স

Rupali Bangladesh


লিংকডইন

Rupali Bangladesh

পিন্টারেস্ট

Rupali Bangladesh

গুগল নিউজ

Rupali Bangladesh


হোয়াটস অ্যাপ

Rupali Bangladesh

টেলিগ্রাম

Rupali Bangladesh

মেসেঞ্জার গ্রুপ

Rupali Bangladesh


En Bn

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৫:৩২ এএম

ভাঙনের মুখে ১৪৪ কোটি টাকার সাবমেরিন ক্যাবল লাইন

বিলাসী প্রকল্পে আয়েশি লুটপাট

স্বপ্না চক্রবর্তী

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬, ০৫:৩২ এএম

বিলাসী প্রকল্পে আয়েশি লুটপাট

চট্টগ্রামের জলবেষ্টিত উপজেলা সন্দ্বীপ। দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত উপজেলাটিতে ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে। দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এই দ্বীপ চট্টগ্রাম জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা। কিন্তু বিদ্যুতের লাইন না থাকার কারণে দীর্ঘদিন অন্ধকারে ডুবে ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার টানা ক্ষমতায় থাকাকালীন দ্বীপটিতে বিলাসী এই প্রকল্প গ্রহণ করে। ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সাগরের ১৮ থেকে ৩০ ফুট গভীরে স্থাপন করা হয় দুটি সাবমেরিন ক্যাবল। প্রতিটি ক্যাবলে তিনটি পাওয়ার কোর ও একটি অপটিক্যাল ফাইবার রয়েছে। এসব ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া সীমান্ত দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ল্যান্ডিং স্টেশনে পৌঁছায়। জেলার উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি হলেও অবকাঠামোগত বাস্তবতা যাচাই না করেই গুটি কয়েক লোকের স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আর এ কারণেই মাত্র আট বছরের মাথায় নদীভাঙনের কবলে পড়ে বিদ্যুৎ ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট বহনকারী ৩৩ হাজার ভোল্টের দুটি সাবমেরিন ক্যাবল উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। অনেকেই মন্তব্য করছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের এই বিলাসী প্রকল্পের মধ্যে ছিল লুটপাটের মহোৎসব।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, দুটি ক্যাবলের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে একটি ক্যাবলের মাধ্যমে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ৫০ বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মাধ্যমে বর্তমানে সন্দ্বীপের প্রায় ৫৩ হাজার গ্রাহক জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎসুবিধা পাচ্ছেন। এ ছাড়া আরও প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক এ সুবিধার আওতায় আসার অপেক্ষায় রয়েছেন। ক্যাবল দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো এলাকায় নেমে আসবে অন্ধকার। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে সব ইন্টারনেটের সংযোগ। আবারও আদিম যুগে পৌঁছার আশঙ্কা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ২০১৮ সালের ১৫ নভেম্বর উপকূল থেকে ১৫ কিলোমিটারের ৩৩ কেভি দুটি ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে গ্রিড সংযোগ স্থাপন করা হয়। এ জন্য সন্দ্বীপে ১৬ ও সীতাকু-ে ১০ কিলোমিটার ওভারহেড লাইন (মাটির ওপর) স্থাপন করা হয়েছিল। প্রথম দিকে একটি ক্যাবলের মাধ্যমে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে দুটি ক্যাবলের মাধ্যমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ৫০ বছর ধরে সঞ্চালনের সক্ষমতা রয়েছে। ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর সমুদ্র চ্যানেল দিয়ে সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সংযোগের ১৪৪ কোটি টাকার প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হয়। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে চীনা কোম্পানি জেডটিটি প্রকল্পটির কাজ পেলেও বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি চীনের এসবি সাবমেরিন সিস্টেমস কোম্পানি লিমিটেডের সহযোগিতা নিয়েছিল। আর এর জন্য তৎকালীন দায়িত্বশীল বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট অন্তত কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। অথচ প্রকল্প গ্রহণের সময় নদীভাঙনের মতো দুর্ঘটনা যে কোনো সময় ঘটতে পারে, এ জন্য কোনো সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়নি। আর এর ফলেই বর্তমানের এই সংকট।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এই জেলার বাসিন্দা। তিনি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন চেষ্টা করেছিলাম প্রকল্পটিকে যাচাই-বাছাই করে নতুন করে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের। কিন্তু সময়ের অভাবে তা আর সম্পন্ন হয়নি। তখন আমাদের এক স্টাডির মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম ক্যাবলটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হয়েছেও তা। এলাকার কয়েকজন আমাকে ফোন করে জানিয়েছেন, ক্যাবলের উপরিভাগের মাটি সরে গেছে। এতে ক্যাবল দুটি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। উন্মুক্ত হয়ে পড়া ক্যাবলগুলোর অবস্থান বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে, বিদ্যুৎ বিভাগের ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে। ভাটার সময় ক্যাবলের প্রায় ৪০ ফুট অংশ দৃশ্যমান হয়।’ তিনি জানান, কয়েক দিন আগে জেলে ও রাখালেরা প্রথম ক্যাবল দুটি উন্মুক্ত অবস্থায় দেখতে পান। সর্বশেষ গত শনিবার এক যুবক ক্যাবলের ওপর দাঁড়িয়ে ভিডিও ধারণ করেছেন, যা ইতোমধ্যে সবার নজরে এসেছে। ওই ভিডিওতে আমরা দেখেছি প্রায় ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের ক্যাবল দুটি প্রায় ১৫ ফুট গভীর মাটির নিচ থেকে বের হয়ে সাগরের দিকে চলে গেছে। যদি এটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এখনই ক্যাবল দুটির রক্ষণাবেক্ষণে সঠিক পদক্ষেপ না নিলে সন্দ্বীপবাসী আবার অন্ধকারে ডুবে যাবে।

উপকূলীয় এই দ্বীপ জেলায় এই সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট-সেবা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগের সীমাবদ্ধতায় ভোগা দ্বীপবাসী মনে করছিল, এই উদ্যোগ সন্দ্বীপের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। তৎকালীন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারাও দাবি করেছিলেন, সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ এবং ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট সংযোগ দ্বীপে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে এবং ইন্টারনেটের গতি ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে। কিন্তু মাত্র আট বছরের মাথায় ক্যাবলের মুখ উন্মুক্ত হওয়ার কারণ কী, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান মত।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট চালু হলে অনলাইন ব্যবসা, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং বিভিন্ন সেবা খাত আরও সম্প্রসারিত হয়েছিল। শিক্ষার্থীদেরও অনলাইন শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং দ্বীপাঞ্চলের ডিজিটাল বৈষম্য কমিয়ে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সন্দ্বীপকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করেছিল। কিন্তু সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখ-ের যোগাযোগ রক্ষাকারী সাবমেরিন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট ক্যাবল ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকায় সবকিছু এখন অনিশ্চিত হয়ে গেল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী ও সমুদ্রের তলদেশে স্থাপিত ক্যাবলের ওপর নোঙর ফেলা জাহাজ, ড্রেজিং কার্যক্রম, তীব্র স্রোত এবং নদীভাঙনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে। এই বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই না করেই আওয়ামী লীগ সরকার লুটপাটের উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি করে ক্যাবল স্থাপনের কার্যক্রমটি সম্পন্ন করেছিল দাবি করে জ¦ালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সাবমেরিন ক্যাবলগুলো দ্বীপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এগুলোর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছিল। ক্যাবলে বড় ধরনের ক্ষতি হলে মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, যা জনজীবন ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। গুরুত্বপূর্ণ এ ক্যাবল সংযোগের সময় তৎকালীন দায়িত্বশীলরা এত অনিয়ম করেছে যে এই প্রকল্পে ঠিকমতো সম্ভাব্যতাই যাচাই করেনি। ফলে বর্তমানের এই সংকট তৈরি হয়েছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এখন আর কেউ আদিম যুগে ফিরে যেতে চায় না। তাই লুটপাটের উদ্দেশ্যেই হোক বা অন্য যেকোনো উদ্দেশ্যে, আওয়ামী লীগ সরকার যে প্রকল্পটি করে গিয়েছিল, সেটি এখন তদারকি করা না হলে দ্বীপটি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা, দ্বীপের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং ও ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেকাংশই বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সাবমেরিন ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর প্রভাব বহুমাত্রিক হবে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, ক্যাবলের অবস্থান চিহ্নিতকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নোঙর ফেলা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই অবকাঠামো রক্ষা করা সম্ভব। একই সঙ্গে বিকল্প সংযোগব্যবস্থা গড়ে তোলারও পরামর্শ দেন তিনি।

সন্দ্বীপ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফয়সাল বলেন, সাবমেরিন ক্যাবল দৃশ্যমান হয়ে পড়ায় মানুষের কৌতূহল যেমন বেড়েছে, তেমনি ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। কোনোভাবে ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে পুরো দ্বীপের বিদ্যুৎ ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট-সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চট্টগ্রাম (উত্তর) অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম মৃধা সাংবাদিকদের বলেন, সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের সময় আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে ক্যাবল স্থাপনের এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি নেই। কিন্তু প্রাকৃতিক কারণে এখন ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উন্মুক্ত ক্যাবলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে সন্দ্বীপ থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

চিঠির প্রাপ্যতা স্বীকার করে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের একটি চিঠির মাধ্যমে সাবমেরিন ক্যাবল উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ অবকাঠামো রক্ষায় দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ ও ক্যাবলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা করণীয় আমরা তা করব।

এলাকার বাসিন্দা মো. শরফ মিয়া বলেন, ‘ভাঙনের কারণেই মাটি সরে সাবমেরিন ক্যাবল উন্মুক্ত হয়ে গেছে। ২০১৭ সালে যখন এই তার মাটির নিচ দিয়ে টানছিল, তখন আমি প্রতিদিন এসে দেখতাম। মাটির অনেক গভীর দিয়ে এই তার গেছে। দুইটা তারই দেখা যাচ্ছে। ভাটার সময় বেশি দেখা যায়। তখন এলাকার ছেলেপুলেরা এই তারের ওপর দাঁড়িয়ে নাচানাচি করে, ভিডিও করে, যা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’

তবে ক্যাবল দুটি রক্ষায় বর্তমান পিডিবি যথেষ্ট আন্তরিক উল্লেখ করে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমাদের কাছে যখনই খবর আসে বাউরিয়া ইউনিয়নের সন্দ্বীপ চ্যানেলের উপকূলে প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য পর্যন্ত দুটি ক্যাবল দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে, সেটি রক্ষায় যা যা করণীয় সব করেছি। ওই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) চিঠি দিয়েছি। পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ভাঙনের কারণে নিচ থেকে বের হয়ে আসা ৩৩ কেভির সাবমেরিন ক্যাবল দুটি বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু এ দেশের মানুষের যেমন স্বভাব। বিপজ্জনক হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় শিশু-কিশোর এমনকি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষও এ ক্যাবল দুটির ওপর উঠে ছবি তোলাসহ আশপাশে ভিড় করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। তাই আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ ও সুরক্ষাব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছি। তবে সমুদ্র চ্যানেলের খাড়া অংশে বাঁধ দিয়ে ক্যাবলগুলো সুরক্ষার সুযোগ না থাকায় আপাতত ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ লেখা সাইনবোর্ড দিয়ে ওই এলাকায় মানুষের যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়েছে। জোয়ারের সময় কোনো কাজ করা যাচ্ছে না সেখানে। ভাটার অপেক্ষা করতে হয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা জটিল আসলেই।’

রূপালী বাংলাদেশ

Link copied!