ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই, ২০২৬

বিদ্যুৎমন্ত্রী বললেন

বিগত আওয়ামী সরকার প্রতিটি প্রজেক্ট করেছে অলিগার্কদের স্বার্থে, জনস্বার্থে নয়

রূপালী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৬:২৭ এএম

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গৃহীত অধিকাংশ প্রকল্পে জনকল্যাণের চেয়ে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থই প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতি গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সেই সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায় এখন বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের ওপর বর্তেছে।

গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) বিষয়ক নাগরিক সংলাপ অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় মন্ত্রী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। পাশাপাশি, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আরও দক্ষ, টেকসই ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের নানাবিধ উদ্যোগের কথা জানান। এ সময় ক্যাব ১৮ দফা সুপারিশ তুলে ধরে।

এ সময় ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরকার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সৃষ্ট আর্থিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের দায়দেনা কাটিয়ে উঠতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। তবে এ লক্ষ্যে কোনোভাবেই উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় বা উৎপাদন করে তার অতিরিক্ত ব্যয় সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না। মন্ত্রী রুফটপ সোলার প্রাইভেট সেক্টরে দেওয়ার পক্ষে মত দেন। কৃষিজমি নষ্ট করে কোনো প্রকল্প করা হবে না, পতিত জমি ব্যবহার করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে উৎপাদিত হচ্ছে, তা-ও উচ্চমূল্যে। তিনি জানান, আর্থিক অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি করে গেছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার; এ জন্য বর্তমান সরকারকে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। পূর্ববর্তী সময়ে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তির কারণে সরকারকে তুলনামূলক বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। বিগত সরকার ৫৬০০০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে গেছে; সেই বকেয়ার পাশাপাশি একই সঙ্গে নতুন দায় পরিশোধ করতে হচ্ছে সরকারকে; এ জন্য প্রতি মাসে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের বকেয়া বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সরকার বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি হলে জ্বালানি আমদানি খরচ কমবে।

জ্বালানি নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার তিন মাসের জ্বালানি মজুত সংরক্ষণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ জন্য সম্ভাব্য সব অপশন নিয়ে কাজ করছে। মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের শক্তি জনগণ; জনগণকে সঙ্গে নিয়েই বিশাল ঋণের বোঝা থেকে উত্তোলনের চেষ্টা করে যাচ্ছে সরকার; নাগরিক সন্তুষ্টির দিকেও সরকারকে লক্ষ্য রাখতে হয়। কঠিন দায়িত্ব পালনে মন্ত্রী সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, বিশাল দায়-দেনা নিয়ে জটিল পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি, এখান থেকে বের হওয়ার পথ হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি। বিগত সরকার অনেক দায়-দেনায় ফেলে রেখে গেছে। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে কোনো প্রকল্প নেওযা হয়নি, নেওয়া হয়েছে ব্যবসাকে লক্ষ্য করে। ঢাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড ক্যাবল প্রকল্প, পল্লী বিদ্যুতের স্মার্ট মিটার প্রকল্পÑ আরও অনেক উদাহরণ দিতে পারি। আড়াই লাখ মিটার কেনা হয়েছে আর স্থাপন করা হয়েছে মাত্র ৬৭টি। এর থেকে উত্তরণে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর জন্য আমরা ট্যাক্স ফ্যাসিলিটি দিয়েছি। আশা করছি, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হব। এটি করতে পারলে জ্বালানি আমদানি করতে হবে না, যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। যেভাবে বিনিয়োগকারী আসছে, আমার বিশ্বাস, আমরা করতে পারব।

ক্যাব উত্থাপিত ১৮ দফা সুপারিশ বিবেচনায় করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমরা জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তাদের মতামত প্রচ্ছন্নভাবে জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্রে থাকবে। আলোচনাসভায় ‘জাতীয় জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পেশ করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম।