রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, বর্তমান বিশে^ নিরাপত্তার ধারণা দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। নিরাপত্তা একটি বহুমাত্রিক বিষয়। প্রচলিত নিরাপত্তার ঝুঁকির পাশাপাশি সাইবার হামলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথা আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং বিভিন্ন ধরনের হাইপ্রিট নিরাপত্তা হুমকি নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, কার্যকর কৌশল সার্বক্ষণিক প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। আমি আশা করি প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট আগামী দিনে আরও আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক প্রশিক্ষণ পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতা আরও বাড়াবে। গতকাল রোববার প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে যথাযথ উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপিত হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সকাল ৯টায় পিজিআর সদর দপ্তরে গেলে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, পিজিআর কমান্ডার এবং মাস্টার ওয়ারেন্ট অফিসার রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান। অনুষ্ঠানস্থলে রাষ্ট্রপতিকে পিজিআরের একদল চৌকস গার্ড রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করেন। পরে রাষ্ট্রপতি সব অফিসার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার এবং অন্যান্য পদবির গার্ডস সদস্যের উদ্দেশ্যে দরবারে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি পিজিআরের ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি সশ্রদ্ধচিত্তে মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগকারী বীর শহিদদের পাশাপাশি ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বরণকালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের ৫ জন শহিদসহ বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে প্রয়াত সব সৈনিককে স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আনন্দঘন মুহূর্তে পিজিআর সদস্যরা নিজেদের আরও দক্ষ ও পেশাগতভাবে আধুনিক মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানে আত্মনিয়োগ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে দুপুর ১২টায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিজিআর সদর দপ্তরে এলে সেনাবাহিনী প্রধান এবং পিজিআর কমান্ডার তাকে অভ্যর্থনা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে পিজিআরের একদল চৌকস গার্ড রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করেন। পরে শহিদ ক্যাপ্টেন হাফিজ হলে তিনি উপস্থিত অতিথিবৃন্দের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন এবং উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে তিনি পিজিআর সদস্যগণ কর্তৃক পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে পরিশ্রম, দক্ষতা, কর্তব্যপরায়ণতা ও ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (অপারেশন্স) রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা, সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ খবর পেতে রুপালী বাংলাদেশের গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন