সিলেটের ওসমানীনগরের বনফুল অ্যান্ড কোম্পানি তাজপুর শাখাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ‘আপা’ ডাকার পর ৫০ হাজার টাকা জরিমানা শিরোনামে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি এমন নয় দাবি করে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন ইউএনও মুনমুন নাহার আশা। তিনি জানান, আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি থাকায় বনফুলকে জরিমানা করা হয়।
মুনমুন নাহার বলেন, “বেশ কয়েকটি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমি আগেও বনফুলকে সতর্ক করেছি। কিছুদিন আগে আমি ক্রেতা সেজে বনফুলে মিষ্টি কিনতে গেলে দেখা যায় অনেক আগের বাসি মিষ্টি। কত দিন আগের মিষ্টি জানতে চাইলে উপস্থিত কর্মচারী একেকজন একেক ধরনের তথ্য দেন। আমি মিষ্টির চালান দেখতে চাইলে প্রথমে চালান দেখাতে না চাইলেও পরে আমার পুরো টিম আসার পর চালান দেখান। পরে এক কর্মচারী স্বীকার করেন, নতুন মিষ্টির সঙ্গে পুরোনো মিষ্টি মিলিয়ে বিক্রি করছেন তারা। ম্যানেজারকে নিয়ে আসতে বললে কর্মচারী মন্নান পালিয়ে যান। যেহেতু আমরা প্রথমে পালিয়ে যাওয়া কর্মচারীর কাছ থেকে স্বীকারোক্তি পেয়েছি, সে জন্য পরে ম্যানেজার এলে আমি পালিয়ে যাওয়া কর্মচারীকে নিয়ে আসতে বলি। সে সময় তিনি লোক মারফত তাকে খুঁজে নিয়ে আসেন। পরে কোম্পানির পক্ষে ম্যানেজার আদালতের ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং আমরা সেটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করি। কিন্তু এই বিষয়টাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে গণমাধ্যমে ‘আপা’ শব্দটাকে হাইলাইট করে সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। হয়তো সেটা ভাইরাল করার জন্যই করা হয়েছিল। কিন্তু আমাকে যে কেউ আপা ডাকতেই পারে, অনেকেই আপা, খালা ডাকে। আমি রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত কর্মচারী, আপা ডাক নিয়ে জরিমানা করার কোনো সুযোগ নেই, আপা ডাক কোনো দ-নীয় অপরাধ নয়, এটা আইনেও নেই।”
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে ইউএনও বলেন, ‘সংবাদে বলা হয়েছে, আমি জরিমানা করেছি কর্মচারীকে; কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। আমি জরিমানা কোম্পানিকে করেছি, কোম্পানির পক্ষে স্বাক্ষর দিয়েছেন তারা এবং ম্যানেজার কোম্পানির পক্ষে সেই টাকা পরিশোধ করেছেন। যেহেতু এটি একটি কোম্পানি, স্বাক্ষর তো কোম্পানির কাউকে না কাউকে করতে হবে। এখন কোম্পানি সেই কর্মচারীকে কী করবে, সেটা আমাদের বিষয় নয়।’
বনফুল তাজপুর শাখার ম্যানেজার সুহেল বড়–য়া বলেন, ‘আপা ডাকায় নয়, আমাদের শাখায় বাসি মিষ্টি থাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন, এটা নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই।’

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন